ঢাকা, রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
তালিবানি আফগানিস্তানে জোট বাঁধছে আল কায়দা, লাদেনের উত্তরসূরিদের নিয়ে চিন্তায় নয়াদিল্লিও
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

তালিবানি আফগানিস্তানে জোট বাঁধছে আল কায়দা, লাদেনের উত্তরসূরিদের নিয়ে চিন্তায় নয়াদিল্লিও

আফগানিস্তানের মাটিতে তালিবানি সাম্রাজ্য বিস্তারের পরে ফের জোট পাকাচ্ছে আল কায়দা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এমনই খবর মিলেছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) জানিয়েছে, তালিবানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বড় জোট তৈরির লক্ষ্যে এগোচ্ছে লাদেনের উত্তরসূরিরা। তালিবান-আল কায়দা মিলে গেলে তা বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠবে। আমেরিকায় ফের একবার হামলার চেষ্টা হতে পারে, নাশকতা বাড়তে পারে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরেও।

সিআইএ-র ডেপুটি ডিরেক্টর ডেভিড কোহেন বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় মনে করা হয়েছিল আল কায়দা আর ঘাঁটি গেড়ে নেই। কিন্তু পরে জানা যায়, তালিবানি অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে আল কায়দা ও আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী। আফগানিস্তারে মাটিকে ব্যবহার করেই সন্ত্রাসমূলক কাজ চালানোর পরিকল্পনা করছে আল কায়দার জঙ্গিরা।

আফগানিস্তানে তালিবানি আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলে কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে এই আশঙ্কা শুরু থেকেই করে আসছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তালিবানের মুখপাত্ররা যতই কাশ্মীর নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার আশ্বাস দিন, দিল্লি তাতে বিশেষ আস্থা রাখতে পারছে না। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিরও ব্যাখ্যা, ওসামা বিন লাদেনের জঙ্গি সংগঠন কাশ্মীরকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস কয়েকগুণ বাড়বে উপত্যকায়।

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা চলে যাওয়াকে তালিবানের ‘জয়’বলে অভিহিত করেছিল আল কায়দা। অনেকেই মনে করছেন, তালিবানকে জেহাদি কার্যকলাপে উৎসাহ দেওয়াই এখন লক্ষ্য আল কায়দার। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তালিবানের প্রশ্রয়ে ও প্রশিক্ষণে গড়ে উঠেছে পাকিস্তানের মদতে পুষ্ট প্রধান দু’টি কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে গিয়ে তালিবানের সঙ্গে বৈঠক সেরে এসেছে জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার।

গত দেড়-দু্’বছরে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। অনুপ্রবেশও কমেছে। উপত্যকায় একের পর এক সেনা অভিযানে খতম হয়েছে জইশ, লস্করে সক্রিয় কম্যান্ডাররা। কিন্তু তালিবানের ক্ষমতা দখলে উপত্যকার পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রিপোর্ট দিয়েছে, তালিবানের বেশ কিছু ভাড়াটে জঙ্গিকে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপে গতি আনতে পাঠানোর পরিকল্পনা নিতে পারে তারা। কুড়ি বছর আগে ওই প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখন আল কায়দা তালিবানের সঙ্গে জোট বাঁধলে উপত্যকায় জঙ্গি নাশকতা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *