ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
দু-একজন নয়, ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েক ডজনের করোনা, স্বেচ্ছা নিভৃতাবাসে পুতিন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

দু-একজন নয়, ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েক ডজনের করোনা, স্বেচ্ছা নিভৃতাবাসে পুতিন

নিজের একেবারে ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বেশ কয়েক ডজন লোকের করোনা হয়েছে বলে জানালেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনে নিজের একেবারে কাছের লোকজন কোভিড ১৯ পজিটিভ হওয়ায় স্বেচ্ছা নিভৃতাবাসে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ৬৮ বছরের রুশ প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ায় ৭০ লাখের বেশি লোক করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন।

ঠিক ছিল, পুতিন তাজিকিস্তানের রাজধানী ডুশানবেতে কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিয়েটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও) এর বৈঠকে যোগ দেবেন। কিন্তু তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়ালি সেই বৈঠকে থাকবেন তিনি। ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ভাষণে পুতিন বলেন, আমার নিজের পরিচিত জনেদের মধ্যে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এক-দুজন নয়, বেশ কয়েক ডজন লোকের হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের রাশ টেনে ধরতে রাশিয়ার তিনদিনের সংসদীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার আগের দিনই ক্রেমলিনে মারণ ভাইরাস ছড়ানোর খবর বেরল। পুতিনকে সুরক্ষিত রাখতে মহামারীর শুরু থেকে তত্পর রুশ কর্তৃপক্ষ। তিনি রাশিয়ার ঘরের তৈরি স্পুতনিক ৫ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। বিদেশি নেতা, সাংবাদিক, সরকারি কর্তাদের সবাইকেই পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে স্বেচছা নিভৃতাবাসে থাকতে হয়েছে। তিনি যে সেলফ আইসোলেশনে যাচ্ছেন, ক্রেমলিনের এহেন ঘোষণার আগে চলতি সপ্তাহেই পুতিন বৈঠক করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ ও টোকিও প্যারালিম্পিক গেমস থেকে ফেরা অ্যাথলেটদের সঙ্গে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নথিভুক্ত কোভিড সংক্রমণের কেসে রাশিয়া গোটা দুনিয়ায় পাঁচ নম্বরে আছে। ভ্যাকসিন সহজলভ্য, তবুও কোভিড ১৯ বাগে আনতে পারছে না রাশিয়া। সর্বশেষ পরিসংখ্যান হল, রাশিয়ায় কোভিড সংক্রমণ কেস নথিভুক্ত হয়েছে ৭০ লাখের বেশি, মারা গিয়েছেন ১ লাখ ৯৫হাজার ৪১ জন।, ইউরোপে যা সর্বোচ্চ।
গত গ্রীষ্মে বেড়েছিল, তবে সাম্প্রতিক কালে সংক্রমণ কিছুটা কমেছে বটে, যদিও কর্তৃপক্ষ নতুন করে ১৮,৮৪১টি সংক্রমণ, ৭৯২টি নতুন মৃত্যুর খবর দিয়েছে মঙ্গলবার। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভ্যাকসিন নিতে আমজনতা ইচ্ছুক নয়।

নিরপেক্ষ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশবাসীর অধিকাংশই ভ্যাকসিন নিতে চাইছে না। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪৬ মিলিয়ন নাগরিকের মধ্যে ৪০.২ মিলিয়ন পুরোপুরি ভ্যাকসিন নিয়েছে। মস্কো ও আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। পুতিনও দেশবাসীকে বারবার ভ্যাকসিন নিতে বলছেন। কিন্তু তাতে সাড়া মিলছে না। ক্রেমলিন ঠিক করেছিল, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৬০ শতাংশ দেশবাসীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, কিন্তু পরে সেই টার্গেট তুলে নেওয়া হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মহামারীর প্রভাবকে খাটো করে দেখিয়েছে, ২০২০তে প্রথম কঠোর লকডাউন চালু হলেও পরে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেনি তারা।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *