ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
সমাজে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ডিজিট্যাল শিক্ষার প্রসারে মার্লিন গ্রুপ ও কলকাতা পুলিশের নতুন উদ্যোগ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

সমাজে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ডিজিট্যাল শিক্ষার প্রসারে মার্লিন গ্রুপ ও কলকাতা পুলিশের নতুন উদ্যোগ

দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা শিশুদের শিক্ষার অগ্রগতিতে এবার এগিয়ে এল মার্লিন গ্রুপ। কলকাতা পুলিশের সহায়তায় সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার প্রসারে মার্লিন গ্রুপ তাদের বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চলেছে ডিজিট্যাল শিক্ষার উপকরণ। এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে ‘পড়াশোনা দাঁড়াবে না’। পিছিয়ে পড়া শিশুদের ই-লার্নিং-এর এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে ‘ক্রাই’ এবং ‘এয়ারটেল’ও।আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন আই অ্যাম কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্লিন গ্রুপের এমডি সকেত মোহতা ৫০ টি স্মার্ট ফোন উপহার দিলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বিশেষ টাস্কফোর্স আইপিএস শ্রীমতি অপরাজিতা রাই এর উপস্থিতিতে। 

এই স্মার্টফোনগুলি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনলাইন ক্লাসের জন্য দান করা হল। অনুষ্ঠানে এই নবতম উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে আই অ্যাম কলকাতার এমডি মার্লিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সকেত মহতা জানান, “কলকাতা পুলিশের ডিজিট্যাল শিক্ষার উদ্যোগ শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। আমরা আশা করি আমাদের অবদান কম সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করবে। এর ফলে শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ের ড্রপ আউটের সংখ্যা হ্রাস পাবে। কোভিড অতিমারির এই সময় শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিট্যাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। আমি কলকাতায় বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ উপায়ে আমাদের সমাজে কিছু অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের প্রতিচি (ইন্ডিয়া) ট্রাস্ট কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রযুক্তিগত অক্ষমতার কারণে প্রায় ৪০% প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। এই গবেষণাটি রাজ্য সরকার দ্বারা পরিচালিত কলকাতার ২১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এই ধরনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কারোও ৪০% ডিজিট্যাল ডিভাইস নেই। আবার কোনও ক্ষেত্রে ভালো উন্নত মানের ইন্টারনেটের সংযোগ নেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে দুটোরই সমস্যা রয়েছে। তবে উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞতা যে ভিন্ন হবে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।

 যাঁদের ডিজিট্যাল ডিভাইস কেনার সামর্থ্য নেই তাদের ক্ষেত্রে নিজের বাড়ি থেকে স্কুলের ক্লাস করার ঝুঁকি বাড়ছে। কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তাদের অনুমেয় যে অনেক শিক্ষার্থী বিশেষ করে কিশোর কিশোরীরা যারা ডিজিট্যাল ডিভাইসের অভাবে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না তাদের মধ্যে ক্রমশ নৈরাশ্য গ্রাস করে। ফলে তাদের মধ্যে অপরাধমূলক কাজ করার প্রবণতা প্রায়ই দেখা যায়। সেই কথাকে মাথায় রেখে সম্প্রতি সহযোগিতামূলক একটি সামাজিক উদ্যোগ শুরু হল। যার লক্ষ্য হল শিশুদের শিক্ষার প্রসার এবং অন্যান্য সহযোগী পাঠক্রমিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা তাদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।” ই-লার্নিং-এর একটি বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগামী দিনে সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা রাখছেন উদ্যোগীরা। খবর দ্য ওয়ালের/২০২১/এনবিএস/একে 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *