ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
যেভাবে Apple এবং Google টেক বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পার্টনারশিপটি বিল্ড করেছে | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভাল আছেন। আপনারা জানেন আমি প্রায়ই বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ে বিশ্লেষণ মূলক টিউন করে থাকি। টিউন গুলোতে কোম্পানির বিভিন্ন ভাল দিক খারাপ দিক, তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সুযোগ প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি উঠে আসে। তো আজকেও এমন একটি টিউন নিয়ে হাজির হলাম।

আমরা সবাই হয়তো গুগল এবং অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাই জানি। নিজেরাও কখনো কখনো বিচার করি, iPhone নাকি Android, Apple Maps নাকি Google Maps, Safari ভাল নাকি Chrome। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন, বিহাইন্ড দ্যা সিনে উভয় কোম্পানির নির্বাহীরা মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে এবং নিজেদের কোম্পানিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

Google এবং Apple এর ব্যবসায়িক সম্পর্ক

গুগল প্রতিবছর অ্যাপলকে ৮ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার প্রদান করে যা Alphabet এর বার্ষিক আয়ের প্রায় একতৃতীয়াংশ। আর এই বিশাল অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্য হচ্ছে অ্যাপল যেন তার কয়েক বিলিয়ন ডিভাইসে গুগলকে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে রাখে। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটে ডমিন্যান্ট করতে এই চুক্তি গুগলকে দারুণ ভাবে সাহায্য করে। যাতে করে আমেরিকা জুড়ে সার্চ ইঞ্জিনের ৯০ থেকে ৯৫ কুয়েরি আসে গুগল থেকে। গুগল এবং অ্যাপলের পার্টনারশিপ এতটাই শক্তিশালী যে প্রায়ই বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয় এই কোম্পানি গুলো। যাই হোক, আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, সিলিকন ভ্যালির এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি কিভাবে নিজেদের মধ্যে এই ধরনের চুক্তি করতে পারে? এটা জানতে আমাদের কয়েক দশক পেছনে ফিরে যেতে হবে।

Google এবং Apple এর অতীত

একটা সময় গুগল এবং অ্যাপলের মধ্যে ছিল দারুণ সম্পর্ক। অ্যাপল ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্য ছিল গুগলের CEO। ২০০৫ সালে এই দুই কোম্পানির মধ্যে বৃহৎ একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়৷ ম্যাক কম্পিউটারের ব্রাউজার Safari এর জন্য ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন করা হয় Google কে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে যখন আইফোন বাজারে আসে তখনো আইফোনের ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন ছিল Google। এর পর থেকে গুগল এবং অ্যাপলের সম্পর্ক ভাল থেকে ভাল হতে থাকে। তবে তাদের এই সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী থাকে নি। অ্যাপল তখনো জানতো না গুগল নিজেদের শুধু মাত্র সার্চ ইঞ্জিনে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বেশি কিছু ভাবছে।

Google vs Apple

দীর্ঘ দিন বন্ধু-ভাবাপন্ন সম্পর্কের পর ২০০৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম উদ্ভাবনের মাধ্যমে গুগল  সরাসরি অ্যাপল বিজনেসের উপর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। পরের বছরই অ্যাপলের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করে গুগলের তৎকালীন CEO। দুটি কোম্পানি ফাইনালি আলাদা হয়ে যায়, একদিন গুগল অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনা শুরু করে এবং অ্যাপল, App Store এবং Siri এর মত সার্ভিস গুলো ইউজারদের জন্য উন্মুক্ত করে যা মাইক্রোসফটের Bing দিয়ে পরিচালিত হত, Google দিয়ে নয়। ২০১৭ এর আগ পর্যন্ত Bing ছিল অ্যাপলের সার্চ ইঞ্জিন।

Google এবং Apple এর নতুন চুক্তি

২০১৭ সালে পুনরায় অ্যাপল এবং গুগলের চুক্তি বাস্তবায়িত হয়। ফলে উভয় কোম্পানি দারুণ ভাবে উপকৃত হয়। যেখানে ফেসবুকের আয়ের সাথে গুগল পেরে উঠছিল না সেখানে এই চুক্তিটি গুগলকে পুনরায় তার জায়গায় নিয়ে যায়। কয়েক বিলিয়ন অ্যাপল ডিভাইসে আবার গুগলের সার্চ এবং বিজ্ঞাপণ আয় আবার কোম্পানিটিকে সবার থেকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একই ভাবে উপকৃত হয় অ্যাপলও। Safari, Siri এবং Spotlight এ গুগল চলে আসায় এই সমস্ত সার্ভিস গুলোর সার্চ রেজাল্ট আরও দারুণ হয়ে উঠে ইউজাররা এই সার্ভিস গুলো ব্যবহার করে। একই সাথে অ্যাপল তাদের বার্ষিক আয়ের ১৫% থেকে ২০% অর্জন করে গুগল এড থেকে। তাছাড়া গুগল থাকায় সার্ভিস গুলো থেকে আয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

Google এবং Apple এর চুক্তির ঝুঁকি

সম্প্রতি করা বিভিন্ন মামলার কারণে গুগলের এই সমস্ত অর্থ এবং সার্চ ট্র্যাফিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। অক্টোবরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগ অ্যান্টিট্রাস্ট নিয়ে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সরকার অভিযোগ করছে যে গুগল ইন্টারনেটের একচেটিয়া গেট-কিপার হিসেবে কাজ করছে এবং এটি একক ভাবে গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতাদের এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ক্ষতি করছে। মামলা অনুসারে, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুগল অ্যাপলের সাথে অংশীদারিত্বের মতো একচেটিয়া ব্যবসার মাধ্যমে তার আধিপত্য বজায় রেখেছে। একই সাথে বিচার বিভাগ জানায় গুগল এবং অ্যাপলের চুক্তিটির মূল্য ছিল আট থেকে ১২ বিলিয়ন। যদিও গুগলের মুখপাত্র তাদের চুক্তিটি প্রকাশ করে নি এবং এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চায় নি। গুগল বিচারবিভাগের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

তো গুগল যে পদক্ষেপই গুগল নিক, যদি বিচার বিভাগ মামলায় জিতে যায় তবে কি হবে? Wall Street Journal এর টেক রিপোর্টার জানিয়েছেন, ” যদি বিচার বিভাগ জিতে যায় তাহলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অ্যাপল৷ অ্যাপলের বার্ষিক আয়ের ১৫% থেকে ২০% আসে এই পার্টনারশিপ থেকে। “

শেষ কথাঃ

বাজারে অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন থাকলেও সেগুলো কখনো গুগলের মত হতে পারবে না তাই এই পার্টনারশিপে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অ্যাপল। যদিও শুনা যাচ্ছে অ্যাপল নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছে।

তবে ধারণা করাই যায় যে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা গুলোর মাধ্যমে অ্যাপল আর গুগলের এই চুক্তিটি বাতিল করার পরিকল্পনা হচ্ছে।

কেমন লাগল আজকেই এই টিউনটি তা অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী টিউন পর্যন্ত ভাল থাকুন, আল্লাহ হা-ফেজ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *