ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইসিস জঙ্গিরা নয়, মারা যান ১০ সাধারণ নাগরিক! ট্র্যাজিক ভুল, স্বীকার আমেরিকার
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইসিস জঙ্গিরা নয়, মারা যান ১০ সাধারণ নাগরিক! ট্র্যাজিক ভুল, স্বীকার আমেরিকার

গত মাসের শেষদিকে চরম নৈরাজ্যের মধ্যে যখন আফগানিস্তান (afghanistan) থেকে সেনাবাহিনী (us army) প্রত্যাহার পর্ব প্রায় সমাপ্তির মুখে, তখন কাবুলে সন্দেহভাজন আইসিস সন্ত্রাসবাদীদের (isis terrorists) বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা (drone attack) চালিয়েছিল আমেরিকা (usa)। বেশ কিছুদিন পর মার্কিন সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ জেনারেলের স্বীকারোক্তি, ভুল হয়েছিল। ট্র্যাজিক ভুল (trajic mistake)। জঙ্গিরা নয়, ড্রোনের আঘাতে মারা যায় ৭ টি বাচ্চা সহ ১০ সাধারণ নাগরিক,যাদের একসঙ্গেও আইসিস যোগ মেলেনি!


মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডের কম্যান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পাকা খবর ছিল, কাবুল বিমানবন্দর নিশানা করে সন্দেহভাজন আইএস সন্ত্রাসবাদীরা হামলা করবে। তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন।  কিন্তু ভয়ঙ্কর ড্রোন হামলায় ঘটে গিয়েছে মারাত্মক ভুল, বলেছেন ম্যাকেঞ্জি। নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব লয়েড অস্টিন। বলেছেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের গভীরতম সমবেদনা, শোক জানাচ্ছি। ক্ষমা চাইছি। এই ভয়াবহ ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। নিহতদের পরিবারগুলিকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সরকার সেটা খতিয়ে দেখছে বলে জানান ম্যাকেঞ্জি।

তিনি জানান, ২৯ আগস্ট মার্কিন বাহিনী কাবুলের একটি জায়গায় একটি সাদা টয়োটা নজরে আসার পর ৮ ঘন্টা ধরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চালায়। গোয়েন্দারা একটি লোকেশন চিহ্নিত করেন যেখান থেকে আইসিস সন্ত্রাসবাদীরা কাবুল বিমানবন্দরে হামলা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যে ভরসা করেই মার্কিন বাহিনী সাদা টয়োটার দিকে নজর রাখছিল, যেটি সন্ত্রাসবাদী  গোষ্ঠীটি ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ। আমাদের স্বার্থের সঙ্গে  জড়িত একটি টার্গেটের  দিকে  গাড়িটি এগোচ্ছে দেখে আমরা সেটিকে চিহ্নিত করি। স্পষ্ট বুঝতে পারছি, গোয়েন্দা সূত্রের খবর ভুল ছিল।


যদিও আত্মরক্ষার্থে সেই মার্কিন অভিযান সমর্থন  করেছেন ম্যাকেঞ্জি।

গত ২৬ আগস্ট আইসিস-খোরাসান গোষ্ঠীর এক মানববোমা বিমানবন্দরে নাশকতা ঘটালে ১৩ মার্কিন জওয়ান সহ বহু লোক মারা যায়। প্রচুর লোক আফগানিস্তান ছেড়ে বিদেশে পালানোর শেষ বিমানগুলির একটিতে ওঠার চেষ্টায় জোর করে বিমানবন্দরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। মার্কিন কর্তাদের ধারণা ছিল, টয়োটার ভিতরে বিস্ফোরকভর্তি ছিল। যদিও দি নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, বিস্ফোরক নয়,গাড়িতে ছিল জলের ক্যানিস্টার। যে সময় হামলা করার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়, তখন এলাকায়  কোনও সাধারণ নাগরিককে দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন ম্যাকেঞ্জি।

নিহতদের একজন একটি মার্কিন ত্রাণ বাহিনীর হয়ে কাজ করা আফগান। নাম এজমারাই আহমদি। অস্টিন বলেছেন, এখন আমরা  জানতে পারছি, তাঁর সঙ্গে আইসিস-খোরাসান গোষ্ঠীর কোনও যোগই ছিল না।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *