ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
বাল্য বিবাহ নথিভুক্ত করতে হবে, বিল পাশ রাজস্থান বিধানসভায়, কালো দিন বলে ওয়াকআউট বিরোধীদের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


বাল্য বিবাহ নথিভুক্ত করতে হবে, বিল পাশ রাজস্থান বিধানসভায়, কালো দিন বলে ওয়াকআউট বিরোধীদের

বাল্য বিবাহকে (Child Marriage) কি তবে আইনি মান্যতা দিল রাজস্থান সরকার?


শনিবার বিধানসভায় পাশ হল বাল্য বিবাহ নথিভুক্তকরণ (সংশোধনী) বিল। তাতে সব বিয়েরই নথিভুক্তকরণকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম কোনও নাবালিকার বিয়ে হলে তার ৩০ দিনের মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অভিভাবককে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কাছে জমা করতে হবে। বিলের প্রতিবাদে বিধানসভা ওয়াকআউট করেছে বিজেপি। রাজস্থান সরকারের আইনি সংশোধনীকে কালা দিন বলেও উল্লেখ করেছে বিরোধীরা।

রাজস্থান বিধানসভায় আইনি সংশোধনে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় পাত্রীর বয়স যদি ১৮ বছরের নীচে হয় এবং পাত্রের বয়স ২১ বছরের নীচে হয়. তাহলে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে বাবা-মা বা অভিভাবককে রেজিস্ট্রেশন অফিসে জানাতে হবে। ২০০৯ সালের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইনের ৮ নম্বর ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নাবালিকা বিয়ের যাবতীয় তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে ওই সংশোধনীতে। তাছাড়া ব্লক ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও জেলা ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন অফিসার নিয়োগ করার কথাও বলা হয়েছে। সব বিয়েরই বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্তকরণ করাতে হবে। এদিন ধ্বনি ভোটে পাশ হয়েছে এই বিল।


রাজস্থানে আগে থেকেই নাবালিকা বিয়ের চল রয়েছে। বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাবালিকা মেয়েদের অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এর মধ্যেই এই সংশোধনী বিল পাশ করার ফলে বাল্য বিবাহ একপ্রকার বৈধতা পাবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন আর নাবালিকা বিয়ে আইনের চোখে অপরাধ থাকবে না। তাই এই বিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি।

রাজস্থানের বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহোটি বলেছেন, “রাজস্থান বিধানসভায় আজ এক কালো দিন ছিল। বাল্যবিবাহ নথিভুক্তকরণ বিল পাশ করিয়ে অশোক গেহলট সরকার কি নাবালিকা বিয়েকে স্বীকৃতি দিতে চাইছে?  বিধানসভার ইতিহাসে এই বিল এক কালো অধ্যায় হয়ে থেকে যাবে।“

রাজস্থান সরকার অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজস্থানের পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল বলেছেন, বাল্য বিবাহকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এই বিল নয়। বিয়ের শংসাপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। বিয়ের আইনি নথিভুক্তকরণ না হলে, স্বামীর মৃত্যু পরে বিধবা স্ত্রী সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন ​। খবর দা ওয়ালের/২০২১/এনবিএস/এক

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *