ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
চান্নি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সীমান্তে নিরাপত্তার কথা তুললেন অমরিন্দর সিং
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

চান্নি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সীমান্তে নিরাপত্তার কথা তুললেন অমরিন্দর সিং

শনিবার সন্ধ্যায় ইস্তফা দেওয়ার পরে ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh) প্রথমে বলেছিলেন, হাইকম্যান্ড যাকেই মুখ্যমন্ত্রী করুক, তাঁর আপত্তি নেই। পরে অবশ্য সুর বদলে তিনি বলেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধুকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে মেনে নেবেন না। রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হল চরণজিৎ সিং চান্নির নাম। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করলেন অমরিন্দর।


ক্যাপটেনের হয়ে টুইট করেছেন তাঁর মিডিয়া উপদেষ্টা রবীন থুকরাল। টুইটে লেখা হয়েছে, ‘মাই বেস্ট উইশেস টু চরণজিৎ সিং চান্নি।’ এর পরেই সীমান্তে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন সেনা অফিসার অমরিন্দর। তিনি লিখেছেন, আমি আশা করি চান্নি এই সীমান্তবর্তী রাজ্যের মানুষকে নিরাপদে রাখতে পারবেন। সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

এর আগে ক্যাপটেন বলেছিলেন, সিধু মুখ্যমন্ত্রী হলে আমি দেশের স্বার্থেই আপত্তি করব। কারণ এর সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে। সিধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বন্ধু। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাওয়েজার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক রয়েছে।


গত অগাস্টে সিধুর অনুগামী এক কংগ্রেস নেতা মন্তব্য করেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই বেআইনিভাবে কাশ্মীরকে দখল করে রয়েছে। ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন অমরিন্দর।

সম্প্রতি পাঞ্জাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন। শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে প্রতিটি অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।

চিঠির শুরুতে ক্যাপটেন লিখেছেন, গত পাঁচ মাস ধরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৮৯.২ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলিও পূরণ করার জন্য কাজ চলছে।

২০১৫ সালে পাঞ্জাবে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করা হয়। তার বিরুদ্ধে জনতা বিক্ষোভ দেখালে ফরিদকোটে পুলিশ গুলি চালায়। গত এপ্রিলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ওই মামলায় তদন্তের ফলাফল নাকচ করে দিয়েছে। এরপরই সিধু বলেন, অমরিন্দর সিং ওই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করাননি।

ওই অভিযোগের জবাবে অমরিন্দর লিখেছেন, পূর্বতন অকালি-বিজেপি সরকারের আমলে ধর্মাবমাননা মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। তারা তদন্তের দায়িত্ব ফের রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়নি। এর পরেও তাঁর আমলে ২৪ জনকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১৫ জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন।

একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, তাঁর আমলে বিদ্যুৎ পরিবহণের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। বিদ্যুতের সাধারণ উপভোক্তা ও কৃষকদের সুবিধার জন্য প্রতি বছর খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। অমরিন্দর দাবি করেছেন, কৃষকদের ঋণ মকুব এবং মাদক চোরাচালান বন্ধের জন্য তাঁর আমলে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শেষে অমরিন্দর সিং লিখেছেন, “আশা করি আমার পদত্যাগের ফলে পাঞ্জাবে অতি কষ্টে অর্জিত শান্তি বিঘ্নিত হবে না। যে কাজগুলিকে আমি গুরুত্ব দিয়েছিলাম, তা আগের মতোই চলবে। রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাবেন।খবর দ্য ওয়ালের  /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *