ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
মাত্র ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারে, মনিটর সহ ও মনিটর ছাড়া গেমিং পিসি বানানোর আলটিমেট গাইড | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভাল আছেন। বরাবরের মতই আজকে হাজির হলাম নতুন কিছু নিয়ে। আজকে আলোচনা করব গেমিং পিসি নিয়ে।

শুরুর কথা

দিন যত যাচ্ছে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি আরও বড় হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে নতুন নতুন কোম্পানি, বিদ্যমান কোম্পানি গুলো নিয়ে আসছে নতুন নতুন সব গেম। কোন কোন গেম প্রফেশনাল গেমাররা খেলছে দীর্ঘ দিন ধরে আবার কোন কোন গেম রাতারাতি জনপ্রিয় হলে সকল ইউজারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। পুরোনা গেম গুলোর জনপ্রিয়তা বা নতুন গেম গুলোর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টির পাশাপাশি আরেকটা বিষয় খুব বেশি পরিচিত আর সেটা হচ্ছে গেম গুলো গ্রাফিক্স ইম্প্রুভমেন্ট।

যুগের সাথে তাল মিলাতে যেখানে ৯০ দশকের গেম গুলোতেই যুক্ত করা হচ্ছে নতুন গ্রাফিক্স, সেখানে নতুন গেম গুলোর গ্রাফিক্সের বিষয় তো নতুন করে বলার অপেক্ষাই রাখে না। গেম গুলোর এই গ্রাফিক্স গত পরিবর্তন গুলো কিন্তু বেশ প্রভাব ফেলছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার গুলোতে। সেরা গেমিং অভিজ্ঞতা পেতে প্রতিনিয়ত কম্পিউটার হার্ডওয়্যার গুলোতে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং দক্ষতা। কিন্তু এতে করে দাম কি আপনার হাতের নাগালে থাকছে? একদমই না! গেম গুলো এবং হার্ডওয়্যার গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ইউজারদের বাজেটও বাড়াতে হচ্ছে।

কিন্তু সব ইউজারদের পক্ষে আবার আকাশছোঁয়া মূল্য দিয়ে পিসি তৈরি করাও সম্ভব হয়, তাই বলে কি তারা গেমিং থেকে বঞ্চিত হবে? কখনোই না। আজকে আমাদের এই টিউনের মূল বিষয় মাত্র ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার দিয়ে কি কোন গেমিং পিসি বানানো সম্ভব? আর যদি সেটা হয় তাহলে কিভাবে?

বর্তমানে যেখানে একটি ভাল গ্রাফিক্স কার্ডের দাম, গেম কনসোল গুলোর দামকেই ছাড়িয়ে যায়, সেখানে হয়ত আপনি ভাবতেই পারেন না ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার (প্রায় ৪৩০০০ টাকা) দিয়ে কোন গেমিং পিসি বিল্ড করা সম্ভব! কিন্তু আপনি জেনে খুশি হবেন যে মডার্ন হার্ডওয়্যার গুলো বর্তমান গেমিং এর জন্য বেশ দক্ষ, হোক সেটা কিছুটা সাশ্রয়ী দামের মধ্যে। আপনি চাইলে কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে হার্ডওয়্যার নির্বাচনের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার বিল্ড করতে পারেন একটি বাজেট গেমিং পিসি, এবং সেখানে খেলতে পারবেন বর্তমানে সময়ের কিছু উল্লেখ্য যোগ্য গেম সহ পুরনো জনপ্রিয় গেম গুলো।

সুতরাং আপনার প্রশ্ন হতে পারে আসলেই কি ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার দিয়ে কি আপনি সেরা পিসি বানাতে পারবেন? চলুন চলে যাই বিস্তারিত আলোচনায়।

প্রি-বিল্ড পিসিকে না বলুন

আমরা ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার (প্রায় ৪৩০০০ টাকা) গেমিং পিসির জন্য প্রথমে প্রি-বিল্ড অপশন গুলো বাদ দিয়ে দেব। আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন প্রি-বিল্ড পিসি দিয়ে হবে কিনা।  উত্তর হচ্ছে “না”! বাজারে Dell, HP, এবং Lenovo এর মত কোম্পানি গুলো তাদের নিজেদের মত পিসি বিল্ড করে বিক্রি করে, তারা গেমিং এর জন্য আলাদা ভাবে কোন কিছু বিবেচনা করে না। প্রি-বিল্ড পিসি গুলো হয়তো ৪০ হাজার টাকা কমের মধ্যেও পেয়ে যাবেন কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে এগুলো দিতে গেমিং সম্ভব না।

প্রি-বিল্ড পিসি গুলোতে হয়তো থাকবে ডুয়েল কোর প্রসেসর এবং স্লো ৪ জিবি র‍্যাম এবং হার্ডডিস্ক ও তেমন স্পেশাল থাকবে না সুতরাং গেমিং কেমন হবে সেটা বুঝতেই পারছেন।

যেমন Lenovo IdeaCentre 5i পিসিটি বেশ ভাল যেমন এতে আছে ভাল RAM, যার দাম ৪৪৯.৯৯ ডলার (প্রায় ৩৮১০০ টাকা), গেমিং এর জন্য এটি মোটামুটি ভাল হলেও আরও ৫০ ডলারে (প্রায় ৪২০০ টাকা) কি কি পাচ্ছেন এটা এই টিউন না শেষ করলে বুঝবেন না।

তাছাড়া ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারের কোন প্রি-বিল্ড পিসিতে অবশ্যই মনিটর দেবে না  মনিটরের যদিও একটি  সস্তা গেমিং পিসির জন্য মনিটর জরুরীও নয় (কনসোল এর সাথে অবশ্যই টিভি দেয় না), তবে আমি ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারের প্যাকেজে মনিটরও রাখব।

ল্যাপটপ দিয়ে সম্ভব?

এবার আপনি যদি ৫০০ ডলারের (প্রায় ৪৩০০০ টাকা) ল্যাপটপের কথা বলেন, কারণ ল্যাপটপে তো স্ক্রিন থাকে। এই বাজেটে কি ল্যাপটপ উপযুক্ত হবে? উত্তর হচ্ছে “না”। সকল ৫০০ ডলারের ল্যাপটপ গুলোতে প্রি-বিল্ড পিসির মত গ্রাফিক্স ইস্যু থাকবে। কম স্টোরেজ থাকবে এবং স্লো কাজ করবে। যেমন Dell Inspiron 15 3000 ল্যাপটপটি সব দিক থেকে পারফেক্ট হলেও এটি গেমিং এর জন্য ভাল হবে না।

ল্যাপটপে গেমিং ভাল না হবার কারণটি খুবই সহজ সেটা হচ্ছে এই দামে যে কম্পোনেন্ট গুলো দেয়া হবে সেটা কোন ভাবেই গেমিং এর জন্য উপযুক্ত হবে না।

৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারের গেমিং পিসি বিল্ড

৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারের নিজেই নিজের পিসি বিল্ড করার দুটি সুবিধা আছে যেমন, আপনি নিজেই পিসিটি বিল্ড করছেন সুতরাং বিল্ডের জন্য অন্যকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না, তাছাড়া আপনি নিজে যখন একটা পিসি বিল্ড করবেন সেই ফিলিংস টাই থাকবে অন্যরকম।

তো চলুন কিভাবে বাজেটের মধ্যে কম্পোনেন্ট গুলো বাছাই করা যায় সেটা দেখে নেয়া যাক। আমি দুই ভাবে ৪০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলারের পিসি বিল্ডের ধারণা দেব, একটি হচ্ছে মনিটর সহ আরেকটি মনিটর ছাড়া।

CPU নির্বাচন

আমাদের  প্রথমেই ভাল একটি CPU সিলেক্ট করতে হবে, এবং মনে রাখতে সেখানে যেমন মিনিমাম ৪ টি কোর থাকে এবং সম্ভব হলে যেন মাল্টিথ্রেটিং সাপোর্ট করে।

ফুল গ্রাফিক্স কার্ড আপনার ৫০০ ডলারকে ছাড়িয়ে যাবে তাই আমাদের একটি  ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স কার্ড  এর CPU ব্যবহার করতে হবে। যদিও এগুলো ব্যাসিক, তারপরেও আপনি দুটি CPU দেখতে পারেন যেগুলো বেশ ভাল যেমন ৯৯.৯৯ ডলারের (প্রায় ৮৪০০ টাকা) Ryzen 3 3200G অথবা Ryzen 3 3400G। Ryzen 3 3200G এখানে মাল্টিথ্রেটিং না পেলেও পেয়ে যাবেন ৪ টি কোর এবং ক্লক স্পিড হবে 3.6 থেকে 4.0 GHz এর মধ্যে। তবে যদি আরও ৫০ ডলার (প্রায় ৪২০০ টাকা) বাড়িয়ে আপনি  Ryzen 3 3400G নিতে পারেন তাহলে হলে আপনি পেয়ে যাবেন ৪ টি কোর, সাথে ৮ টি থ্রেড এক সাথে হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা আর এখানে ক্লকস্পীড হবে 3.7 GHz থেকে 4.2 GHz এর মধ্যে।

Ryzen 3 3200G এবং Ryzen 3 3400G উভয় CPU তে থাকবে AMD এর Vega GPU। এই ডিজাইনটি কয়েক বছরের পুরনো হলেও বেশ ভাল কাজ করে। AMD এর Vega GPU এর Ryzen 3 3200G এবং Ryzen 3 3400G CPU গুলোর স্পেসিফিকেশন নিচে দেয়া হল।

Feature 3200G 3400G 3400G vs 3200G
Compute units 8 11 1.375x
Shader Cores 512 704 37.5% more
TMUs 32 44 37.5% more
ROPs 8 8 Same
Clock speed range 300 to 1250 MHz 300 to 1400 MHz 12% higher at max
Max pixel rate 10.0 Gpixels/s 11.2 Gpixels/s 12% better
Max texture rate 40.0 Gtexels/s 61.6 Gtexels/s 54% better
Max FP32 shader rate 1.28 TFLOPS 1.97 TFLOPS 54% better

আমরা যদি উপরে  দেখি তাহলে বলতে হবে 3400G বেশি ভাল তবে দামটা একটু বেশি। গত বছর 1080p রেজুলেশনে Low Detail সেটিং এর গেমিং টেস্টে এর পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভাল ছিল।

তবে বেশির ভাগ গেম গুলোর জন্য অধিকাংশ গেমাররা এই Low Detail সেটিংই ব্যবহার করে।

যেহেতু আমাদের বাজেট খুবই লিমিটেড সুতরাং আমরা CPU হিসেবে  Ryzen 3 3200G কে বাছাই করব কারণ এতে একই সাথে পেয়ে যাব, ভাল মানের ফ্যান এবং Heatsink। যেগুলোর জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না। তবে গেমিং এর ক্ষেত্রে এটি 3400G  এর থেকে কিছুটা স্লো হতে পারে।

তবে আমরা মনিটর ছাড়া যে প্যাকেজটা দেখাব সেখানে ভাল মানের GPU ব্যবহার করতে পারেন, যা গেমিং এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই এমন একটি CPU সিলেক্ট করতে পারি যাতে ইন্টিগ্রেটেড GPU থাকবে না। সেই বিবেচনায় আমরা Ryzen 1600 AF এর কথা ভাবতে পারি যার মূল্য ৮৫ ডলার (প্রায় ৭২০০ টাকা)। কিন্তু যেহেতু এটা এখন বাজারে খুব বেশি পাওয়া যায় না সুতরাং আমরা একই দামে Ryzen 3 3100 কে সিলেক্ট করব।

RAM নির্বাচন

এবার যদি র‍্যামের কথায় আসি তাহলে বলব, Ryzen প্রসেসরের জন্য DDR4 মেমোরির  ২টি DIMMs স্লট ভাল যা ডুয়েল চ্যানেল মুডে রান করা যাবে।  আমরা RAM হিসেবে পছন্দ করব Patriot এর 2 x 4 GB কে যা 3000 MT/s এ চলতে পারে এবং এর দাম পড়বে ৩৮ ডলারের (প্রায় ৩২০০ টাকা) মত। আপনি র‍্যাম যত বাড়াবেন ততই ভাল তবে আপনার বাজেটের জন্য ৮ জিবিই যথেষ্ট।

মাদারবোর্ড নির্বাচন

তো এখন CPU এবং RAM এর জন্য একটি মাদারবোর্ড লাগবে, আমি Asrock B450M-HDV মাদারবোর্ডটি বাছাই করব, এটি পাওয়া যাবে ৭১.৯৯ ডলারে (প্রায় ৬১০০ টাকা), তবে এটি ওভারক্লকিং এর জন্য ভাল না হলে আছে দারুণ সব ফিচার এবং আছে দারুণ BIOS। এর গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য আলাদা  PCIx16 স্লট রয়েছে, আছে ইন্টিগ্রেটেড অডিও এবং স্টোরেজ, USB ডিভাইস গুলোর জন্য আছে অনেক গুলো সকেট।

বিকল্প হিসেবে আরও কম দামে ৫৫.৯৯ ডলারে (প্রায় ৪৭০০ টাকা) Biostar A320MH মাদারবোর্ডটিও দেখতে পারেন তবে Asrock B450M-HDV বেশি ভাল  হবে কারণ এর র‍্যাম হবে বেশি ফাস্ট, এবং এতে NVMe SSD এর জন্য সাপোর্ট করবে একটি M.2 স্লট।

স্টোরেজ নির্বাচন

চলুন এবার স্টোরেজ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা যাক, আমরা অপারেটিং সিস্টেম এবং আপ্লিকেশনের জন্য সিলেক্ট করব Kingston 240 GB A400 SSD কে এবং গেমিং এর জন্য বাছাই করব Seagate 1 TB Barracuda HDD কে। এর মধ্যে Kingston 240 GB A400 SSD এর দাম পড়বে ২৮ ডলার (প্রায় ২৩০০ টাকা) এবং Seagate 1 TB Barracuda HDD এর দাম হবে ৫০ ডলার (প্রায় ৪২০০ টাকা)। দুটি স্টোরেজ মাদারবোর্ডে কানেক্ট করার জন্য SATA ইন্টারফেস ব্যবহার করবে। তবে এই স্টোরেজ গুলো বাকি সিস্টেম থেকে দারুণ পারফরম্যান্স দেবে। প্রি-বিল্ড পিসি আমি প্রেফার এজন্যই করব না কারণ এখানে আমরা দুটি স্টোরেজ ব্যবহার করছি কিন্তু সেখানে একটি সিঙ্গেল HDD এর মধ্যে সব কিছু দিয়ে দেয়া হতো।

তবে উপরের স্টোরেজ গুলোর বিকল্প হিসাবে সিঙ্গেল Kingston A400 SSD এর 1TB স্টোরেজ ও নিতে পারেন যার দাম পড়বে ৮৯ ডলার (প্রায় ৭৫০০ টাকা)। এবং আপনি  NVMe SSD এর সাথে যেতে চাইলে Western Digital এর 256GB SN750 নিতে পারেন যার দাম পড়বে ৩৬.৯৫ ডলারের (প্রায় ৩১০০ টাকা) মত।

কেস, কিবোর্ড, মাউস এবং পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট নির্বাচন

আর এই সব গুলো একসাথে করতে হলে আমাদের অবশ্যই একটা কেস লাগবে, সাথে কাজের জন্য লাগবে মাউস, কিবোর্ড এবং পাওয়ার সাপ্লাই। তবে এগুলো সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে বাজেটের বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আমরা কেস হিসেবে নির্বাচন করব DeepCool Matrexx 30  কে, মাউস হিসাবে NPET এর M70 কে এবং কিবোর্ড হিসাবে G20 কে। পাওয়ার সাপ্লাই হিসেবে নির্বাচন করব Thermaltake Smart 430 W কে এবং সব মিলিয়ে খরচ হবে ১০৮.৯৬ ডলার (প্রায় ৯২০০ টাকা)।

অবশ্যই এর চেয়ে কম দামেও এগুলো পাবেন তবে সেটা নির্ভর করবে আপনার উপর, যেমন আপনি যদি RGB Lighting চান তাহলে দাম একটু বেশিই লাগবে।

তবে পাওয়ায় সাপ্লাইয়ের জন্য একটু বেশি খরচ করতে চাইলে ক্ষতি নেই কারণ এতে স্ট্যাবল গেমিং এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে, তাছাড়া Wattage, 400W থেকে 500 W এর মধ্যে হলেও ভবিষ্যৎ গ্রাফিক্স আপগ্রেডের জন্য এটি যথেষ্ট।

অপারেটিং সিস্টেম এবং মনিটর নির্বাচন

সুতরাং এখন পর্যন্ত আমাদের হিসাবে মতে আমরা ৩৯৬.৩৩  ডলার (প্রায় ৩৩৫০০ টাকা) খরচ করে ফেলেছি এবং আমাদের হাতে এই মুহূর্তে আরও ১০৩.৬৭ ডলার (প্রায় ৮৭০০ টাকা) রয়েছে, যেগুলো দিয়ে আরও দুটি আইটেম কিনতে হবে, মনিটর এবং অপারেটিং সিস্টেম। চলুন বাজেট ঠিক রেখে দুটি জিনিস বাছাই করা যাক।

অধিকাংশ ইউজারদের ডিফল্ট চয়েস হতে পারে  Windows 10 Home যাতে অসংখ্য মডার্ন এবং পুরনো গেম সাপোর্ট করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর খরচ পড়ে যাবে ১৩০ ডলারের (প্রায় ১১০০০ টাকা) মত। যা আমাদের বাজেটকে ছাড়িয়ে যাবে।

আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডলারে  Windows 10 Home এর সিঙ্গেল লাইসেন্স কিনে পারেন। যেমন Kinguin ৩৭ ডলারে (প্রায় ৩১৩৭ টাকা) দিচ্ছে  Windows 10 Home এর সিঙ্গেল লাইসেন্স। এবার আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে এর দাম এত কম কেন? এটি কি ই-লিগ্যাল?

উত্তর হচ্ছে “না”। কারণ অনেক কোম্পানি আছে যারা লাইসেন্স কিনে কিনে বিভিন্ন ইউজারের কাছে বিক্রি করে। তবে এই ধরনের বিনিময়ে অবশ্যই বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

তবে আপনি উইন্ডোজ বাদে লিনাক্স বেসড অপারেটিং সিস্টেম গুলোও দেখতে পারেন যেমন Ubuntu তে আছে বিশাল গেম লাইব্রেরী যা ইন্সটল দেয়া বেশ সহজ। বিকল্প হিসেবে SteamOS ও ব্যবহার করতে পারেন। লিনাক্সের মত এটির ইন্সটল এতটা সহজ না হলেও এটি দিয়ে Steam গেম গুলো ভালই খেলতে পারবেন।

তবে যাই হোক আমরা উইন্ডোজকে বেছে নেব এবং উইন্ডোজ এক্টিভেশনের খরচ হিসেবে ধরছি ৩০ ডলার (প্রায় ২৫০০ টাকা)। এবার আমাদের হাতে বাকি থাকল ৭৩ ডলার (প্রায় ৬১০০ টাকা)।

যদিও ভাল মনিটর কেনার জন্য এটা যথেষ্ট টাকা নয় তবুও আমরা Acer K202HQL বাছাই কর কারণ ৬৯.৯৯ ডলারে (প্রায় ৫৯০০ টাকা) আমরা পেয়ে যাচ্ছি, TFT-TN  প্যানেলের এবং 1600 x 900 রেজুলেশনের  ভাল একটা মনিটর। তবে আরেকটি জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী মনিটর হিসেবে Acer SB220Q  কেও বাছাই করতে পারেন যেখানে পাবেন 21.5″ প্যানেলে 1080p  ডিসপ্লে তবে এই মনিটর নিতে হলে আপনাকে আরও ২০ ডলার (প্রায় ১৬৯৫ টাকা) বেশি খরচ করতে হবে।

তবে আপনি চাইলে মনিটর ছাড়াও কাজটি করতে পারেন কারণ Asrock মাদারবোর্ডে আছে HDMI পোর্ট যা দিয়ে আপনি আপনার টিভির সাথে কম্পিউটার যুক্ত করতে পারেন। এতে অবশ্যই বড় একটি ক্যাবল দরকার হবে কিন্তু আপনার অনেক টাকা বেচে যাবে।

আপনি বেঁচে যাওয়া টাকাটা দিয়ে  একটি ভাল গ্রাফিক্স কার্ডটি নিয়ে নিতে পারেন। আপনি ৭৫.৯৯ ডলারে (প্রায় ৬৪০০ টাকা) দিয়ে GeForce GT 1030 টি দেখতে পারেন তবে আরও ভাল হয় যদি Ryzen 3 3400G নেন তাহলে এখানে ওভারক্লকিং এরও সুবিধা পাবেন।

আপনি যদি GPU এর জন্য আরও টাকা খরচ করতে চান তাহলে বেছে নিতে পারেন  Radeon RX 560 কিন্তু নতুনটি নিতে গেলে আবার দাম পড়ে যাবে ১১০ ডলার (প্রায় ৯৩০০ টাকা)। আর বর্তমানে হার্ডওয়্যার গুলোর দাম বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে যা কয়েক বছর আগেও ছিল।

মনিটর সহ ৫০০ ডলারে গেমিং পিসি

Component Product Price
Processor Ryzen 3 3200G $100
Motherboard Asrock B450M-HDV $72
Memory Patriot Viper DDR4 2 x 4GB $38
Graphics / Sound Integrated $0
Storage Kingston 240GB A400 / 1 TB HDD $79
Monitor Acer SB220Q $90
Case + PSU + Input DeepCool case, Thermaltake PSU, K&M $109
Software Operating System $30
System Total $518

মনিটর ছাড়া পিসি বিল্ডের ক্ষেত্রে আমরা গ্রাফিক্স কার্ড হিসাবে নিব Radeon RX 570, যার দাম পড়বে ১৩৫ ডলার (প্রায় ১১৪০০ টাকা)। তবে যত ভাল গ্রাফিক্স কার্ড আপনি প্যাক করবেন তত ভাল পারফরম্যান্স পাবেন।

মনিটর ছাড়া ৫০০ ডলারের গেমিং পিসি

Component Product Price
Processor Ryzen 3 3100 $115
Motherboard Asrock B450M-HDV $72
Memory Patriot Viper DDR4 2 x 4GB $38
Graphics Radeon RX 570 $135
Storage Kingston 480GB A400 $47
Monitor None $0
Case + PSU + Input DeepCool case, Thermaltake PSU, K&M $109
Software Operating System $30
System Total $546

যেহেতু একটি গেমিং পিসির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর GPU, সুতরাং আমরা অন্যান্য বিষয় গুলোতে কিছুটা বিবেচনা করে GPU এর ক্ষেত্রে সেরাটাই বাছাই করতে পারি। যদি আমরা মনিটর বাদ দেই তাহলে প্রসেসর হিসাবে নিতে পারি Ryzen 3 3100 কে যাতে ইন্টিগ্রেটেড GPU থাকবে না এবং GPU হিসাবে এড করতে পারি Radeon RX 570।

সেকেন্ড হ্যান্ড হার্ডওয়্যার ব্যবহার করবেন কিনা?

আমরা আমাদের ৫০০ ডলারের গেমিং পিসি বিল্ড এ কখনো সেকেন্ড হ্যান্ড পার্টস বিবেচনায় নিই নি। এখানে অনেক গুলো পার্টস আছে যেগুলো পুরনো হলেও দাম অনেক বেশি। যেমন Ryzen 3 2400G এর সাথে  3400G এর খুব বেশি পার্থক্য নেই কিন্তু পুরনো হবার পরেও এর দাম অনেক বেশি।

২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মডেল নির্বাচন করা আশাব্যঞ্জক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি Core i5 4690  প্রায় $ 80 ডলারের (প্রায় ৩৩০০ টাকা) মধ্যে পাওয়া যাবে, এছাড়া পাওয়া যাবে প্রচুর পরিমাণে সস্তা LGA1150 মাদারবোর্ড এবং DDR3 মেমরি। যদিও এই জাতীয় প্রসেসর Ryzen 3 3400G এর চেয়ে দ্রুত হবে না, তবুও কিছু টাকা বাঁচিয়ে ভাল GPU কেনা যেতে পারে।

তাছাড়া ব্র্যান্ড নিউ Radeon RX 560 এর দাম হতে পারে 110 ডলার বা তার বেশি, GeForce GTX 1050 Ti সাধারণত 160 ডলারের (প্রায় ১৩৫০০ টাকা) নিচে থাকে এবং ফাস্ট RX 570  প্রায় 140 ডলারে (প্রায় ১১৮০০ টাকা) বিক্রি হয়। মোট কথা আপনি যত বেশি খরচ করতে পারবেন তত ভাল।

যাইহোক এই দামগুলির অর্থ হল আপনাকে মোট 160 ডলার থেকে 200 ডলারে  (প্রায় ১৭০০০ টাকা) সেকেন্ড হ্যান্ড সিপিইউ, মাদারবোর্ড এবং র‌্যাম পেতে হবে। গেমিং পিসি বিল্ডের জন্য এটি ভাল হতে পারে তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে এই পার্টস গুলোতে আপনি কোন ওয়ারেন্টি পাবেন না এবং এটাও বলতে পারবেন না আগের মালিকরা কিভাবে এগুলো ব্যবহার করেছে।

তবে সেকেন্ড হ্যান্ড পার্টস হিসেবে আপনি শুধু মাত্র মনিটকে বিবেচনা করা করতে পারেন।

তবে আমি বলব, Ryzen 3 3200G/3400G বিল্ডের সাথে লেগে থাকা আপনার জন্য ভাল হবে, কারণ এটি পরবর্তী আপগ্রেডের জন্য চমৎকার হতে পারে, তাছাড়া এতে সাপোর্ট করবে ফাস্ট প্রসেসর গুলো তাছাড়া র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য পাবেন অনেক জায়গা এবং অপশন।

কনসোল কি বাজেট পিসি থেকে ভাল হবে?

সুতরাং, আমরা মনিটর, কীবোর্ড, অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি সহ  500 ডলার দিয়ে কী নতুন গেমিং পিসি তৈরি করতে পারি? উত্তর হ্যাঁ। তবে Ryzen 3 3200G এর গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স এবং  ১০০ ডলারের মনিটরের বিষয় সম্পর্কে আপনাকে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

এবার আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন মনিটর সহ পুরো প্যাকেজটি ৫০০ ডলার দিয়ে তৈরি করে গেম খেলা কি, ল্যাটেস্ট গেম গুলো দুর্দান্ত গ্রাফিক্সের সাথে PlayStation 5 অথবা Xbox Series X  দিয়ে খেলার চেয়ে ভাল হবে?

আপনার কষ্ট হলেও বলতে হবে “না”। যদি আপনি এটি জানতে চান তবে সিদ্ধান্তটি সহজ, নতুন কনসোলগুলি হচ্ছে উচ্চতর এবং বোধগম্য বিকল্প। সর্বোপরি এগুলিতে অনেক বেশি শক্তিশালী সিপিইউ এবং গ্রাফিক্স চিপ এর পাশাপাশি রয়েছে আলট্রা ফাস্ট র‌্যাম এবং স্টোরেজ।

তবে পাওয়ারের বিষয়টি বাদ দিলে লো বাজেটের গেমিং পিসি দৈনন্দিন কাজের জন্য এবং গেমিং এর জন্য ভাল তবে এটাও মনে রাখতে হবে এখন অনেক গেম আছে যেগুলো কম্পিউটারে ভাল কাজ করে না যতটুকু ওই PlayStation 5 অথবা Xbox Series X এর  প্ল্যাটফর্ম গুলোতে করে।

যেমন এই Crusader Kings II,  Disco Elysium, এবং Into the Breach গেম গুলো খুব ভালভাবেই বাজেট পিসিতে রান করানো যায়, আপনি চাইলে আমার এই টিউনটিও দেখতে পারেন যেখানে ২৫ টি গেম বাজেট পিসি গুলোতে খুব ভাল ভাবেই কাজ করে।

সুতরাং সব মিলিয়ে আপনি যদি হাই গ্রাফিক্স গেম গুলোর দিকে না যান তাহলে আপনার জন্য ৫০০ ডলারের গেমিং পিসি যথেষ্ট হতে পারে।

৫০০ ডলার এবং গেমিং পিসি

তো এই টিউনের মাধ্যমে আমি দেখানোর চেষ্টা করলাম কিভাবে ৫০০ ডলার দিয়ে কিভাবে একটি গেমিং পিসি বানানো যেতে পারে। আমি এই টিউনটিতে কম দামের মধ্যে সেরা হার্ডওয়্যার গুলো বাছাই করে দেখিয়েছি তবে এটা বাধ্যতামূলক নয় যে আপনি এগুলোই ব্যবহার করবেন। যদি আপনার হাতে এমন বাজেটের আরও ভাল বিকল্প থাকে তাহলে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।

আমি এই টিউনে কম টাকায় কিভাবে ভাল একটি গেমিং পিসি বানাবেন সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি, আমার লক্ষ্য ছিল আপনার বাজেটকে নির্দিষ্ট একটা লিমিটের মধ্যে রেখে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করা। এখন আপনি যদি চান তাহলে আপনার বাজেট অনুযায়ী পাঁচ হাজার বা আরও ১০ হাজার টাকা বেশি এড করে ভাল GPU বা প্রসেসর বাছাই করে নিতে পারেন, এটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছে।

তবে আপনাকে সব সময় গেমিং পিসির ক্ষেত্রে GPU কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কারণ আপনার পিসির গ্রাফিক্স যত উন্নত হবে আপনি তত ভাল গেমিং অভিজ্ঞতা পাবেন। আগে GPU কে প্রাধান্য দিয়ে তারপর বাকি হার্ডওয়্যার গুলো বিবেচনায় নিন।

শেষ কথা

আশা করছি এই টিউনের মাধ্যমে আপনি বাজেট গেমিং পিসি নিয়ে একটা ভাল ধারণা পেয়ে গিয়েছেন। সুতরাং যারা এতদিন বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তারা এখনি রেডি হয়ে যান আপনার চাহিদা মত গেমিং পিসি বানানোর জন্য।

তো কেমন হল আজকের এই দীর্ঘ টিউন তা জানাতে অবশ্যই টিউমেন্ট করেন এবং আমাদের জানান আপনি কিভাবে তৈরি করছেন আপনার গেমিং পিসি।

তো আজকে এই পর্যন্তই, পরবর্তী টিউন পর্যন্ত অনেক ভাল থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *