ঢাকা, শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের বিশেষ দূতেরা আফগানিস্তানে, বৈঠক কারজাইয়ের সঙ্গেও
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের বিশেষ দূতেরা আফগানিস্তানে, বৈঠক কারজাইয়ের সঙ্গেও

সন্ত্রাসবাদ ও মানবিক বিপর্যয় এড়াতে আফগানিস্তানে (Afganistan) সকলকে নিয়েই সরকার গড়তে হবে। সেজন্য চিন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষ দূতেরা গিয়েছেন কাবুলে। সেখানে তাঁরা যেমন অস্থায়ী তালিবান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তেমনই বৈঠকে বসেছেন ভুতপূর্ব সরকারের দুই কর্তা হামিদ কারজাই ও আবদুল্লা আবদুল্লার সঙ্গে। বুধবার চিনা প্রশাসনের এক শীর্ষস্থানীয় অফিসার একথা জানিয়েছেন।


চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, তিন দেশের দূত সম্প্রতি আফগানিস্তানের কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ হাসান আখুন্দ, বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং তালিবান প্রশাসনের অন্যান্য কর্তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁরা আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং অপর মন্ত্রী আবদুল্লা আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।

চিন জানায়, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। ঝাও লিজিয়ান বলেন, তাঁদের দেশ চায় আফগান সংকটের একটা রাজনৈতিক সমাধান হোক।


বুধবারই জানা যায়, রাষ্ট্রপুঞ্জে দূত নিয়োগ করেছে তালিবান। রাষ্ট্রপুঞ্জে আফগানিস্তানের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তালিবানের দোহার মুখপাত্র সুহেল শাহিন। রাষ্ট্রপুঞ্জে সমস্ত দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছে তালিবান।

সম্প্রতি তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি জেনারেলকে লেখা একটি চিঠিতে অনুরোধ করেছেন, সাধারণ সভায় বাৎসরিক যে বৈঠক চলছে, সেখানে আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য পেশ করতে চায় তারাও। আগামী সোমবার এই বৈঠক শেষ হবে।

এতদিন রাষ্ট্রপুঞ্জে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতেন সরকারি আধিকারিক গুলাম ইসাকজাই। গত মাসে তালিবান তাঁকে অপসারিত করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে যে সমস্ত দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে তালিবান তার মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের মত দেশও রয়েছে। তবে সোমবারের মধ্যে তালিবানের এই অনুরোধ রাখা হবে বলে মনে করছে না পর্যবেক্ষক মহল। সবচেয়ে বড় কথা হল, তালিবানের প্রতিনিধিকে রাষ্ট্রপুঞ্জ গ্রহণ করবে কিনা, মান্যতা দেবে কিনা সেটাই অনিশ্চিত। তা যদি হয় তবে সারা বিশ্বের কাছে তালিবানের স্বীকৃতিও একধাপ এগোবে।

আফিগানিস্তানে বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করার পর এখন তালিবানের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ। দেশ চালানোর মতো আর্থিক পরিকাঠামো তাদের নেই। তাই অবশ্যই এখন বাকি দেশের সাহায্য দরকার তালিবানের। তবে তালিবান কট্টরপন্থী। সাধারণ মানুষের অধিকার, বিশেষত নারীদের অধিকার সেখানে সুরক্ষিত নয় বলেই ধারণা অনেকের। তাদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে তাদের সেই কট্টরপন্থী নীতিকেও মেনে নেওয়া। খবর দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *