ঢাকা, শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
ব্রাউজার Cookies ও FLoC কি এবং এগুলো কিভাবে আপনার ডিভাইসে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করে? | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। তো বন্ধুরা আমরা কিন্তু সকলেই আমাদের স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি। আমরা কোন কিছু জানার জন্য কমবেশি সকলেই গুগলে সার্চ করে থাকি। আমরা কোন কিছু সার্চ করার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে থাকি। কিন্তু সেখানেও আমাদের প্রতিনিয়ত ট্রাকিং করা হয়।

আপনাকে আমাকে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ট্রাকিং করার জন্য সবার আগে চলে আসে গুগল এর কথা। গুগল আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এর খবর জানে এবং সে অনুযায়ী আমাদেরকে বিজ্ঞাপণ দেখায়। আমাদের কোনো তথ্য গুগল এর সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য থাকে সেগুলো দিয়ে যেন আমাদেরকে ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপণ দেখানো হয়। তারা চায় যে, বিজ্ঞাপনদাতার চাহিদা অনুযায়ী যেন সঠিক লোকের কাছে সেই পণ্য বা সেবাটি উপস্থাপিত হয়। আর এজন্যই তারা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলোকে নিয়ে নেয়।

গুগল আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলো অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ দেখানোর জন্য অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করে। সেরকমই এসবের মধ্যে ব্রাউজার কুকিজ অন্যতম। ব্রাউজার কুকিজ এর নাম আপনারা হয়তোবা অনেকেই শুনে থাকবেন। গুগল যে আমাদের কুকিজ গুলো সংগ্রহ করার মাধ্যমে আমাদের ট্রাকিং করে এবং সেটি আমাদের ব্রাউজার এক্সপেরিয়েন্স কে উন্নতি করার জন্যও ব্যবহার করা হয়। কোন ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের অভিজ্ঞতাকে উন্নতি করার পাশাপাশি ব্রাউজার কুকিজ এর মাধ্যমে তাদের স্বার্থও হাসিল হয়।

তো বন্ধুরা, আজকের টিউনের আলোচনার বিষয় হল Google Cookies এবং Google FLoC বা Federated llLearning of Cohorts সম্পর্কে। যেখানে গুগল আমাদের ব্রাউজার কুকিজ সংগ্রহ করার মাধ্যমে আমাদের তথ্যগুলোকে জমা করে, সেখানে তার চাইতে একটি আপডেট ভার্সন হচ্ছে Google FLoC। যেটি ব্রাউজার কুকিজ এর পরিবর্তে কাজ করবে। তবে এজন্য আমাদেরকে প্রথমেই জেনে নিতে হবে যে, ব্রাউজার কুকিজ আসলে কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। যদি আমরা ব্রাউজার কুকিজ কে ভালোভাবে জানতে পারি তবে গুগলের এই Google FLoC কেও জানতে পারবো।

তো বন্ধুরা, আজকের এই টিউন টি অন্যান্য টিউনের মতোই তথ্যবহুল হবে। যদি আপনারা ব্রাউজার কুকিজ এবং গুগল এর নতুন প্রযুক্তি গুগল ফ্লক সমন্ধে না জেনে থাকেন তবে আজকের টিউনটি আপনার জন্য। আজকের এই টিউনে আপনি জানতে পারবেন যে ব্রাউজার কুকিজ কি এবং এটি কোন কাজে ব্যবহার হয় ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে। এছাড়া ব্রাউজার কুকিজ সংগ্রহ করার মাধ্যমে আমাদের কি কি তথ্য চলে যেতে পারে অন্য কারও হাতে, সেসব বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আর এজন্য অবশ্যই সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

আর হ্যাঁ, আপনি যদি আমাকে এখনও ফলো করে না রাখেন তবে উপরের ফলো বাটনে ক্লিক করে ফলো করে রাখার অনুরোধ করছি। এতে করে যেমন আপনি আমার টিউন গুলো টেকটিউনস এর হোমপেজে দেখতে পাবেন, তেমনি ভাবে আমিও পরবর্তীতে নতুন কোন টিউন করার উৎসাহ পাবো। তাই আর দেরি না করে উপরের ফলো বাটন এ ক্লিক করে ফলো করে রাখুন। তবে চলুন আজকের টিউনটি সম্পূর্ণ শুরু করা যাক।

ব্রাউজার কুকিজ কি এবং কোন কাজে ব্যবহার হয়?

ইন্টারনেটের প্রায় প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটে ব্রাউজার কুকিজ সংগ্রহ করে। আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে যান তখন সেখানে সেই ওয়েবসাইট টিতে আপনার কুকিজ গুলো সংগ্রহের জন্য অনুমতি চায়। যেটি হয়তোবা আমরা কেউ ভালোভাবে লক্ষ্যই করি না। তবে আপনি এটা নিশ্চিত থাকুন যে কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে কুকিজ সংগ্রহের অনুমতি দিলে আপনার ব্রাউজিং করা তথ্যগুলো তারা স্টোর করে রাখবে।

এবার চলে আসা যাক কুকিজ সম্বন্ধে। দেখুন, আপনি যখন কোন একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তখন সেই ওয়েবসাইটটি আপনার কিছু টেক্সট ফাইল সেই ব্রাউজারে জমা করে। এখন সেই টেক্সট ফাইল আপনার সম্বন্ধে সেই ব্রাউজারে বিভিন্ন তথ্য রাখতে পারে। এর মধ্যে যেমনঃ আপনি সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে কি কি দেখলেন, সেই ওয়েবসাইটটি আপনি কোন ভাষায় ব্যবহার করছেন, ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে আপনি কোন বিষয়গুলোতে বেশি ক্লিক করেছেন এবং সেগুলো কত সময় ধরে দেখছেন, সেই ওয়েবসাইটটিতে আপনার ইউজার আইডি এবং অন্যান্য তথ্য গুলো সে জমা করে রাখে।

কোন ওয়েবসাইট আপনার এসব তথ্য গুলো জমা করার পেছনে একটি কারণ হচ্ছে আপনি যখন পরবর্তীতে আবার সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন তখন সে ওয়েবসাইট সেসব ফাইল থেকে আপনার পূর্বের অভিজ্ঞতা গুলোকে নিবে, যে আপনি পূর্বে কোন কোন বিষয়গুলো কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন এই ওয়েবসাইটে এসে। অথবা আপনি সেই ওয়েবসাইটে এসে কোন ভাষায় সেটি ব্যবহার করেছিলেন কিংবা ওয়েবসাইটটির ভেতরের কোন ক্যাটাগরির লেখাগুলো আপনি বেশি পছন্দ করেছিলেন ইত্যাদি বিষয়গুলো। আর ব্রাউজারের এসব কুকিজ গুলো নেবার উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে সে নিজে থেকেই আপনাকে কিছু প্রডাক্ট রিকমেন্ড করতে পারে বা আপনার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কিছুটাও উন্নতি করতে পারে। এটি হচ্ছে ব্রাউজার কুকিজ এর প্রধান কাজ, যেটি আপনার ব্রাউজার এক্সপ্রেসকে কিছুটা উন্নতি করে।

আর হ্যাঁ, আপনি এবার তবে এটি ভাবতে পারেন যে ব্রাউজার কুকিজ যদি আমার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কে উন্নতি করে তবে তো এটি ভালোই। এখানে আমি যে কুকিজ এর কথা বললাম সেটি হচ্ছে, First-party কুকিজ। ইন্টারনেটে First-party কুকিজ এ কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা আছে থার্ড পার্টি কুকিজ নিয়ে। এখন Third-party কুকিজ আবার কি?

দেখুন, আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তখন সেই ওয়েবসাইট আপনার ব্রাউজারে কিছু টেক্সট ফাইল জমা করবে যেদিকে বলা হয় ফার্স্ট পার্টি কুকিজ। আপনি এখানে যে ওয়েবসাইটটিতে ভিজিট করছেন সেখানে শুধুমাত্র সেই ওয়েবসাইটটি আপনার ডেটা গুলোকে সেই ব্রাউজারে কুকিজ হিসেবে জমা করে রাখছে। এখানে সেই ব্রাউজারটি আপনার কুকিজ গুলো সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই ওয়েবসাইটে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নতি করা। পরবর্তীতে আপনি যখন সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন তখন যাতে আপনাকে খুব সহজেই কোন কিছুর রিকমেন্ড করা যায় সে বিষয়গুলোর জন্যই মূলত first-party cookies সংগ্রহ করা হয়। এখানে বলতে পারেন আপনার ভালোর জন্যই কুকিজ গুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কিন্তু আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইটে যদি অন্য কেউ কুকিজ সংগ্রহ করে সেটিকে বলা হয় third-party কুকিজ। অর্থাৎ আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইটে যে কুকিজ গুলো সংগ্রহ করছে সে অন্য কোন ওয়েবসাইট। এজন্যই একে থার্ড পার্টিকে কুকিজ বলা হয়। third-party কারো কুকিজ সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে থাকবে সেটিকে ব্যবসায়ীক কাজে লাগানো। ভবিষ্যতে আপনাকে যেন আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিষয় গুলো দেখিয়ে এবং সেখানে আপনার পছন্দমত বিজ্ঞাপণ দেখে তারা যেন সুবিধা নিতে পারে এজন্য থার্ড পার্টি কুকিজ কাজ করে।

এখন আপনার মনে হতে পারে যে কোন ওয়েবসাইট আসলে আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইটে এসে কুকিজ গুলো সংগ্রহ করে রাখছে?

দেখুন, আপনি যে সকল সাইট ভিজিট করেন সেখানে আপনি প্রায়ই বিজ্ঞাপণ দেখতে পারেন। তো এটি হতে পারে গুগলের বিজ্ঞাপণ অথবা অন্যকোন third-party প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপণ। এই third-party যে কোম্পানি গুলো রয়েছে সেখান থেকে আপনার ওয়েবসাইটে এই টেক্সট ফাইল গুলো জমা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি কোন একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেন যেখানে গুগলের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শিত হচ্ছে। এবার সেই ওয়েবসাইট এর ভিতরে গুগলের কিছু ফাইল থাকবে যেখানে সেই ওয়েবসাইটটিতে ভিজিট করার সমস্ত তথ্য গুলো জমা থাকবে।

সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন বা কোন আর্টিকেল গুলোতে বেশি ক্লিক করেছেন এবং সেগুলো কত সময় ধরে দেখেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো জমা করে রাখবে। তো এগুলো জমা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনি যখন সে ওয়েবসাইটে আবার ভিজিট করবেন তখন সেখানে যদি কোনো বিজ্ঞাপনদাতা বিজ্ঞাপণ দিতে আসে তবে সে প্রথমে সেই ব্রাউজারের কুকিজ গুলো দেখবে আপনি কোন বিষয়গুলো বেশি দেখেছেন। আপনি সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে কোন কোন বিষয়গুলো দেখেছেন এবং সেগুলো তে ক্লিক করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো অনুসন্ধান করবে। এবং এভাবে করে সেই third-party বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখাবে। এভাবে করেই মূলত ইন্টারনেটে third-party কুকিজ এর মাধ্যমে আপনাকে ট্র্যাক করা হয় এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপণ দেখানো হয়।

এখন এই third-party কুকিজ এর সাথে এটা সমস্যা যে, একটি ব্রাউজার কুকিজ আপনার সমস্ত ডাটা থাকতে পারে। এছাড়া এই কুকিজ গুলোতে আপনার ডেটা গুলো এনক্রিপ্টেড থাকেনা, অর্থাৎ যে কেউ আপনার কুকিজ দেখতে পাবে। এক্ষেত্রে যখনই আপনি কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন তখন যেকোন থার্ড পার্টি কোম্পানি আপনার কুকিজ গুলো অ্যাক্সেস করতে পারবে। এ জন্যই মূলত সমস্ত ব্রাউজারগুলো ডিফল্ট ভাবে third-party কুকিজ গুলো ব্লক করে রাখে। শুধুমাত্র গুগলেই একমাত্র ব্রাউজার যেখানে এসব থার্ড পার্টি কুকিজ গুলো ডিফল্ট ভাবে ব্লক করা হয় না।

যেখানে অন্যান্য ব্রাউজার থার্ড পার্টি কুকিজ গুলোকে ব্লক করে দেয়। তবে আপনি চাইলে অন্যান্য ব্রাউজার এর মতই গুগল ক্রোম এর ভিতরের থার্ড পার্টি কুকিজ গুলো ব্লক করে রাখতে পারেন। কিন্তু গুগল ই একমাত্র ব্রাউজার যেখানে থার্ড পার্টি কুকিজ ডিফল্ট ভাবে ব্লক করা হয় না। এর পেছনে কারণ হয়তোবা আপনারা সকলেই বুঝতে পারছেন। গুগলের যে আয় সেটি সর্বোচ্চ বিজ্ঞাপণ থেকেই আসে।

গুগল যদি ইন্টারনেটে আপনাকে ট্র্যাক করা বন্ধ করে দেয় তবে এতে করে তাদেরই লোকসান। গুগল আপনাকে ট্র্যাক না করলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ দেখাতে পারবে না। আর যদি আপনার পছন্দমত বিজ্ঞাপণ দেখানো না হয় তবে বিজ্ঞাপণ দেবার খরচ বেড়ে যাবে। কেননা সে সময় সঠিক লোকের কাছে বিজ্ঞাপণ দেওয়ার জন্য অধিক অ্যাড ইম্প্রেশন করতে হবে বা একাধিক অ্যাড একই ব্যক্তিকে দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে গুগল কখনোই চাইবে না যে তারা third-party কুকিজ গুলো বন্ধ করে দিতে।

কিন্তু গুগল ক্রোম বাদ দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার গুলো এসব থার্ড পার্টি কুকিজ গুলোকে ব্লক করে রাখে। এক্ষেত্রে গুগলকে ওতো এসব third-party কুকিজ গুলো বন্ধ করতে হবে। আর তা না হলে তো কেউ আর গুগল ক্রোম ব্যবহার করতে চাইবে না। কেননা এখানে বেশি পরিমাণে third-party কুকিজ গুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। আর এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য গুগল নিয়ে এসেছে Google FLoC বা Federated llLearning of Cohorts আপনাকে ইন্টারনেটে নতুনভাবে ট্র্যাক করার জন্য।

Google FLoC বা Federated llLearning of Cohorts কি?

Google FLoC কে বোঝার জন্য একটি আপনাকে উদাহরণ দেওয়া যাক। তো দেখুন থার্টি পার্টি কুকিজ এ যেটা হতো তা হল, আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করতেন তখন সেই অ্যাড কোম্পানিটি আপনার ব্রাউজারে থাকা কুকিজ গুলোর ডিটেলস গুলো চেক করতো। ব্রাউজার কুকিজ ফাইলে যেখানে আপনার পার্সোনাল ডাটা গুলো রয়েছে এবং সে অনুযায়ী আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখাত।

এবার এটির পরিবর্তিত রূপই হচ্ছে Google FLoC। গুগলের এই FLoC-এ হবে যে আপনি যেই ওয়েবসাইট গুলোতে ভিজিট করছেন সেখানে যে ডেটাগুলো রয়েছে সেগুলো তো আপনার ব্রাউজারে জমা করা হবে, কিন্তু এখানে আপনার ব্রাউজার নিজে থেকে কিছু প্রসেসিং করবে। এরপর আপনার আগ্রহ অনুযায়ী যেকোনো একটি বিশেষ গ্রুপের অধীনে ফেলানো হবে এবং যেই গ্রুপে আপনাকে ফেলানো হবে সেখানে আপনার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ থাকতে পারে যাদের চাহিদা বা আগ্রহ আপনার মতই। এরকমভাবে আরও লক্ষ লক্ষ গ্রুপ থাকতে পারে যেখানে কিছু মানুষের চাহিদা অনুযায়ী গ্রুপ থাকবে এবং প্রত্যেকটা গ্রুপের মানুষের চাহিদা অন্যান্য গ্রুপের মানুষের চাহিদার থেকে ভিন্ন।

এখানে আপনি এই প্রক্রিয়াটি বুঝতে পেরেছেন কিনা সেটি আমি জানিনা। এখানে আমি আরও একবার বলে নিচ্ছি যে, আপনি ইন্টারনেটে যেসব বিষয় গুলো বেশি দেখেন কিংবা বেশি ক্লিক করেন এরকম বিশ্বে বা সেই দেশে আপনার মতো আরও যত মানুষের রয়েছে তাদেরকে একটি ভাগে ভাগ করে। এভাবে করে আপনার পছন্দ এবং অন্য মানুষের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপে তারা ভাগ হয়ে যায়। আর কুকিজ সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকটি গ্রুপ অনুযায়ী তাদেরকে বিজ্ঞাপণ দেখানো হবে।

এরপর আপনি যখন কোন একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন তখন সেই ওয়েবসাইটে যে অ্যাড কোম্পানিটি বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে তাদেরকে আপনার আর পার্সোনাল ডাটা গুলো দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আপনি যেই গ্রুপে রয়েছেন শুধুমাত্র সেই গ্রুপের নাম্বারটি তাকে দেওয়া হবে এবং সেই ডেটা কোম্পানিকে এটা প্রসেস করতে হবে সেই বিশেষ গ্রুপের যে মেম্বার গুলো রয়েছে তাদের চাহিদা কি, কোন বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা আগ্রহী এবং তাদেরকে কোন বিজ্ঞাপণ গুলো দেখাতে হবে। অর্থাৎ এখানে আপনার পার্সোনাল ডাটা গুলোকে দেওয়া হচ্ছে না, এখানে শুধুমাত্র একটি গ্রুপের নাম্বার দেওয়া হচ্ছে যে গ্রুপে আপনাকে ফেলানো হয়েছে। এটি হচ্ছে মূলত গুগলের FLoC।

এখানে আমরা একটি বিষয় সুবিধা পাচ্ছি যে, গুগল এখন থেকে আর আমাদের পার্সোনাল ডাটাগুলোকে অন্যের হাতে তুলে দিবে না বা আমাদের ডাটাগুলো কোন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট এর কাছে যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আপনার যে তথ্যটি যাচ্ছে তা হল, শুধুমাত্র আমাদের গ্রুপের নাম্বার। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক ব্রাউজার রয়েছে যারা গুগলের এই FLoC বিরুদ্ধে রয়েছে। তারা গুগলের third-party কুকিজ এর মত FLoC কেও ব্লক করে দিচ্ছে। এখানে আমার মতে তারা যেটি ঠিক করেছে।

আমার মতে ইন্টারনেটে যে কোন ভাবেই আমাদেরকে ট্র্যাক করা হোক না কেন সেটি আমরা কোনভাবেই চাইবো না। সেটি হতে পারে গুগলের Cookies বা FLoC পদ্ধতিতে। এখানে উভয় পদ্ধতিতে কাউকে ট্র্যাক করা অনেক খারাপ জিনিস। তবে এখানে third-party কুকিজ এ অপশন ছিল এটাকে আপনি Disable করে দিতে পারবেন। কিন্তু গুগলের এই নতুন FLoC-এ আপনাকে হয়তো বা এই সুযোগটি ও দেওয়া হবে না। আপনি হয়তোবা জানতেই পারবেন না যে, আপনাকে গুগলের এই নতুন FLoC এর অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে।

তো আমার মতে, যদি ভবিষ্যতে এমন কোন সুবিধা না দেওয়া হয় যে ব্রাউজার কুকিজ এর মত গুগলের FLoC-কে বন্ধ করা যাবেনা তবে হয়তোবা গুগল ক্রোম ছেড়ে অনেকেই বিকল্প ব্রাউজার খুঁজতে থাকবে। তবে আমরা যদি আমাদের পার্সোনাল ডাটা গুলোর নিরাপত্তার’ কথা ভাবি তবে আমাদের উচিত হবে না গুগল ক্রোম ব্যবহার করা। আপনি যদি অনলাইন জগতে ট্রাকিং থেকে বাঁচতে চান তবে এক্ষেত্রে আপনি DuckDuckGo ব্রাউজার এবং সার্চ ইঞ্জিন কে ব্যবহার করতে পারেন‌। অনলাইনে বিচরণ করার ক্ষেত্রে একমাত্র DuckDuckGo-ই দিচ্ছে আপনার ডেটার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেবার প্রতিশ্রুতি।

আপনি গুগলে যেমন কোন কিছু সার্চ করলে সেই কিওয়ার্ড টিকে তারা রেকর্ড করে রাখে এবং সেটি বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু DuckDuckGo এর ক্ষেত্রে সেটি হয় না। গুগলে আপনি যদি কোন কিছু লিখে সার্চ করেন তবে সেটি রেকর্ড রাখার পাশাপাশি আপনি কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন এবং সে ওয়েবসাইটে গিয়ে কোন বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন সেগুলোর সমস্তই তারা নিয়ে নেয়। যেখানে কোনো একটি ওয়েবসাইটে আপনাকে অনেকগুলো অ্যাড কোম্পানি মিলে ট্র্যাক করতে থাকে।

এক্ষেত্রে আপনি যদি DuckDuckGo ব্যবহার করে কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করে থাকেন তবে সেখানে সার্চ বারের উপরে দেখতে পাবেন সেই মুহূর্তে সেই ওয়েবসাইটে কতগুলো অ্যাড কোম্পানি আপনাকে ট্র্যাক করছে। এখানে আমি DuckDuckGo-এর মোবাইল ব্রাউজার এর কথা বলছি। DuckDuckGo সার্চ ইঞ্জিনে আপনি যদি কোন বিষয় লিখে সার্চ করেন তবে সেটির হিস্টরি ও সেখানে জমা থাকবে না এবং আপনি যে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন না কেন সেই ওয়েবসাইটটির হিস্টরি ও এখানে জমা করে রাখা হবে না। এছাড়া আপনি যদি কোন ওয়েবসাইটে যান সেখানকার সমস্ত বিজ্ঞাপনগুলো সেখান থেকে ব্লক করে দেওয়া হবে এতে করে আপনার ইন্টারনেট সাশ্রয় হবে। যাই হোক, আপনাকে হয়তোবা এই বিষয় সর্ম্পকে বিস্তারিত বোঝাতে হবে না।

তো বন্ধুরা, আমি আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন গুগলের Cookies ও FLoC জিনিসটি আসলে কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। টিউনটি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সে সম্পর্কে টিউনমেন্টে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না। আর টিউনটি ভালো লাগলে জোসস করে দিবেন এবং আপনার বন্ধুদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন। আর যদি আপনি এরকম নিত্যনতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক টিউন দেখতে পছন্দ করে থাকেন তবে উপরের ফলো বাটনে ক্লিক করে ফলো করে রাখবেন।

তো বন্ধুরা, দেখতে থাকুন টেকটিউনস। আজকের টিউন থেকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। ততক্ষণ পর্যন্ত টেকটিউনসের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *