ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
রাষ্ট্রপুঞ্জে আগুনে জবাবে ইমরানকে চুপসে দিলেন, কে এই স্নেহা দুবে?
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

রাষ্ট্রপুঞ্জে আগুনে জবাবে ইমরানকে চুপসে দিলেন, কে এই স্নেহা দুবে?

 সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিলেন  স্নেহা দুবে (sneha dubey)। রাষ্ট্রপুঞ্জে (united nations) ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারিকে (india first secretary) নিয়ে মাতোয়ারা নেট দুনিয়া। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান (pakistani prime minister) (imran khan) খানের জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০  অনুচ্ছেদ বিলোপের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণের  সমুচিত জবাব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের (india) অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই সকলে জানতে চান, দেশকে গর্বিত করা তরুণী কে?


২০১২-র আইএফএস অফিসার স্নেহার স্কুলপর্ব কেটেছে গোয়ায়। পুণের ফার্গুসন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর তিনি এমফিল করেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে। ১২ বছর বয়স থেকেই তাঁর ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। ২০১১-য় প্রথম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেই বাজিমাত করেন স্নেহা। কিন্তু এত লাইন থাকতে কেন ফরেন সার্ভিসের দিকে নজর? স্নেহা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে জানা-বোঝা, নতুন নতুন সংস্কৃতি আবিষ্কার করার আনন্দ, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার হওয়া, মানুষকে সাহায্য করতে পারা-সব মিলিয়ে  তিনি এই  পেশায় প্রবেশ করেছেন।

ঘোরাঘুরি করা নেশা স্নেহার।  আইএফএস অফিসার হওয়া দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সেরা সুযোগ এনে দিয়েছে বলে বিশ্বাস করেন স্নেহা। পরিবারে প্রথম তিনিই সরকারি চাকরিতে ঢুকেছেন। স্নেহার বাবা কাজ করেন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে, মা স্কুল শিক্ষক।


ফরেন সার্ভিসে বাছাই হওয়ার পর স্নেহার প্রথম নিয়োগ হয় বিদেশমন্ত্রকে। ২০১৪র আগস্টে মাদ্রিদে ভারতীয় দূতাবাসের  দায়িত্বে পাঠানো হয় তাঁকে। বর্তমানে রাষ্ট্রপুঞ্জে  ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি তিনি।

ট্যুইটারে প্রশংসার বন্যা তাঁকে ঘিরে। একজন লিখেছেন, পাকিস্তানের  জোকারদের মুখ বন্ধ করার কী অসাধারণ প্রদর্শন! প্রতিটি শব্দচয়ন দারুণ, তথ্যে ঠাসা। চমত্কার।  কেউ কেউ রাষ্ট্রপুঞ্জে এর আগে পাকিস্তানকে তুলোধনা করা  মহিলা অফিসারদের সঙ্গে তুলনা করেন স্নেহার। লেখেন, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের মহিলা কূটনীতিকরা অসাধারণ। এনাম গম্ভীর, বিদিশা মৈত্র আর এখন স্নেহা দুবের আগুনে জবাব!

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের  অধিবশনের ভাষণ প্রত্যাশিত ভাবেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ইমরান খান। তাঁর বক্তব্যে ভারত সরকারের ২০১৯ এর  ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার, অতি সম্প্রতি পাকিস্তানপন্থী কাশ্মীরী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মৃত্যু-সবই ছিল। পাল্টা স্নেহা বলেন, সদস্য  দেশগুলি এ ব্যাপারে অবহিত যে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের লালন পালন, মদত দেওয়া ও সক্রিয় সমর্থনের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস, নীতি আছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বোচ্চ সংখ্যক সন্ত্রাসবাদী লালন পালনের কুখ্যাত রেকর্ডের অধিকারী। ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়েছিল। এমনকী আজও পাকিস্তানি নেতারা তাকে শহিদের মর্যাদা দেন। পাকিস্তান আগুন নেভানোর নাম করে আগুন লাগাচ্ছে, গোটা দুনিয়া তার নীতির জন্য ভুগছে, কেননা ঘরের পিছনে সন্ত্রাসবাদীদের পুষছে তারা, বলেন স্নেহা।

ভারতের এই তরুণ প্রতিনিধি জানান, জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ বরাবর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে, থাকবেও। তার মধ্যে পাকিস্তানের বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা অংশও আছে।  অবৈধ দখলে থাকা সব এলাকা অবিলম্বে পাকিস্তানকে খালি করে দিতে বলছি আমরা।

স্নেহা বাংলাদেশের প্রসঙ্গও তোলেন। বলেন, পাকিস্তানই সেই দেশ যারা আমাদের অঞ্চলে বর্তমানে যা বাংলাদেশ বলে পরিচিত, তার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গণহত্যা চালানোর নিন্দনীয় রেকর্ডের অধিকারী আজও। সেই ভয়াবহ ঘটনার ৫০-তম বর্ষপূর্তি  হচ্ছে এবছর, পাকিস্তানের তরফে দায় স্বীকার তো দূরের কথা, তার উল্লেখটুকু পর্যন্ত নেই। পাকিস্তানে শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান সব সংখ্যালঘুরা নিয়মিত ভয়ে থাকেন, তাঁদের অধিকারের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দমনপীড়ন চলে। বিরুদ্ধ স্বর নিয়মিত রোধ করা হয়।  বলপূর্বক লোকজনকে লোপাট করা, বিচারব্যবস্থা-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও চলে। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *