ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
ছবি তোলার শখ! ক্যামেরা হাতে চলে যান কুমোরটুলি
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ছবি তোলার শখ! ক্যামেরা হাতে চলে যান কুমোরটুলি

 ক্লিক এন্ড ক্লিক! দুর্গাপুজো মানেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েন এক ঝাঁক ছেলে-মেয়ে। শুধু ফটো তোলার নেশাতেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান তাঁরা। ভালো ছবি তোলার সুযোগ মিললেই ফটাফট ক্লিক হয় ক্যামেরার শাটারে। পুজোর আগে এই ফটোপ্রেমী ছেলে মেয়েদের ফটোর খনি হয়ে ওঠে কুমোরটুলি (Kumortuli)।


শোভাবাজারের রবীন্দ্র সরণি মানেই বিখ্যাত কুমোরটুলি। অলিতে গলিতে লুকিয়ে আছে হাজারও গল্প। সেই গল্পগুলোতেই ক্যামেরা বন্দি করার নেশায় প্রতিদিনই কুমোরটুলির গলিতে উৎসাহীদের ভিড়। প্রতি বছরই এই সময় ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। খোঁজ চলে ভালো ছবি তোলার। 


করোনার জন্য গত বছর থেকে উৎসাহীদের ভিড় কিছুটা কম হলেও বেশ অনেক ক্যামেরাই ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন রাজ্য থেকেও অনেকেই এই সময়ে কুমোরটুলি ছুটে আসেন ছবি তোলার নেশায়। দুর্গাপুর থেকে গত কয়েক বছর ছবি তোলার নেশায় কুমোরটুলি ছুটে আসছেন গগন অরোরা।

ব্যাঙ্গালোরে আইটি ফার্মে কর্মরত গগনবাবু ছবি তুলতে কুমোরটুলিতে চলে আসেন। দুর্গাপুরে বাড়ি হলেও কলকাতার এক বন্ধুর মেসে থেকেই ছবি তোলার শখ পূরণ করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ছবি তোলার জন্য কুমোরটুলির থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। এখানে অনেক বিষয় লুকিয়ে থাকে।” সেইসব বিষয়কেই ক্যামেরা বন্দি করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে আপলোড করে খুশি তিনি।

আগের বছর করোনার কারণে কুমোরটুলি আসতে পারেননি অনুষ্কা চন্দ্র। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একটু পরিবর্তন হতেই করোনাবিধি মেনেই ফটো তুলতে নেমে পড়েছেন কুমোরটুলির গলিতে। তাঁর কথায়, “পেশার তাগিদেও অনেকে আসে এখানে, কিন্তু আমি নেশার তাগিদেই প্রতিবছর এখানে আসি। নতুন নতুন ছবি দিয়ে নিজের গ্যালারি ভর্তি করতে চাই। আবারও আসব যখন মায়ের চক্ষুদান হবে।”

সেই একই সুরে সুর মিলিয়ে অভীক চন্দ্র বলেন, “এই গলিটা বাঙালির কাছে একটা ইমোশন। সেই ইমোশনের টানেই বহু বছর ধরে এই গলিতে ফটো তুলতে আসি।” শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বিভিন্ন ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতায় নিজের তোলা ছবি দিয়ে অংশগ্রহণ করেন পেশায় শিক্ষক অভীকবাবু।

বাড়ির পাশেই কুমোরটুলি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই এই পাড়ার গলিতে ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়ান আনন্দরূপ মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই ফটো তোলার নেশা, সেই নেশাতেই ক্যামেরা কেনা। আর তারপর থেকে ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়া উত্তর কলকাতার অলিতে গলিতে। তাঁর কথায়, “উত্তর কলকাতাই তো ছবি তোলার খনি।। নয় মাস ধরে কুমোরটুলি আসছি বিভিন্ন সময়ে। তবে দুর্গাপুজোর গন্ধ যখন থেকে কুমোরটুলিতে লেগেছে তখন থেকে প্রায় প্রতিদিনই সুযোগ করে একবার ঘুরে যাওয়ার চেষ্টা করি।”

শুধু ফটো নয়, এই সময়ে কুমোরটুলির গলি হয়ে ওঠে বিভিন্ন সিনেমা বা গানের বা অ্যালবামের শুট করতে। তেমনই একটি পুজোর গানের শুটে হাজির একদল ছেলে মেয়ে। শান মুখোপাধ্যায় নামে এক স্বাধীন শিল্পী নিজের তৈরি গান নিয়ে শুট করতে এসেছেন কুমোরটুলির গলিতে। পুজোর গানের জন্য এই গলিই একমাত্র সেরা বলে মনে করেন তিনি। সেই কথারই রেশ টেনে মডেল সোমশ্রী মজুমদার বলেন, “কুমোরটুলি বাঙালির আভিজাত্যের জায়গা। এখানে মায়ের মূর্তি তৈরি হয়। আর মেয়েরা তো মায়েরই একটা রূপ। তাই সেই রূপ এখানে তুলে ধরা।”

তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই এই গলিতে ছবি তোলার জন্য কিছুটা গাঁটের কড়ি খরচ করতে হয় ফটো প্রেমীদের। নূন্যতম ৫০ টাকা দিয়ে একমাসের জন্য এবং ১০০ টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য পাস করাতে হয় ফটো প্রেমীদের। তবে এখনও অনেকেই এই পাস না করিয়েই ফটো তোলেন, তাই বারবার মাইকে পাস করানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি রঞ্জিত সরকার বলেন, “যাঁরা নতুন তাঁরা অনেকেই পাস করান না। তবে সবাইকে অনুরোধ করা হয় এই পাস করিয়ে নেওয়ার জন্য। এখান থেকে যা টাকা ওঠে তা এই কুমোরটুলির কাজেই ব্যবহার করা হয়। এখানে ডাক্তারের ক্যাম্প হয়। এমনকি দুঃস্থ শিল্পীদের পাশেও দাঁড়ানো হয়। আমাদের তো আর আলাদা কোনও রোজগার নেই। তাই এই যা টাকা ওঠে সেই দিয়েই চলে। খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *