ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র যতই বার্তা পাঠাক না কেন তাতে ইরানের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্র যতই বার্তা পাঠাক না কেন তাতে ইরানের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান নিউইয়র্ক থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে ভার্চুয়াল কিংবা কূটনৈতিক বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে যতই একের পর এক বার্তা পাঠাক না কেন তাতে তেহরানের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এর আগে তিনি নিউইয়র্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছিলেন, আমাদের আগের সরকারের আমলে পরমাণু আলোচনায় কতদূর অগ্রগতি হয়েছিল তা ভালো করে যাচাই করার পরই  আমাদের নতুন সরকার ফের আলোচনা শুরু করবে। তিনি বলেছেন, এখন আমাদের নীতি হচ্ছে প্রতিপক্ষকে কথায় নয় বরং কাজ দিয়ে আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে। সময় ক্ষেপণ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অগঠনমূলক আচরণ কোনোটিই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা ও ভিয়েনায় ফের আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য দুদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্ন উঠেছে তা হচ্ছে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আদৌ কোনো ইচ্ছা আছে কিনা। মার্কিন আচরণের কারণেই তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ জোরদার হয়েছে। কেননা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র আজ পর্যন্ত একটি প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি। এমনকি এরপর যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ও ইরানকে হুমকি দিয়ে চলেছে তাও পরমাণু সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা একদিকে পরমাণু আলোচনায় ফিরে আসার জন্য ইরানকে আহ্বান জানাচ্ছে অন্যদিকে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের  পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, ইউরোপের আচরণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। কেননা ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের অনাস্থার বিষয়টি আমলে না নিয়ে ভিয়েনা সংলাপে ফিরে আসা ও একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে পরমাণু সমঝোতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন থেকে থাকে তাহলে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আমরা আমাদের শরীক দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে ইরানের সঙ্গে সংলাপে বসবো এবং তাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও ইরান তা শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিই হচ্ছে ইরানকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে রাখা। তারা নিজেদের নীতি মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করার জন্য নিষেধাজ্ঞাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।খবর পার্সটুডে /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *