ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
জার্মানিতে অল্পের জন্য ভোটে হারল অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের রক্ষণশীল দল
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

জার্মানিতে অল্পের জন্য ভোটে হারল অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের রক্ষণশীল দল

 রবিবার জার্মানির (Germany) সাধারণ নির্বাচনে অল্পের জন্য জয়ী হল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। ২০০৫ সালের পরে এই প্রথমবার ক্ষমতায় এল তারা। মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের রক্ষণশীল ব্লক পেয়েছে ২৪.৫ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ কোনও পক্ষই নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পায়নি। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট বা রক্ষণশীল জোট, যে কেউ সরকার গড়তে পারে। কিন্তু যেই সরকার গড়ুক, তাকে বাইরের কয়েকটি দলের সমর্থন নিতে হবে। নতুন জোট হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সম্ভবত বিভিন্ন গ্রিন পার্টি ও লিবারাল ফ্রি ডেমোক্র্যাট দলকে জোটে টানতে চাইবে দু’পক্ষই।


সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের তরফে যাঁকে পরবর্তী চ্যান্সেলর হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেই ওলফ শুলজ বলেন, “প্রতিটি সমীক্ষাতেই আমাদের এগিয়ে রাখা হয়েছে।” এক ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা জার্মানিতে এক বাস্তববাদী, ভাল সরকার পেতে চলেছি। ভোটাররা সেই লক্ষ্যেই রায় দিয়েছেন।”

২০১৭ সালের ভোটে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা পায় ২০.৫ শতাংশ ভোট। এবার তাদের দিকে বাড়তি প্রায় ছয় শতাংশ ভোট পড়েছে। ৬৩ বছর বয়সী শুলজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানিতে চতুর্থ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট চ্যান্সেলর হতে পারেন। তাঁর বিপক্ষে রক্ষণশীল নেতা আরমিন লাসচেট বলেছেন, তাঁরা এখনও পরাজয় স্বীকার করতে রাজি নন। যদিও তাঁদের সমর্থন কমেছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।


লাসচেট বলেন, “আমি চাই জার্মানিতে এমন সরকার গঠিত হোক যেখানে শরিক সব দলই সমান গুরুত্ব পাবে। সবাই শুধুমাত্র চ্যান্সেলরের কথা শুনে চলবে না।”

শুলজ ও লাসচেট, উভয়েই বলেছেন, তাঁরা খ্রিস্টমাসের আগেই নতুন জোট গড়ে ফেলবেন। মার্কেল আগেই জানিয়েছিলেন, ভোটের পরে আর চ্যান্সেলর থাকবেন না। ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পরে সামগ্রিকভাবে ইউরোপের রাজনীতিকেই তিনি প্রভাবিত করেছেন। তিনি যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লু বুশ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জাক শিরাক এবং ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টনি ব্লেয়ার। তাঁরা বহুদিন রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছেন।

জার্মানির ভোটে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ও রক্ষণশীল উভয়পক্ষই মূলত দেশীয় ইস্যুগুলির ওপরে জোর দিয়েছিল। নতুন জার্মান সরকার বিদেশনীতির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেয় দেখার জন্য এখনও কয়েকমাস অপেক্ষা করতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ চান ইউরোপ জুড়ে সাধারণ আর্থিক নীতি তৈরি করতে। সেক্ষেত্রে জার্মানির সমর্থন তাঁর বিশেষ প্রয়োজন। পর্যবেক্ষকদের মতে, জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর হবেন আগের চেয়ে দুর্বল। আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশকে অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর আর কিছু করণীয় থাকবে না ।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *