ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন
কৃষকদের ভারত বন্‌ধ শুরু, দিল্লিতে যান চলাচল ব্যাহত
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কৃষকদের ভারত বন্‌ধ শুরু, দিল্লিতে যান চলাচল ব্যাহত

 তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার ভারত বন্‌ধের (Bharat Bandh) ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। ৪০ টিরও বেশি সংগঠনকে নিয়ে গঠিত সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এদিন ভোর ছ’টা থেকে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রসওয়ে অবরোধ করে। গাজিপুরে ওই অবরোধের জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিগামী যানবাহন চলতে পারেনি। কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টার এই বন্‌ধে দেশ জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থাকবে শান্তিপূর্ণ।


এদিন ভোরেই কৃষকরা হরিয়ানার কাছে শম্ভু সীমান্তও অবরোধ করেন। রবিবার ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছিল, যানজটের জন্য প্রস্তুত থাকুন। হরিয়ানা পুলিশের এক মুখপাত্র রবিবার বলেন, “আগামীকাল কৃষকরা হাইওয়েতে ধর্নায় বসতে পারেন। কয়েক ঘণ্টার জন্য জাতীয় ও রাজ্যের হাইওয়েগুলিতে যানজট দেখা দিতে পারে।”

পাঞ্জাবে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, বন্‌ধকে সমর্থন করুন। টুইট করে তিনি বলেন, “প্রদেশ কংগ্রেস দৃঢ়ভাবে কৃষক ইউনিয়নগুলির ভারত বন্‌ধের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। যখন ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে লড়াই হয়, তখন কেউ নিরপেক্ষ থাকতে পারে না।”


উত্তরপ্রদেশে বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী বলেছেন, তাঁর দল শান্তিপূর্ণ ভারত বন্‌ধ সমর্থন করবে। তাঁর কথায়, “আমাদের দেশের কৃষকরা তিনটি কৃষি আইন মেনে নেননি। তাঁরা গত ১০ মাস ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।”

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, “কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আমরা কৃষকদের পাশে আছি।” রবিবার ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, “কৃষকরা প্রয়োজনে ১০ বছর ধরে আন্দোলন করবেন। সরকারকে আমাদের কথা শুনতেই হবে।”

দিল্লিতে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর সীমান্তে তৈরি হয়েছে পুলিশ পিকেট। পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, দিল্লিতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিল্লি সীমান্তে তিনটি বিক্ষোভস্থল থেকে কোনও আন্দোলনকারী শহরে ঢুকতে পারবেন না।

গতবছর নভেম্বর মাস থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের নানা প্রান্তের কৃষকরা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা নতুন আইনগুলি কার্যকরী হলে তাঁরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন না। তাঁদের বৃহৎ সংস্থাগুলির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।

কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আইন তৈরির আগে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, নতুন আইনগুলি চালু হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। কৃষিতে মধ্যসত্ত্বভোগীদের উৎপাত কমবে। কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য, কৃষি আইনগুলি প্রত্যাহার না করলে তাঁরা আন্দোলন শেষ করবেন না।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *