ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ন
ডেঞ্জারাস মামাতো বোন (পর্ব ৭-৮) – Romantic Bangla story – বাংলা প্রেমের গল্প
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ডেঞ্জারাস মামাতো বোন (পর্ব ৭-৮) – Romantic Bangla story – বাংলা প্রেমের গল্প

 

আগের পর্ব গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন: শিল্প ও সাহিত্য  

 

পর্ব ৭

আমি শান্ত গলায় রিমিকে বললাম,
.
— শিলার ফোন নাম্বার'টা তোর কাছে আছে.?
থাকলে দে তো, প্লিজ.! (আমি)
.
শিলার কথা শুনে রিমি কিছু সময় আমার দিকে
চেয়ে রইলো। তারপর হুট করে আমার শার্টের
কলার চেপে ধরলো।
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।
কিছু বলার আগেই রিমি চোখ পাকিয়ে বলল,
.
— কেন রে, শিলার নাম্বার দিয়ে কি করবি.? (রিমি)
.
আমি মিনমিন করে বললাম,
.
— কিছু না। এমনি-ই একটু দরকার ছিল। (আমি)
.
— সত্যি করে বল কি দরকার, না হলে খবর
আছে কিন্তু.! (চোখ লাল করে)
.
— আসলে দরকার'টা আমার না, আমার বন্ধু
রিফাতের.! রিফাত শিলাকে পছন্দ করে.!
শিলার সাথে কথা বলার জন্য আমার কাছে নাম্বার চাইল।
কিন্তু আমার কাছে নাম্বার নেই।
ভাবলাম তোর কাছে হয় তো আছে, তাই নিতে
আসলাম। (আমি)
.
রিমি এবার আরো শক্ত করে আমার শার্টের
কলার চেপে ধরলো।
মুখের কাছে মুখ এনে ধমক দিয়ে বলল,
.
— কুত্তা, মিথ্যা বলার জায়গা পাইস না.?
কি ভাবছিস, আমি তোকে চিনি না.?
আমি নিশ্চিত নাম্বার নিয়ে তুই শিলার সাথে
কথা বলবি.!
ওর সাথে টাংকি মারবি। লুইচ্ছা একটা.! (রিমি)
.
আমি রিমির থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিরীহ
গলায় বললাম,
.
— তওবা, তওবা.! নাউযুবিল্লা.! তুই আমাকে
এমন মনে করিস.?
আমার সম্পর্কে তোর এমন ধরণা.? ছিঃ.!
তোর কি মনে হয় আমি নাম্বার নিয়ে শিলার সাথে
কথা বলবো.? (আমি)
.
— অবশ্যই। (রিমি)
.
— নাউযুবিল্লা.! আল্লাহ, এটা শোনার আগে আমার
মরণ কেন হলো না.! (আমি)
.
— এই বান্দর ঢং একটু কম দেখা। (রেগে)
.
— আমি সত্যি বলছি। তাছাড়া তুই ভাবলি কেমন
করে আমি শিলার মত একটা পেন্তীর সাথে
কথা বলবো… (আমি)
.
— সত্যি তো, শিলার সাথে কথা বলবি না.? (রিমি)
.
— ১০০% সত্যি.! (আমি)
.
— আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, তুই আমার মাথা
ছুঁয়ে বল… (রিমি)
.
রিমির কথায় ওর উপর রাগ উঠলো।
ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে এমন করছে কেন.?
আমি রাগী স্বরে বললাম,
.
— তুই এত সিরিয়াস হচ্ছিস কেন, বল তো.?
সামান্য একটা ফোন নাম্বার চাইছি আর তাতেই
তুই শুরু হয়ে গেছিস।
কেন, ফোন নাম্বার দিলে কি সমস্যা শুনি.?
আর আমি যদি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলিও
তাতে তোর কি.? তোর এত সমস্যা কিসের.? (আমি)
.
— সমস্যা আছে আর সেটা অনেক বড় সমস্যা.!
যেটা তোর মত গাধা বুঝবে না।
আবুল কোথাকার.! (রিমি)
.
— আলতু-ফালতু কথা রাখ। নাম্বারটা দে… (আমি)
.
— আগে আমার মাথা ছুঁয়ে কসম খা
তারপর… (রিমি)
.
আমি আর কোনো উপায় না পেয়ে রিমির মাথায়
হাত দিয়ে বললাম,
.
— শিলার ফোন নাম্বারটা আমি সত্যি-ই রিফাতের
জন্য নিচ্ছি।
আমার ওই মেয়ের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই.!
এবার বিশ্বাস হলো নাকি আরো কিছুর কসম
খাওয়া লাগবে.? (আমি)
.
রিমি আর কিছু না বলে ওর মাথা থেকে আমার
হাত সরালো।
তারপর ফোনটা দিয়ে বলল,
.
— ঠিক আছে, শিলার নাম্বারটা নে… (রিমি)
.
আমি শিলার নাম্বারটা নিয়ে চলে আসতে লাগলাম।
হটাৎ আমার মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি উদয় হলো।
ভাবলাম, রিমিকে একটু রাগিয়ে দিলে কেমন হয়.?
যেই ভাবা সেই কাজ। আমি দরজার কাছে গিয়ে
রিমিকে ডাক দিলাম,
.
— রিমি…. (আমি)
.
— হুমম, কি.? (রিমি)
.
— একটা কথা বলবো.? (আমি)
.
— বল… (রিমি)
.
আমি দুষ্টু হাসি দিয়ে বললাম,
.
— আসলে, শিলার ফোন নাম্বার'টা আমি আমার
জন্যই নিলাম.!
শিলার সাথে প্রেম করবো তো, তাই।
ভালো করছি না.?
তাছাড়া শিলা মেয়েটা যথেস্ট সুন্দরী.!
ওর সাথে প্রেম করলে মন্দ হয় না। কি বলিস.? (আমি)
.
আমার কথা শুনে মুহূত্বেই রিমির মুখ অন্ধকারে
ছেয়ে গেল। সেই সাথে মুখে ঈষৎ লাল আভা
ফুটে উঠলো। ঠিক যেন সূর্যাস্তের আগ মুহূত্ব.!
আমি বেশ বুঝতে পারছি, রিমি রেগে গেছে।
শুধু রেগে নয় মাত্রারিক্ত পরিমাণে রেগে আছে।
.
কিন্তু আমি ভয় পেলাম না। রিমির রাগত চেহারাকে
বেশ উপভোগ করতে লাগলাম।
এদিকে,
রিমি রেগে গিয়ে সমানে হাত কচলাচ্ছে।
চোখ দু'টো লাল হয়ে গেছে।
রাগে ওর শরীর রীতিমত কাঁপছে.!
ভাবলাম, আগুনে একটু ঘি ঢেলে দেই, দারুণ জমবে.!
আমি দুষ্টু হাসি দিয়ে রিমিকে বললাম,
.
— কথা বলছিস না, কেন.?
শিলার সাথে রিলেশনে জড়ালে কেমন হবে.?
আমি ভাবছি, কাল শিলাকে প্রপোজ করবো.!
তুই কি বলিস.? (আমি)
.
রিমি এবার এক লাফে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
তারপর টেবিলের উপর রাখা স্কেলটা হাতে নিয়ে
চিৎকার করে বলল,
.
— তুই শিলার সাথে প্রেম করবি, না.?
তাকে প্রপোজ করবি.? (রিমি)
.
আমি হাসিমুখে উত্তর দিলাম,
.
— অবশ্যই। আর তুই শিলাকে নাম ধরে ডাকছিস
কেন.? শিলা তোর হবু ভাবি.!
আর ভাবিকে কি কেউ নাম ধরে ডাকে.?
আজ থেকে শিলাকে ভাবি বলে ডাকবি.! (আমি)
.
আমার কথা শুনে রিমি চোখ বড়-বড়
করে তাকালো।
দেখলাম, রিমি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
আমি এখান থেকে ওর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
শ্বাস নেওয়ার সময় রিমির সরু নাকের পাটি বারবার
ফুলে যাচ্ছে।
চেহেরায় এক অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
কিন্তু সেই সৌন্দর্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
রিমি প্রচন্ড রেগে গিয়ে সাপের মত হিসহিসিয়ে বলল,
.
— আজ তোকে আমি মেরেই ফেলবো রে, কুত্তা.!
তুই প্রেম করবি, তাই না.? দাঁড়া তোর প্রেম করার
শখ আমি মিটাচ্ছি… (রিমি)
.
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে রিমি আমার দিকে
তেড়ে আসলো। আমিও আর দাঁড়ালাম না।
দিলাম ঝড়ের বেগে একটা দৌঁড়.! এক দৌঁড়ে ঘরে
এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম।
রিমি আমার ঘরের সামনে এসে চিৎকার করে
বলতে লাগলো,
.
— এখন দরজা বন্ধ করলি কেন.? সাহস থাকলে
দরজা খোল…
তোর প্রেমের ভুত মাথা থেকে নামিয়ে দিচ্ছি।
বাঁদর কোথাকার.! এই চেহেরা নিয়ে প্রেম করবে রে…
আয়নায় নিজের চেহেরা দেখেছিস কখনো.?
তোর দিকে কোন মেয়ে ফিরেও তাকাবে না.! (রিমি)
.
— কে বলছে তাকাবে না.? আরে, কলেজে সব
মেয়ে আমার জন্য পাগল।
আমাকে এক পলক দেখার জন্য বারবার ছুটে আসে।
দেখিস, কাল তোর সামনে শিলাকে প্রপোজ করবো আর
শিলাও আমার প্রপোজ এ্যাক্সেপ্ট করবে.! (আমি)
.
— আমিও দেখবো কেমনে এ্যাক্সেপ্ট করে।
তোকে যদি শিলার হাতে মাইর না খাইয়েছি তো আমার
নাম রিমি না.! (রিমি)
.
তারপর রিমি আরো কিছুক্ষণ বকবক করে
চলে গেল।
আমি একটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শুয়ে পরলাম।
যাক, বাঁচা গেল।
.
.
.
রাতে সবাই মিলে খেতে বসেছি হটাৎ রিমি আমার
পা'য়ে ঠুয়া মারলো।
আমি চমকে উঠে রিমির দিকে তাকালাম।
দেখি, রিমি মাথা নিচু করে খাবার খাচ্ছে আর
মুচকি হাসছে। আমি কিছু বললাম না।
মা-বাবা পাশে আছে, খামোখা ঝামেলা করে লাভ নেই।
রিমিকে পরে দেখে নিবো।
.
আমি এসব ভাবছিলাম, হটাৎ রিমি আবার
আমার পা'য়ে ঠুয়া মারলো।
এবার বেশ জোরেই মেরেছে পেন্তীটা।
আমি ব্যাথা পেয়ে মৃদু স্বরে চিৎকার দিলাম।
.
— কি হলো.? (মা)
.
— কিছু না, মা। পা'য়ে মশা কামড়াচ্ছে। (আমি)
.
— কই ঘরে তো একটাও মশা নেই। (মা)
.
— এটা সেই মশা না মা, এটা হচ্ছে মানব মশা.! (আমি)
.
— কি.? (মা)
.
— কিছু না, বাদ দাও। (আমি)
.
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ খেতে লাগলাম।
একটুপর খেয়াল করলাম, কে যেন আমার পা'য়ে
সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আমি মাথা নিচু করে আড় চোখে নিচের
দিকে তাকালাম।
.
দেখি, রিমি আমার পা'য়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে।
আমি জানতাম এটা রিমির-ই কাজ হবে।
আমার রিমির উপর খুব রাগ উঠলো। পেন্তীটা শান্তিমত
খেতেও দিচ্ছে না।
আমি রাগী লুক নিয়ে রিমির দিকে তাকালাম।
আর তখন-ই রিমি আচমকা আমাকে চোখ টিপ মারলো। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম।
.
মনে মনে বললাম, "দাঁড়া পেন্তী তোর
ব্যবস্থা করছি।"
কথাটা বলে আমি খুব জোরে রিমির পা'য়ে
ঠুয়া মারলাম।
রিমির নরম, মসৃণ পা'টা জোরে চেপে ধরলাম।
.
রিমি ব্যথা পেয়ে বেশ জোরে চিৎকার দিল।
ওর চিৎকার শুনে মা-বাবা চমকে উঠলো।
মা হন্তদন্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
.
— কি হয়েছে রিমি.? এভাবে চিৎকার
দিলি কেন.? (মা)
.
রিমি আমতা আমতা করে বলল,
.
— ইয়ে… মানে… সেরকম কিছু না, আম্মু।
আসলে খুব মশা কামড়াচ্ছে তো, তাই। (রিমি)
.
— তোদের দু'জনকেই শুধু মশা কামড়াচ্ছে…
কই আমাকে আর তোর আব্বুকে তো
কামড়াচ্ছে না… (মা)
.
— সেটা আমাকে বলছো কেন.?
মশাকে গিয়ে বলো, তোমাকে আর আব্বুকে সে
কামড়াচ্ছে না কেন… (রিমি)
.
রিমির কথা শুনে সবাই হেসে উঠলাম।
তারপর সবাই খাওয়া শেষ করলাম।
.
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ছাদে গেলাম সিগারেট
খেতে। আজ সারাদিনে একটাও সিগারেট
খাওয়া হয় নি।
এখন যদি না খাই তাহলে ঘুমাতে পারবো না।
মাথাটা এমনিতেই প্রচন্ড ব্যথা করছে।
সিগারেট-ই এখন একমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ.!
.
আমি ছাদের রেলিং ঘেষে দাঁড়িয়ে সিগারেটে
আগুন ধরালাম।
সিগারেট টানছি আর আকাশের দিকে
তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছি।
এখন বেশ ভালো লাগছে। মাথা ব্যাথাটাও একটু
কমে গেছে।
.
— কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খাইস.? (রিমি)
.
মনের আনন্দে সিগারেট টানছিলাম হটাৎ কে
যেন পেছন থেকে কথাটা বলল।
আমি থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি পিছন ফিরে তাকালাম।
দেখি, রিমি দাঁড়িয়ে আছে আর ওর হাতে একটা ঝাটা.!
রিমিকে এভাবে দেখে আমার গলা শুকিয়ে গেল।
হাটু কাঁপতে লাগলো.!


পর্ব ৮

কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খাইস.? (রিমি)
.
মনের আনন্দে সিগারেট টানছিলাম হটাৎ কে
যেন পেছন থেকে কথাটা বলল।
আমি থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি পিছন ফিরে তাকালাম।
দেখি, রিমি দাঁড়িয়ে আছে আর ওর হাতে একটা ঝাটা.!
রিমিকে এভাবে দেখে আমার গলা শুকিয়ে গেল।
রাতের আবছা অন্ধকারে রিমিকে ঠিক রণমূর্তীর মত
লাগছে। আমার হাটু কাঁপতে লাগলো.!
.
আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,
.
— রি… রি… রিমি, তুই.? (আমি)
.
— হ্যা, জনাব আমি.! তা আপনি কোন ব্র্যান্ডের
সিগারেট খাচ্ছেন.? (রিমি)
.
রিমির কথা শুনে বোকা বোকা ভাব
নিয়ে বললাম,
.
— ইয়ে মানে… আসলে… আমি সিগারেট
খাই না। এমনি টেস্ট করছিলাম।
দেখলাম খেতে কেমন লাগে। (আমি)
.
— ওহ্, তাই বুঝি.? (আমার কাছে এগিয়ে এসে)
.
— হুমম, সত্যি.! (আমি)
.
— তা সিগারেট খেতে কেমন লাগলো.? (রিমি)
.
— একদম ফালতু.! আমি বুঝিনা মানুষ কিভাবে
এসব ফালতু জিনিস খায়…
আমার তো বমি আসছে, ওয়াক থু.! (আমি)
.
— কুত্তা, সিগারেট খেয়ে এখন সাধু সাজা
হচ্ছে, তাই না.? কানাকে বৃন্দাবন দেখাচ্ছিস.?
আজ একমাস ধরে তোকে ফলো করছি।
আমি অনেক আগেই টের পেয়েছি তুই সিগারেট খাইস
কিন্তু হাতে-নাতে ধরতে পারছিলাম না।
আজ যখন পেয়েছি এটাই তোর জীবনের শেষ দিন হবে।
আজ মেরে তোর চামড়া গুটিয়ে দিব.! (রিমি)
.
রিমি প্রচন্ড রেগে কথাগুলো বলেই আমাকে বেদাম
মারতে লাগলো। আমি সর্বশক্তি দিয়ে রিমিকে থামানোর
চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।
এই পেন্তীটার সাথে কোন কালেই আমি ঝগড়া বা
মারামারিতে পেরে উঠে নি। আজও তার ব্যতিক্রম
হলো না।
.
আমি কোনো উপায় না পেয়ে দৌঁড়ে ছাদ
থেকে চলে আসলাম।
ঘরে এসে তাড়াহুরো করে দরজা বন্ধ করে লম্বা
লম্বা শ্বাস নিতে লাগলাম।
আরেকটু হলে পেন্তীটা আমাকে মেরেই ফেলতো.!
এদিকে,
রিমি আমার ঘরের কাছে এসে চিৎকার করে
আমাকে ডাকতে লাগলো।
.
— এই কুত্তা, দরজা খোল.! (রিমি)
.
আমি কোনো কথা না বলে ভয়ে চুপ করে
বসে রইলাম।
আমি জানি, দরজা খুললেই রিমি আমাকে
আবার মারবে।
আর আমি যদি প্রতিবাদ করি, তাহলে বাড়ির সবাইকে
ডেকে আমার নামে মিথ্যাে নালিশ করবে।
তখন আরো বিপদ.! বাবার হাতে জুতা পেটা আর মা'র
হাতে খুন্তির বারি খাওয়া লাগবে.!
.
— ওই বান্দর, এখনো দরজা খুলছিস না
কেন.? (রিমি)
.
আমি এবার আর চুপ থাকতে পারলাম না।
ভয়ার্ত কন্ঠে বললাম,
.
— দরজা খুললে তুই আমাকে মারবি.? (আমি)
.
— মারবো না, তুই দরজা খোল। (রিমি)
.
— না, খুলবো না। (আমি)
.
— না খুললে, এক্ষুণি আম্মু আর আব্বুকে ডেকে
বলবো তুই সিগারেট খাইস.!
এখন বল ভালই-ভালই দরজা খুলবি নাকি
আব্বুকে ডাকবো.? (রিমি)
.
আমি আর কোনো উপায় না পেয়ে ধীরেধীরে
দরজাটা খুললাম।
দেখি, বাইরে রিমি ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে নিঃশব্দে
কান্না করছে। আমি কিছু বলতে যাবো তখন-ই হুট
করে রিমি আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
তারপর হাউ-মাউ করে কাঁদতে লাগলো।
.
রিমির এমন কান্ডে আমি হতবাক হয়ে গেলাম।
অবাকের চরম মাত্রায় পৌছে গেলাম।
তব্দা খেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমার মাথায় আসছে না, রিমি হটাৎ কান্না
করছে কেন.? কি হলো তার.?
.
আমি ভাবাভাবি বাদ দিয়ে রিমিকে ধরে ঘরে
নিয়ে আসলাম।
রিমি এখনো আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
আমি রিমিকে ঘরে নিয়ে এসে বিছানার উপর বসালাম। রিমি ছোট বাচ্চার মত গুটিশুটি মেরে বসলো।
আমি শান্ত গলায় বললাম,
.
— কি হয়েছে, তোর.? হুট করে এভাবে কান্না
করছিস কেন.? (আমি)
.
রিমি আমার কথার কোন উত্তর দিল না।
সে তার কান্নার গতি আরও বাড়িয়ে দিল।
আমি আবার বললাম,
.
— কি হলো বল.? কান্না করছিস কেন.?
আরে, কান্না করার কথা তো আমার.!
আমি এতগুলা মাইর খেলাম, কোথায় আমি কাঁদবো
তা না উল্টো তুই কাঁদছিস.! (আমি)
.
রিমি ফোঁফাতে-ফোঁফাতে বলল,
.
— কুত্তা, তুই সিগারেট খাইস কেন.? (রিমি)
.
রিমির কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম,
.
— আমি সিগারেট খাই বলে তুই কাঁদছিস.? (আমি)
.
— হুমম। (রিমি)
.
— কেন.? (আমি)
.
— কুত্তা, তোর কিছু হয়ে গেলে আমাদের কি হবে.?
আমার কথাটা একবার ভেবেছিস.?
তোর কিছু হলে মরে যাবো আমি.!
জানিস না, সিগারেট খাওয়া খারাপ.?
ক্যান্সার হয়.! (রিমি)
.
রিমি কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলল।
আমি হা করে ওর সেসব কথা শুনলাম। আমি রিমির
কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না।
কিন্তু কেন জানি না আমার বুকের ভিতরটা মোচড়
দিয়ে উঠলো। আমি কেঁপে উঠলাম।
সরু চোখে রিমির পানে তাকালাম।
.
কাঁদলে রিমিকে খুব সুন্দর দেখায়.!
কান্নামাখা চেহেরায় একটা মায়া ফুটে উঠে।
যার নাম আমার জানা নেই।
কখনো জানার চেষ্টাও করি নি! রিমির সেই মায়ায়
মুগ্ধ হতে সবাই বাধ্য.!
যেমনটা আমি হয়েছি, বহুবার, বারংবার, অসংখ্যবার
আর ভবিষ্যতেও হবো.! হতে থাকবো.!
আমি রিমিকে হাসানোর জন্য বললাম,
.
— এই পেন্তী, আমার কিচ্ছু হবে না।
আর হলেও তুই তো আছিস আমার সেবা
করার জন্য.!
আমার বিনা বেতনের চাকরানী.! (আমি)
.
আমার কথা শুনে রিমি হাসার বদলে রেগে গেল।
আমার দিকে চোখ গরম করে তাকালো।
কিছু বলতে যাবে হটাৎ ওর হেঁচকি উঠে গেল।
আমি এক গ্লাস পানি রিমির দিকে এগিয়ে দিলাম।
পানি'টুকু খাওয়ার পর রিমি একটু স্বাভাবিক হলো।
ইতিমধ্যে কান্নাও থেমে গেছে।
.
হটাৎ রিমি আমার হাত ওর মাথার উপর
রেখে বলল,
.
— কথা দে, আর কোন দিন এসব ছাঁইপাশ
খাবি না… (রিমি)
.
— আরে বললাম তো, আমার কিছু হবে না…
খামোখা চিন্তা করছিস। (আমি)
.
— চিন্তা করার কারণ আছে বলেই করছি।
তোর কিছু হলে আমাদের সবার কি হবে.?
একবার ভেবেছিস সে কথা.? আমার কথা একবার
ভেবেছিস.? বোঝার চেষ্টা কর, প্লিজ.! (রিমি)
.
আমি রিমির মাথা থেকে হাত সড়িয়ে বললাম,
.
— ভাবার দরকার নেই আর বোঝারও
দরকার নেই। (আমি)
.
— জানিস, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে
বড় ব্যর্থতা.!
তুই আমাকে কোন দিনও বোঝার চেষ্টা
করলি না… (রিমি)
.
কথাটা বলেই রিমি আবার কান্না শুরু করে দিল।
আমি পড়লাম মুশকিলে। এই মেয়েটা অল্পতেই কেঁদে
দেয়। আমি কোনো উপান্তর না পেয়ে বললাম,
.
— আচ্ছা, আর কখনো সিগারেট খাবো না।
খুশি এবার.? (আমি)
.
— খুব খুশি.! (মুচকি হেসে)
.
তারপর রিমি ওর নরম-কোমল হাত দিয়ে
আমার গাল দু'টো চেপে ধরলো।
নরম সুরে বলল,
.
— মাইরগুলো খুব লেগেছে, তাই না রে.? (রিমি)
.
আমি ঢং দেখিয়ে বললাম,
.
— হুমম, খুব লেগেছে। ব্যাথায় আমার প্রাণ বেরিয়ে
যাওয়ার মত অবস্থা.! (আমি)
.
— আমি স্যরি.! বুঝতে পারি নি তুই এত ব্যাথা
পাবি। (রিমি)
.
কান্নামাখা গলায় বলল রিমি। আমি দুষ্টু হাসি
দিয়ে বললাম,
.
— এখন আর স্যরি বলে কি লাভ.?
স্যরি বললে কি আর ব্যাথা কমে যাবে.? (আমি)
.
— হুমম, তা কোথায় ব্যাথা করছে.? (রিমি)
.
— পা'য়ে.! (আমি)
.
— ওহ্.! আমি তেল মালিশ করে দিবো.?
তাহলে হয় তো ব্যাথা কমে যাবে.! (রিমি)
.
রিমির কথা শুনে চিন্তা করলাম, সুযোগের
স্বদব্যবহার করা উচিত।
শরীর এমনিতেই প্রচন্ড ব্যাথা করছে।
মালিশ করে নিলে মন্দ হয় না.!
আমি বললাম,
.
— ঠিক আছে, মালিশ করলে কর। (আমি)
.
রিমি আর কিছু না বলে তেলের বাটি এনে আমার
পা দু'টো তেল মালিশ করতে লাগলো।
আমি চোখ বন্ধ করে রিমির কোমল হাতের
ছোঁয়া অনুভব করতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ মালিশ করার পর রিমি বলল,
.
— এখন কেমন লাগছে.? ব্যাথা কমেছে.? (রিমি)
.
— হুমম। (হাসিমুখে)
.
— ভালো। এখন একটু উঠে বস, আমি বিছানাটা
ঠিক করে দেই।
রাত অনেক হয়েছে, এখন ঘুমিয়ে পর। (রিমি)
.
আমি বিছানা থেকে উঠে সোফায় বসলাম আর
রিমি আমার বিছানা ঠিক করতে লাগলো।
হটাৎ বিছানার উপর থাকা আমার ফোনটা বেঁজে উঠলো।
আমি দূর থেকে আবছা ভাবে দেখলাম, মেঝ মামার
মেয়ে রিপা ফোন দিয়েছে।
আমি ফোন রিসিভ করতে যাবো তার আগেই রিমি
ফোন রিসিভ করে কানে ধরলো…

 

চলবে….. ????
সেয়ার করবেন এবং লাইক, কমেন্ট করবেন।

 

পর্ব ৯-১০ পড়তে এখানে ক্লিক করুন: শিল্প ও সাহিত্য

 

 

দৃষ্টি আকর্ষণ

 

প্রিয় দর্শক বৃন্দ, আপনার লেখা বাস্তব-কাল্পনিক গল্প, আপনার জানা ভুতের গল্প, কবিতা, ছন্দ, উক্তি, লিখে পাঠিয়ে দিন [email protected] এই ঠিকানায়, যা পোস্ট করা হবে https://www.nbs24.org এর ওয়েবসাইটে।


মনে রাখবেন গল্প পাঠানো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০০ শব্দ লিখতে পারবেন। আপনি গল্প পর্ব ভিত্তিকও করতে পারবেন।
ছন্দ সর্বনিম্ন ১০ টি, উক্তি সর্বনিম্ন ১০ টি হতে হবে।


মনে রাখবেন আপনার গল্প, কবিতা, ছন্দ, উক্তি করো থেকে নকল করে পাঠানো হলে পোস্ট করা হবে না। 
আপনার পাঠানো গল্প, কবিতা, ছন্দ, উক্তি, ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পোস্ট করে ফিরতি মেইলে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


আপনার নাম: 
বিষয়ের উপর ভিত্তে করে একটি ছবি, আপনি চাইলে আপনার ছবিও দিতে পারেন।
আপনার ঠিকানা: 
আপনার ইমেইল:

 

 

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *