ঢাকা, বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
পিএমকের উৎপাদিত জারবেরা ফুলের টিস্যু কালচার চারা বিতরণ
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

পিএমকের উৎপাদিত জারবেরা ফুলের টিস্যু কালচার চারা বিতরণ

PACE (Promoting Agricultural Commercialization and Enterprises) প্রকল্পের আওতায় পিএমকে- পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির 'ফ্লোরাল বায়োটেক' টিস্যু কালচার ল্যাবে উৎপাদিত জারবেরা ফুলের টিস্যু কালচার চারা কৃষকদের মাঝে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আশুলিয়াযর মমতা পল্লীতে অবস্থিত টিস্যু কালচার গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিতরণ করা হয়েছে। 

বিতরণকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পিকেএসএফের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাভার কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ, পিএমকের টিস্যু কালচার ল্যাবের পরামর্শক ড. আথার-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন নাহার।

সাভার কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, বর্তমানে সাভারের ২০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। এছাড়াও আমরা ১৩ রংয়ের জারবেরা সফলভাবে চাষ করছি। জারবেরা ফুলচাষিরা বছরে ৪-৫ লাখ টাকা লাভ করতে পারেন। পিএমকে যদি আমাদের চাষিদের উন্নতমানের চারা দিতে পারে, আমরা তাদের এখান থেকে চারা সংগ্রহ করতে উদ্বুদ্ধ করব।

পিএমকের টিস্যু কালচার ল্যাবের পরামর্শক ড. আথার-উজ-জামান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে এখন বেশকিছু ফুলের টিস্যু কালচার হচ্ছে। পিএমকে জারবেরার সবচেয়ে বড় টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করেছে। বর্তমানে আমরা জারবেরার ৮টি প্রজাতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এখন আমাদের কাছে 'কালচার ভেসেল' অর্ডার করছে, যা পিএমকে ও দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। 

বিরুলিয়ার জারবেরা চাষি মনিরুল হক বলেন, জারবেরা ফুলের চাষের জন্য মাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কৃষি বিভাগের সাহায্যে মাটি পরীক্ষা করে জারবেরা চাষ শুরু করতে হবে। বর্তমানে আমরা যে কীটনাশক পাচ্ছি তার মান খুবই খারাপ, তাই সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পিএমকের চারার মান ভালো হলে আমরা এখান থেকে চারা নেব। ফুলচাষিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা, কোল্ডস্টোর ও ভালো চারা খুবই প্রয়োজন। এছাড়াও আমাদের মতো ফুলচাষিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার বলেন, ফ্লোরাল বায়োটেক নামটি প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণ করে। আমি পল্লী মঙ্গল কর্মসূচিকে তাদের এই কাজের জন্য সাধুবাদ জানা‍ই। পিকেএসএফ তাদের সব ধরনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছে। আমরা কৃষকদের সহায়তার জন্য ফগার মেশিন দেয়ার ব্যবস্থা করব। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে যেসব মসলা ফসলের চাহিদা খুব বেশি তার থেকে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। কৃষকরা‍ই আমাদের দেশের মেরুদণ্ড, তা করোনাকালে প্রমাণ হয়েছে।  সরকার আপনাদের কাছে ঋণী। পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির জন্য যে কোনো সহায়তার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত।

সভাপতির বক্তব্যে পিএমকের প্রধান নিবার্হী কামরুন নাহার বলেন, সারাবিশ্বে ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা বিশ্বের মাত্র  ০.৩% চাহিদা পূরণ করতে পারছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন সবজির টিস্যু কালচার হলেও জারবেরা ফুলের টিস্যু কালচার এই প্রথম। আমরা জারবেরা ফুলের চারার আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যারা আমাদের এই সুন্দর প্রজেক্টকে আলোর মুখ দেখাতে সহায়তা করেছেন আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ডাক্তার সুদিপ্তা কবির, পিএমকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিচালক মো. আকতার আলী, পিএমকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেখ সেলিম, সৈয়দ আকমল, মো. বাবুল হোসেনসহ স্টাফবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *