ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের ভোগান্তি চরমে
মোঃ আবুল হোসেন সরদার

শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের ভোগান্তি চরমে

পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় প্রায় দেড় মাস ধরে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাবাজার ফেরিঘাট স্থানান্তরিত করা হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝির ঘাটে। কিন্তু নদীতে নব্যতা সংকটের কারণে এ রুটেও ফেরি চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে যোগযোগের ক্ষেত্রে চরম ভোগন্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায় দেড় মাস ধরে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার অথবা শিমুলিয়া-মঙ্গলমাঝির ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ রুটে চলাচলকারী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। 

দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম নৌপথ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া পার হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে প্রায় ১শ’ ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। অপরদিকে দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন প্রায় ২শ’ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে শরীয়তপুরের নরসিংহপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরিতে পার হয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এতে এক দিকে সময় ও অন্যদিকে অর্থের অপচয় হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়াও উভয় ঘাটেই শত শত গাড়ির যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে গাড়ি চালকরা জানিয়েছেন। এ্যাম্বুলেন্সসহ পণ্য পরিবহনে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ফলে সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন মারাত্মক বিপাকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বার বার পদ্মা সেতুর পিলারের সাথে ফেরি ধাক্কা লাগায় মুন্সিগঞ্জের মাওয়ার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ১৮ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের বাংলাবাজার ফেরিঘাটটি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝির ঘাটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২১ আগস্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝির ঘাটে নতুন করে ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করে। এখানে ফেরিঘাট সচল করার জন্য তড়িগড়ি করে পন্টুন স্থাপনসহ ছোট পরিসরে এ ঘাট দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি দপ্তরের জরুরি গাড়ি পারাপার করার সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ নৌরুটে ফেরি চলাচলের যাবতীয় কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটেও ফেরি চালু করা সম্ভব হয়নি। 

স্থানীয় ট্রাক ড্রাইভার মোক্তার সরদার, আজিজ মিয়া, সুলাইমান শেখ বলেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। 

পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম মাদবর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনছি আমাদের মঙ্গল মাঝিরঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হবে। কবে নাগাদ শুরু হবে তা কেউ বলতে পারে না। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কষ্ট কবে লাঘব হবে তা কেউ জানে না। 

মঙ্গলমাঝির লঞ্চঘাটের ইজারাদার মোখলেছ মাদবর বলেন, মঙ্গলমাঝির ঘাটে ফেরিঘাট স্থাপন করায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখনও কোন ফেরি চলাচল না করায় আমরা হতাশ হচ্ছি।

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলচলে সমস্যা হওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীতে নব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-মঙ্গলমাঝির ঘাট দিয়ে ফেরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। নদীতে বিভিন্ন স্থানে নব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নদীতে ড্রেজিং চলছে। খুব শীঘ্রই সমস্যা কেটে যাবে। বিকল্প পথ হিসেবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর এবং আরিচা ঘাট দিয়ে ফেরিতে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গাড়ি পারপার হতে পারে তার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ট্রাফিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ ইনাম বলেন, শিমুলিয়া-মাঝিরঘাট রুটে কবে থেকে ফেরি চলাচল শুরু করবে তা আমরা বলতে পারি না। এখানে নদীর নাব্যতা সংকট রয়েছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *