ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
ভোর থেকে গুলির লড়াই সোপিয়ানে, তিন লস্কর জঙ্গিকে নিকেশ করল সেনাবাহিনী
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ভোর থেকে গুলির লড়াই সোপিয়ানে, তিন লস্কর জঙ্গিকে নিকেশ করল সেনাবাহিনী

 একের পর এক এনকাউন্টারে উত্তপ্ত উপত্যকা (Jammu and Kashmir)। জঙ্গিদের খোঁজে কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় যৌথ ভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কাশ্মীর পুলিশ। সোমবার থেকে দফায় দফায় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ চলছে। গতকাল জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে এক সেনা অফিসার সহ চারজনের শহিদ হওয়ার খবর মিলেছে। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই জঙ্গিদের ডেরায় অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে তিন সন্ত্রাসবাদীকে।

কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, সোপিয়ানে ফের জঙ্গি উপদ্রব বাড়ছিল। পাক মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা গোষ্ঠীর জঙ্গিরা নতুন করে নাশকতার ছক কষছিল। লস্কর জঙ্গিদের খোঁজে গতকাল থেকে অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, সোপিয়ানের একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, আজ ভোরে সোপিয়ানের কয়েকটি জায়গা ঘিরে ফেলে বাহিনী। শুরু হয় গুলির লড়াই। তিন লস্কর জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর।

গতকাল অনন্তনাগে ও বান্দিপোরাতেও সেনার গুলিতে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই জঙ্গির নাম ইমতিয়াজ আহমেদ দার। সে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।


কাশ্মীরে জঙ্গিদমনে এক বড়সড় তল্লাশি অভিযানে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তারা আটক করেছে ৭০০-রও বেশি সাধারণ মানুষকে! অভিযোগ, আড়াল থেকে জঙ্গিদের মদত দিতেন তাঁরা। কেউ কেউ সারা বছর আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-ই-ইসলামির হয়ে নাশকতামূলক কাজ করতেন। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই যুবক বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা দক্ষিণ কাশ্মীরের বাসিন্দা। গত এক সপ্তাহে কাশ্মীরে নিহত হয়েছেন সাত জন সাধারণ মানুষ, যার মধ্যে রয়েছেন কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন। এর পরেই অপরাধীদের খতম করতে উঠে-পড়ে লেগেছে প্রশাসন।

মার্কিন কংগ্রেসশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট চমকে দিয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে নিশ্চিন্তে শক্তি বাড়িয়ে চলেছে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাসী সংগঠন। পাক জঙ্গিরা সিরিয়ার থেকেও বেশি বিপজ্জনক। এদের মধ্যে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা সহ অন্তত পাঁচটি জঙ্গি গোষ্ঠীর টার্গেটে রয়েছে ভারত। পাকিস্তানের মদতেই উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলো পরিপুষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিশানা করছে জঙ্গিরা।

কাশ্মীর পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেছেন, “আমরা এই আক্রমণের চেনটা ব্রেক করতে চাইছি। আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন শক্তি বাড়াচ্ছে। এর পর থেকেই সহজ লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে কাশ্মীরে খুন করা হচ্ছে একের পর এক সাধারণ মানুষকে। এই অভিযানের পরে তাদের শক্তিতে টান পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।  খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *