ঢাকা, রবিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
দেশের সীমান্তে হামলা সহ্য করা হবে না’
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

দেশের সীমান্তে হামলা সহ্য করা হবে না'


ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, দেশের সীমান্তে হামলা হলে সহ্য করা হবে না। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) গোয়ায় ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রদঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রয়াত মনোহর  পার্রিকরের নেতৃত্বে  সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আমরা এই বার্তাটুকু দিতে পেরেছিলাম যে, আমাদের সীমান্ত  এলাকায় কাউকে বরদাস্ত করা হবে না। অনেক সময় কথায় সমস্যা মেটে, কখনও প্রয়োজন হয় পাল্টা জবাবের।’

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস ক্ষমতাসীন বিজেপিকে টার্গেট করে আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘দেশে বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে। দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। প্রত্যেকদিন পেট্রোল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। ফলে, এক্ষেত্রে সুকান্ত ভট্টাচার্যের একতা বিখ্যাত কবিতা আছে-‘যখনই প্রশ্ন ওঠে চাকরি ও খাদ্য, সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য’। যুদ্ধ জিগির ছাড়া ওদের বাঁচার কোনও রাস্তা নেই। জনগণের ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার রাস্তা হিসেবে বার বার গত ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময়েও দেখেছি একই জিনিষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে অর্থাৎ মানুষের জীবনের সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এরা নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ইত্যাদির কথা বলে। এটা বোঝা যাচ্ছে যে,  ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগান (সবার সঙ্গে সকলের উন্নয়ন) এবং যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল লোকসভা নির্বাচনের আগে, সেগুলো  চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। মানুষের জীবন জীবিকার সুরক্ষা দিতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যর্থতা আড়াল করার জন্যই আজকে এভাবে যুদ্ধের জিগির তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব করেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দেখেছি শেষ রক্ষা হয়নি এবং আগামীদিনেও হবে না।’


এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেন, ‘যদি এখন ভারতে জঙ্গি হামলার ঘটনা  ঘটে,  তা হলে আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জন্য আমাদের সমর্থন থাকবে। ঠিক  যেমন আগেরবার হয়েছিল। কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা  কেন রুখতে পারলেন না মোদি-শাহরা? এটাই কী তাঁদের ব্যর্থতার অন্যতম নজির  নয়?’

ভারতের উরি, পাঠানকোট এবং গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৯  সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত।

আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। বিজেপির সিনিয়র নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার দু’টি সরকারী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২২ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির প্রস্তুতির খবর নিতে গোয়ায় এসেছিলেন।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল এবং  অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও(আপ) আগামীবছর গোয়ায়   বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মাঠে রয়েছে। মমতা নিজেও গোয়ায় প্রচার করবেন। খবর পার্সটুডে/২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: