ঢাকা, রবিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
একসময়ের দরিদ্র দেশ চীন, যেভাবে করে কয়েক দশকের মধ্যেই প্রযুক্তিতে এতটা উন্নত করেছে | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


আসসালামু আলাইকুম; বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছেন। বর্তমান বিশ্বের উন্নত এবং প্রভাবশালী দেশ হিসেবে চীন দেশের কথা আমাদের সবার মনে আছে। কিন্তু চীন দেশ সম্পর্কে আমরা হয়তো বা অনেকটাই কম জানি অথবা চীন দেশের এত উন্নতি করার পেছনের গল্প গুলো হয়তোবা আমরা এখন জানিনা। তবে সমস্যা নেই, আজকের এই টিউনে আমি চীন সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করব।

চীন অর্থনৈতিক বিস্ফোরণের দেশ। বর্তমান সময় আমেরিকার পর যে দেশের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সে দেশের নাম চীন। একবিংশ শতাব্দীর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্বনির্ভর জাতি হিসেবে প্রথমে চীনের নাম উচ্চারণ করা যায়। প্রযুক্তির দৌড়ে চীনের কোন জুড়ি নেই। সবচেয়ে বেশি হার্ডওয়্যার বলেন কিংবা মোবাইল ফোন চীনের চেয়ে কে আর এগিয়ে আছে?

সারা বিশ্বের সর্বমোট জাহাজের প্রায় ৫০% চীন থেকে প্রস্তুতকৃত। এছাড়াও সিমেন্ট শিল্প থেকে শুরু করে নানা প্রকার কনস্ট্রাকশন শিল্পের সারাবিশ্বে রাজত্ব করছে আধুনিক চীন। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের বসবাস এবং যাদের অধিকাংশের পোশাক সরবরাহ করে চীন। অর্থাৎ বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে চীন প্রথম অবস্থানে রয়েছে। তবে বিশ্বে পোশাক উৎপাদন এবং রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

তবে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের চাইতে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের প্রতিটি দেশ চীনের চাইতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক দূরে রয়েছে। সারা বিশ্বের Luxury পণ্যের বড় উৎপাদক চীন। ‌ এছাড়া আপনি আপনার ব্যবহৃত নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর গায়েও made-in-china লেখা দেখতে পারবেন। অর্থাৎ, এই মুহুর্তে আপনি যে সামগ্রীটি ব্যবহার করেছেন এটিও হয়তোবা চীনে তৈরি।

সমগ্র বিশ্বে এভাবে প্রভাব বিস্তার করা চীন খুবই অল্প সময়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে। ১৯৯০ সালের আগেও চীন ছিল বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি। তো, এত অল্প সময়ে কিভাবে চীন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেল এটি অবশ্যই আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। চীন কিভাবে এত অল্প সময়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেল এটি জানতে হলে দেখতে থাকুন সম্পূর্ণ টিউনটি। এছাড়া সর্বশেষে আমি আলোচনা করব কিভাবে চীন বিভিন্ন দেশকে ঋণ দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

চীন কিভাবে বিশ্বের এতটা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল?

চীনের সভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও চীন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুন্নত হিসেবেই পরিচিত ছিল। যেখানে চীন একসময় অন্যান্য দেশের মতো দরিদ্র দেশ ছিল। চীন অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের কে শক্তিশালী করার জন্য ১২ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল, এত ছেলে-মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে, কোথায় চাকরি পাবে তারা? যেখানে এত হাজার হাজার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদেরকে চাকরি দেবার মতো ব্যবস্থা তাদের তখন ছিল না।

এসময় চীন সরকার ছেলেমেয়েদেরকে আধুনিক শিক্ষা দিয়েছিল ট্রেড কোর্সে। ‌ কারিগরি শিক্ষা শেখার মাধ্যমে তাদের বাস্তব জীবনে সেটি প্রয়োগ করতে বেশি সময় লাগেনি। এতে করে প্রত্যেকটি বাড়ি করে উঠলো একটি করে কারখানায় হিসেবে। যেখানে পরিবারের সবাই কাজ করে এবং এতে করে বরং কোন কারখানা করার দরকার নেই। এতে করে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেল।

বর্তমানে প্রতিটি পণ্য সস্তায় উৎপন্ন করার ক্ষমতার দিক থেকে চীনের ধারে কাছে কেউ যেতে পারেনি‌ এবং এটি যে পারবেও না সেটিও অনুমান করা যায়। দক্ষ জনগোষ্ঠী এবং পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক সুবিধা থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগের বড় একটি আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় চীন। চীনে প্রথম দিকে অল্প পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করে নেওয়া সম্ভব ছিল। আর সে কারণেই সেখানে কোন পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায়। যেহেতু সে সময়ে চীনে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে একটি করে ছোট কারখানার মত গড়ে তুলেছিল এবং সবাই কর্মজীবী হবার কারণে সে দেশে উৎপাদিত পণ্য গুলোর দাম কমে যায়।

আর এই সুযোগটি নিতে থাকে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো। যেহেতু সেসময় চীনে উৎপাদন খরচ অনেক কমে গিয়েছিল আর সেজন্য অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে সে সময় কারখানা স্থাপন করতে শুরু করে। এরকম ভাবে আপনি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন যে, বিশ্বের সবচাইতে দামি স্মার্টফোন আইফোন; কিন্তু আইফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাদের আইফোন তৈরি করে চীনে। শুধু আইফোন তৈরি করার ক্ষেত্রে নয়, বরং আপনি বর্তমানে যে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করছেন এটিও চীনের তৈরি হবার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি। যদি আপনার মোবাইলটি চীনের তৈরি নাও হয়ে থাকে, তবুও এটি বলা যায় আপনার স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের যেকোনো একটি চীনের তৈরি।

বলতে গেলে, আপনার স্মার্টফোনের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ চীন থেকে আমদানিকৃত। হয়তোবা চীন থেকে আমদানি করে এসব যন্ত্রাংশগুলো পরবর্তীতে আপনার ফোনে এ দেশে এনে সংযোজন করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্মার্টফোন প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে চীনের হাত নেই। বরং, বিশ্বের অনেক দামি দামি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনে গাড়ি তৈরি করে থাকে। এছাড়া যেকোনো পন্যের কাঁচামাল উৎপাদনে চীন সবার থেকে এগিয়ে।

সৌর বিদ্যুতের জন্য বিশ্বের যত সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় ৭০% উৎপাদন চীনে হয়ে থাকে। এছাড়া বর্তমান বিশ্বের সিমেন্ট এবং সিরামিক শিল্প পুরো বিশ্বে রাজত্ব করছে চীন। যেখানে চীনের কর্মীদের বেতন নব্বইয়ের দশকে অনেক কম ছিল, কিন্তু ২০০০ সালের উপরের দিক থেকে চীনের শ্রমিকদের বেতন হু-হু করে বাড়তে থাকে। বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে চীনের শ্রমিকদের বেতনের অংকটি একই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এ থেকে বুঝা যায় যে, কম বেতনের কারণে এবং কম পারিশ্রমিকে এর কারণে চীন থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া যায় বলে চীনের এত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যাপারটি তা নয়।

চীনের উন্নতি করার পেছনে কাজ করছে চীনের শ্রমিকদের উদ্যোগে এবং পরিশ্রম হওয়ার বিষয়টি। চীনের শ্রমিক কোনো একটি কাজে অনেক দক্ষ হওয়ার কারণে তাদের বেতনও বিশ্বের উন্নত দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে মিল রেখে হয়ে থাকে। যেখানে ভারত কিংবা বাংলাদেশ-এর শ্রমিকেরা প্রতি ঘন্টায় কোনো একটি কাজে পাঁচটি পণ্য তৈরি করার সক্ষমতা রাখে, সেখানে চীনের শ্রমিকেরা প্রতি ঘন্টায় ৩০ টি পণ্য উৎপাদন করবে। এ থেকে বোঝা যায় যে, চীনের শ্রমিকেরা যথেষ্ট দক্ষ এবং এ কারণে তাদের বেতন বেড়ে যাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক। একই সময়ে অন্যান্যদের তুলনায় অধিক পরিমাণে পণ্য উৎপাদন করার কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা আর থাকেনা।

যদি কোন পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে না যায়, তবে একই সময় অন্যান্যদের চাইতে বেশি পণ্য উৎপাদন করার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কম হবে। আর এতে করে কোন একটি পণ্য অন্যান্যদের তুলনায় কম মূল্যে ছাড়া সম্ভব হবে। চীনের শ্রমিকদের এমন দক্ষতা অর্জন করার পেছনে তাদের কারিগরি শিক্ষাকে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া চীনেরা যখন বাজারে যায়, তখন বাজারের পণ্য গুলো নিয়ে রীতিমত গবেষণা করা শুরু করে দেয়। অর্থাৎ, বাজার সম্পর্কে তাদের প্রখর বুদ্ধিমত্তা, তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি করার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।

কোন একটি পণ্যের বাজারে সংকট বেড়ে গেলে, তারা সেই পণ্যের উৎপাদন বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অন্যান্য পণ্যের গুলোর দাম অনেক নিচে নেমে যায়। ‌এর উদাহরণ আপনারা হয়তোবা এদেশেই লক্ষ্য করেছেন। চীনের মোবাইল বাজারে আসার আগে এদেশের মোবাইল ফোন এর দাম ছিল বহুগুণে বেশি। এরপর চীনের ফোন বাজারে আসার পর অন্যান্য দেশের ফোনের বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসে এবং সেইসঙ্গে আস্তে আস্তে কমতে থাকে মোবাইল ফোনের দাম।

চীন এভাবে করে পুরো বিশ্বে মার্কেটের দখল নিতে থাকে। এর ফলে কোন দেশই চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় নামতে পারেনি। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে চীন একচ্ছত্র আধিপত্যের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে তাদের পণ্যের সবচেয়ে দাম কম। দামে কম হলেও কিন্তু চীনের পণ্যগুলো মানের ক্ষেত্রে মোটেও কম নয়।

দামের সঙ্গে মানের বিশাল বড় পার্থক্য না থাকার কারণে চীনের পণ্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং এ কারণে সকল দেশ তাদের থেকে পণ্য আমদানি করে থাকে। যেমনভাবে আমরা আমাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলোর গায়ে সবসময় made-in-china লেখা দেখতে পারি। এমনকি ছোট্ট একটি “সুই” ও চীন থেকে আমদানি করতে হয়। বলতে গেলে, আমাদের ব্যবহার্য নিত্যদিনকার সকল জিনিসপত্রের মধ্যে চীনের তৈরি পণ্যের গুলোর সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা যে সমস্ত সস্তা ইলেকট্রনিক জিনিস ব্যবহার করিনা কেন, সেগুলোর সমস্তই প্রায় চীন থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

এছাড়া পৃথিবীতে এমন কোন দামী পণ্য নেই, যেগুলোর চাইনিজ ভার্সন নেই। যেমন নকল আইফোন, নকল স্যামসাং, এছাড়া অন্যান্য নকল স্মার্টফোন ইত্যাদি এর তালিকা বলে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র যে নকল আইফোন এবং স্মার্টফোন তৈরি করার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে তা না। বরং, সকল দামি দামি পণ্যের নকল ভার্সন চীনে তৈরি হয়ে থাকে। চীন কিভাবে এটি করছে, সেটি হয়তোবা আপনারা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন।

চীনের ক্ষেত্রে উৎপাদন সুবিধা থাকার কারণে বিশ্বের নামিদামি সকল কোম্পানিরা সেখানে কারখানা স্থাপন করেছে। চীনের শ্রমিকেরা সে সব কারখানা তে কাজ করতে গিয়ে প্রত্যেকটির উৎপাদন পদ্ধতি জেনে নিচ্ছে এবং যা পরবর্তীতে সে সকল নকল পণ্য তৈরি করার ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছে। যেমনভাবে অ্যাপল তাদের আইফোন তৈরি করার ক্ষেত্রে গবেষণার পেছনে বিপুল টাকা খরচ করে এবং পরবর্তীতে যখন অ্যাপল চীনে সেই পণ্যটি তৈরি করতে যায়, তখন চীনারা সেটি সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নেয়। যাতে করে চীনের আলাদা কোনো খরচ ও করতে হচ্ছে না। উপরন্তু তারা নকল আইফোন বাজারে ছেড়ে আইফোন এর বাজারে বিঘ্নতা সৃষ্টি করছে।

নকল পণ্য তৈরি করার ক্ষেত্রে সেই দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হলেও, এতে করে চীন কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছে। নকল পণ্য তৈরি করার ক্ষেত্রে চীন ভীষণ দক্ষ। চীনের দক্ষ জনশক্তির কারণে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা স্থাপন এবং কাজের ক্ষেত্রে চীনকে প্রথমে রেখে দেয়। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চর্চায় খুবই অল্প সময়ে তারা সারা পৃথিবীকে দখলে নিয়েছে। যেখানে বর্তমান বিশ্বের ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে চীন অনেক আধিপত্য বিস্তার করছে।

জাপান যখন তাদের দ্রুতগামী ট্রেন বাজারের ছেড়েছে, তখন চীন বিভিন্ন ঋণে জর্জরিত একটি উন্নয়নশীল দেশ মাত্র। কিন্তু এখন বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে বেশি বুলেট ট্রেন চীন ব্যবহার করে থাকে। চীনের এসব কনস্ট্রাকশন কাজের দক্ষতা হিসেবে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দায়িত্ব আজ চীনের হাতে। যেমনভাবে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ ও চীনের হাতে রয়েছে। এছাড়া দেশের অনেক বড় বড় নির্মাণ কাজ চীন করে থাকে।

চীনের উন্নতি করার পেছনে সবথেকে বড় কারণ হচ্ছে, সে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ। বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি সে দেশে তাদের কারখানা স্থাপন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে থাকে। চীনের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক শুধুমাত্র কম হবার কারণেই সে দেশে তারা বিনিয়োগ করে না। চীনে বৈদেশিক বিনিয়োগের আরও একটি কারণ হচ্ছে, সেখানকার স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। চীনের সরকার অন্যান্য দেশের সরকারের চাইতে বেশি স্থিতিশীল।

চীনের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকার কারণে যে কোন ঝামেলা থেকে বাণিজ্যিক পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে চীনের সরকার বদ্ধপরিকর। যে কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে যেসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রয়েছে সেসব দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ করার আগ্রহ অনেকটাই কমে যায় কোন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য। কেননা সেসব দেশে যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। যা কোন একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চীন শুধুমাত্র নিজ দেশে তাদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করে না। তারা বাহিরের দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশকে ঋণের ফাঁদেও ফেলে থাকে। কিভাবে তারা একটি দেশকে ঋণ দিয়ে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিচ্ছে? এবার তবে চলুন জেনে নেয়া যাক চীনের ঋণদান কর্মসূচি সম্পর্কে।

চীনের ঋণদান কর্মসূচির ফাঁদ

চীন কোন একটি দেশকে নিয়ন্ত্রণের দেবার মাধ্যমে সে দেশকে কৌশলে ঋণের ফাঁদে ফেলে থাকে। চীনের ঋণদান কর্মসূচি সম্পর্কে বুঝতে গেলে আপনাকে একটি উদাহরণ দিতে হবে। মনে করুন, আপনি একটি গাড়ি কেনার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে আপনার কাছে কোন টাকা নেই। এমন সময় একজন দয়াবান ব্যক্তি আপনাকে ঋণ দিতে এগিয়ে এলো। এবার আপনি একটি নির্দিষ্ট সুদে ঋণ নিয়ে আপনার স্বপ্নের গাড়িটি কিনলেন এবং সুন্দর সময় অতিবাহিত করতে থাকলেন।

এবার কোন একদিন সেই দয়াবান ব্যক্তি আপনার কাছ থেকে পাওনা টাকা টি নিতে চলে আসলো। কিন্তু ততদিনে আপনার ঋণের নেওয়ার টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সুদে-আসলে দ্বিগুণেরও কিছুটা বেশি। অথচ সেই মুহূর্তে আপনার কাছে কোন টাকা নেই। এবার এ পরিস্থিতিতে আপনার উপায় কী হবে? এবার উক্ত দয়াবান ব্যক্তি আপনার কাছ থেকে সেই টাকায় কেনা গাড়িটি নিয়ে নিবে এবং সুদের বিনিময়ে আপনার বাড়িটি ও নিয়ে নিবে।

এভাবে করে দিন শেষে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে করতে আপনার গাড়ির কেনার সখটিই মিটে যাবে। যেহেতু আপনি তার সুদে-আসলে টাকা পরিশোধ করতে পারেননি এজন্য আপনার বাড়ি এবং গাড়ি উভয়ই নিয়ে নিয়েছে সেই ব্যক্তিটি। এখানে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে আপনি ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর কিছুদিন সেটি ভোগ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে আপনাকে বাড়ি এবং গাড়িও উভয়ই হারাতে হলো। যেখানে সেই ব্যক্তিটি শুধু মাত্র কিছু দিন পরে আপনার কাছ থেকে সেই ঋণের টাকা এবং ঋণ দিয়ে আপনার যে আপনি গাড়িটি কিনেছেন সেটিও নিয়ে নিল। ঠিক এইভাবে করেই চীন পুরো বিশ্বে দয়াবান ব্যক্তি ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছে।

এর একটি উদাহরণ হচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশ শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার উন্নয়ন করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন এবং অন্যদিকে চীনের অর্থের কোন অভাব নেই। তাই চীন শ্রীলঙ্কাকে উন্নতি করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করলো। এই অর্থ দিয়ে তারা স্কাইস্ক্রাপার, হাইওয়ে, এয়ারপোর্ট এবং সমুদ্র বন্দর তৈরি করল। কিন্তু অর্থ পরিশোধ করার সময় সেই ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেল যে, শ্রীলঙ্কার পক্ষে সেই অর্থ পরিশোধ করা একেবারে অসম্ভব হয়ে গেল।

শ্রীলঙ্কার এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শুধুমাত্র একটা উপায় ই খোলা থাকলে। যেখানে বন্দর নির্মাণ করার ক্ষেত্রে চীনের দেওয়া ঋণের বিপরীতে তাদেরকে শ্রীলংকার সেই হাম্বানটোটা বন্দর কে তাদের কাছে ইজারা দিতে হয়। যেখানে চীন সেই ব্যস্ততম বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এবার তবে আপনি বুঝতেই পারছেন যে, চীন কিভাবে কোন একটি দেশকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য তাঁদের ঋণের ফাঁদে ফেলে।

শুধুমাত্র ঋণ দিয়ে কোন দেশকে ফাঁদে ফেলার জন্যই নয়। কোন একটি দেশকে তারা ঋণ দিয়ে থাকে সেখানে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও হাসিল করার জন্য। যেখানে চীনকে একটি কৌশলী দেশ হিসেবে বলা যায়। তারা তাদের ব্যবসায়িক এবং নিজেদের স্বার্থের জন্য সর্বদা কাজ করে থাকে।

আমরা চীনের উপর কতটা নির্ভরশীল?

চীনের ওপর আমাদের নির্ভরতার কথা বলতে গেলে, অনেক কিছুই বলা যাবে। আমাদের ব্যবহৃত সকল সামগ্রী প্রায় চীনে তৈরি। আপনি যে বর্তমানে স্মার্ট ফোনটি ব্যবহার করছেন, যে চার্জার দিয়ে মোবাইলে চার্জ করছেন, মোবাইলে যে মেমরি কার্ডটি ব্যবহার করছেন এগুলোর সমস্তই চীনে তৈরি। আপনার ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক যন্ত্র গুলো চীনের তৈরি না হলেও এগুলোর যেকোনো একটি পার্টস অবশ্যই চীনের তৈরি। যেমন ভাবে আপনি আপনার স্মার্টফোনটি বর্তমানে ব্যবহার করছেন, এটি সম্পূর্ণ চীনের তৈরি না হলেও এটির অন্যান্য যন্ত্রাংশ গুলো হয়তো বা চীনের তৈরি।

আপনার স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর কিংবা আপনার মোবাইলে ব্যবহৃত ব্যাটারিটি হয়তোবা তৈরি করা হয়েছে চীনে। এছাড়া আপনি যে চার্জারে দিয়ে মোবাইলে চার্জ করছেন, এটি ও চীনের তৈরি। আপনি সর্বক্ষেত্রে চীনের তৈরি যন্ত্রাংশ বা ইলেকট্রনিক্স-সামগ্রী গুলো ব্যবহার করছেন। আমরা চীনের তৈরি যে সমস্ত পণ্য ব্যবহার করি, এগুলোর বেশিরভাগই থাকে ইলেকট্রনিক সামগ্রী। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য আরো যে সমস্ত সামগ্রী রয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ গুলি তৈরি করা হয়েছে চীনে।

কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে চিকিৎসা খাতে এবং কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশগুলো চীন থেকে আমদানি করা হয়। চীন থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশগুলো অন্যান্য দেশের তুলনায় দামে অনেক সস্তা এবং এর কার্যকরিতা ও সেগুলোর মতই। যে কারণে চীন থেকে সবাই তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি আমদানি করে থাকে। আমরা যে সমস্ত গ্যাজেট ব্যবহার করি, এগুলোর বেশিরভাগই চীন থেকে তৈরি। দামি অনেক সস্তা এবং দেখতে অনেক প্রিমিয়াম হওয়ায় যে কেউ চীনের তৈরি সামগ্রী গুলোকে পছন্দ করে থাকে।

আমরা যে হাত ঘড়ি পড়ে থাকি, সেগুলোর বেশির ভাগ গুলোই চীন থেকে তৈরি। ‌এছাড়া আমাদের ব্যবহৃত টর্চ লাইট, ফ্যান, বৈদ্যুতিক লাইট, চার্জার, হেডফোন ইত্যাদি পণ্যগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চীন থেকে আমদানি করে থাকে। যেখানে আমরা এসব পণ্যের জন্য পুরোপুরি চীনের উপর নির্ভরশীল না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চীনের উপর নির্ভরশীল। চীন শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক পণ্য গুলো বাইরের দেশে রপ্তানি করে না। বরং, তারা খাদ্য সামগ্রীও অন্য দেশে রপ্তানি করে থাকে।

সেসবের মধ্যে থেকে বাংলাদেশ একটি সবচাইতে বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করে। গত বছরে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে প্রধান আমদানি করা পণ্য রয়েছে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও গম। গতবছরের আমদানির হিসাব অনুযায়ী, সে বছরের জুলাইয়ে চীন থেকে মোট ৮ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যেখানে চীন থেকে আমদানি করা এই পরিসংখ্যানটি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চীন থেকে আমদানি করা এসব পণ্য বাদ দিয়ে আমরা যদি মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি এর কথা চিন্তা করি, তবে আমাদের দেশে বর্তমানে চায়না মোবাইল কোম্পানিগুলো বাজার দখল করে রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশের বাজারে রিয়েলমি, শাওমি এর মত ব্রান্ড অনেক জনপ্রিয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু চীনের মালিকানাধীন। যেখানে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের দেশে কারখানা স্থাপন করে আমাদের দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের লভ্যাংশ তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে আমরা মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে ও পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভরশীল।

তবে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠার মতো আমাদের কিছুটা হলেও সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি আমাদের নিজেদের দেশের ব্রান্ড কে ভালোবেসে সেসব পণ্যগুলো ব্যবহার করা শুরু করি তবে হয়তোবা আমাদের অনেক অর্থ বিদেশে নিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারবো। আমাদের দেশের মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ছে। আমরা চাইলে তাদের স্মার্টফোনগুলো ব্যবহার করতে পারি। আমি জানি না যে, আপনার কাছে ওয়ালটন এর পণ্যগুলো ভালো লাগে কিনা।

তবে কিন্তু অন্য দেশের মানুষের কাছে আমাদের দেশের পণ্য গুলো ঠিকই ভালো লাগে। ওয়ালটন বর্তমানে বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্যগুলো রপ্তানি করছে। আমরা যদি নিজের দেশের পণ্যগুলোকে ব্যবহার করার প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারি, তবে হয়তোবা অনেক অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারবো এবং আমরা ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারবো একটি স্বনির্ভর জাতি, ইনশাআল্লাহ। তাই আমাদেরকে সবসময় চেষ্টা করতে হবে নিজের দেশের ভালো কোন পণ্যকে ব্যবহার করার। যদি নিজের দেশের পণ্য ভালো না হয় এবং অন্য দেশের পণ্যটি যদি ভাল হয় তবে সেটিকে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনারা নিশ্চয় শুনে থাকবেন যে, চীনের লোকজন সবসময় তাদের নিজের দেশের পণ্যগুলোকে ব্যবহার করে থাকে। তারা তাদের নিজের পণ্য ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজের দেশের সকল সেবা গুলোকে সবার প্রথমে রেখে দেয়। যেমনভাবে তারা আমাদের মত ইউটিউব কিংবা ফেসবুক ব্যবহার করে না। চীনের লোকজন তারা তাদের দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। তারা কখনো অন্য একটি দেশের পণ্যকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রথমে অতটা উৎসাহী হয় না।

এছাড়া আমরা যে গুগলে সার্চ করে থাকি, চীনের ক্ষেত্রে তারা গুগল কে ব্যবহার করেনা। বরং, তারা তাদের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে। তারা মোটেও চায়না যে তাদের কোনো তথ্য বাহিরের দেশের কোথাও চলে যাক। তারা যদি গুগল কে ব্যবহার করে, তবে নিশ্চয় গুগল তাদের অ্যাক্টিভিটি সম্পর্কে জানতে পারবে। কিন্তু তারা এটি কখনো হতে দেবে না।

সর্বক্ষেত্রে চীন গোপনীয়তা অবলম্বন করে তাদের নিজের দেশের কোন কিছু বাইরের দেশের সঙ্গে শেয়ার করার বিষয়ে। আর সে সব দিক থেকে বিবেচনা করে চীন সরকার গুগল এর সকল সার্ভিস এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এর ফলে চীনে গুগলের কোন সার্ভিস নেই। তবে সেখানকার মানুষ আমাদের মত সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে এবং আমাদের ব্যবহৃত গুগল ম্যাপ এর মত ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এজন্য সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে চিনে বাইদু সার্চ ইঞ্জিন অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং বাইদু এর তৈরি ম্যাপিং অ্যাপ সেখানে চলে।

এভাবে করে তারা সর্বক্ষেত্রে একটি স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে। চীন নিজের দেশের তথ্য অন্য দেশে চলে যাবার ব্যাপারে খুবই সর্তকতা অবলম্বন করে। যেমনভাবে এর উদাহরণ হিসেবে আমরা করোনাভাইরাস এর তথ্য গোপন রাখার বিষয়টি দেখেছি। প্রথমদিকে এই বিষয়টিকে তারা বাহিরের দেশের কারও সঙ্গে শেয়ার করতে না চাইলেও, পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে সেটি সম্পর্কে সবাই অবগত হয়। এভাবে করে তারা সর্বক্ষেত্রে সব তথ্য নিজের দেশের মধ্যে গোপন রাখার চেষ্টা করে।

এমনকি কোন সীমান্ত যুদ্ধের সময় কত সৈন্য মারা গিয়েছে সেটিও তারা গোপন রাখে। কত সৈন্য মারা গেছে এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছুই প্রকাশ করে না। এমনকি তারা এক্ষেত্রে কোনো ভুল তথ্য ও কাউকে বলে না। তবে চীন সামরিক শক্তিতে ও কিন্তু কম নয়। বিশ্বের সামরিক শক্তির দিক থেকে বর্তমানে চীনের অবস্থান প্রথম।

এতদিন যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের প্রথম অবস্থানে থাকলেও সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী চীন বিশ্বের প্রথম সামরিক শক্তির দেশ। যথারীতি এর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আমেরিকা এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এভাবে করে একটি দরিদ্র দেশ থেকে কয়েক দশকের মধ্যে চীন খুব দ্রুতই বিশ্বের প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

বন্ধুরা, এই ছিল চীনের উন্নতি করার পেছনের গল্প নিয়ে আজকের টিউন। যদি আপনার কাছে আসবে টিউনটি ভাল লেগে থাকে তবে একটি জোসস করতে অবশ্যই ভুলবেন না। সেইসঙ্গে চীনের সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে অবশ্যই নিচে টিউনমেন্ট করবেন এবং টিউনটি সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের কে জানানোর জন্য শেয়ার করতে পারেন। আজ তবে আমি যাচ্ছি, খুব শীঘ্রই দেখা হবে নতুন কোন টিউন ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: