ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
প্রযুক্তির ব্যাখ্যা [পর্ব-০১] :: G-Sync এবং FreeSync কী? | Techtunes
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :


টেকটিউনস কমিউনিটি, কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভাল আছেন। বরাবরের মত চলে এসেছি নতুন কোন টিউন নিয়ে।

শুরুর কথাঃ

আপনি যখন মনিটর নিয়ে গবেষণা করবেন বা একটি ভাল মানের মনিটর কিনতে চাইবেন, তখন এটা স্বাভাবিক আপনি মনিটর নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখবেন বা আর্টিকেল পড়বেন। সব জায়গায় আপনি “G-Sync” এবং “FreeSync” নিয়ে আলাপ আলোচনা পাবেন। তো এই “G-Sync” এবং “FreeSync” আসলে কি? কিভাবে কাজ করে? কোনটি আপনার জন্য ভাল হবে? এই সব গুলো বিষয় নিয়েই আজকে আলোচনা করব। তবে প্রথমেই বলে নিচ্ছি, আপনি যদি গেমার না হোন অথবা গেমিং এর জন্য মনিটর না কিনতে চান তাহলে আপনার জন্য দুইটি বিষয় খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না, তবে গেমিং পিসির ক্ষেত্রে এটা জানা খুবই জরুরি।

“G-Sync” এবং “FreeSync” বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আগে আপনাকে ব্যাসিক কিছু বিষয় সম্পর্কে আগে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে, চলুন সেই বিষয় গুলো আগে দেখে আসি।

Frame Rate এবং Refresh Rate

একটি মনিটরের Refresh Rate, 60 Hz থাকার মানে হচ্ছে এটি প্রতি সেকেন্ডে আপনাকে ৬০ টি ইমেজ দেখাতে পারে, একই সাথে প্রতি সেকেন্ডে এই মনিটরের ৬০ টি ইমেজ দরকার যা GPU দিয়ে থাকে। তো মনিটরের Refresh Rate লিমিট থাকে, কখনো এটি এর বেশি ইমেজ শো করায় না, কিন্তু GPU কখনো কখনো নির্দিষ্ট Frame Rate থেকে বেশি ইমেজ জেনারেট করে ফেলে আর সমস্যা তখনই হয়। যখন 60 Hz এর মনিটরকে GPU ৭০ বা তার বেশি ইমেজ সেন্ড করে তখনও সমস্যা দেখা দেয় আবার যখন ৬০ এর কম ইমেজ সেন্ড করে তখনও সমস্যা তৈরি হয়।

Screen Stuttering

ধরুন আপনার মনিটর হচ্ছে 60 Hz রিফ্রেশ রেটের এখন GPU যদি ৬০ এর কম ইমেজ জেনারেট করে তখন মনিটর পর্যাপ্ত ইমেজ পাবে না এবং ভিডিও ধীরে ধীরে শো করবে এটাকে বলা হয় Screen Stuttering।

Screen Tearing

যখন GPU ৬০ এর চেয়ে বেশি ফ্রেম রেট জেনারেট করে ফেলে অন্যদিকে মনিটর 60Hz এর তখন মনিটরের পক্ষে অতিরিক্ত ইমেজ গুলো মেইনটেন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং ভিডিওতে বিভিন্ন স্ক্রিন দেখায় এটিকে বলে Screen Tearing।

Adaptive Sync কি?

GPU এবং মনিটরের ফ্রেম রেট যাতে একই সাথে এবং কম বেশি না হয় এই বিষয়টি মেইনটেন করার জন্য যে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয় তাকে বলে Adaptive Sync। এই প্রযুক্তিতে GPU অনুযায়ী মনিটরকে Synchronized করা হয়, এর ফলে GPU বেশি ইমেজ তৈরি করলেও মনিটরে সমস্যা হয় না বা কম ইমেজ তৈরি করলেও Screen Stuttering সমস্যা হয় না।

আর এই প্রযুক্তিকে Nvidia বলে G-Sync এবং AMD বলে FreeSync। পুরনো গেম গুলা রান করালে সাধারণ Adaptive Sync এর দরকার হয় না এতে করে মনিটর গুলোতে আলাদা ভাবে Refresh Rate নিয়ে ভাবতে হয় না তবে যখন বর্তমানের হাই গ্রাফিক্যাল গেম গুলোর কথা আসে তখন অবশ্যই Adaptive Sync দরকার হয়।

FreeSync

FreeSync হচ্ছে AMD এর প্রযুক্তি যা AMD গ্রাফিক্স কার্ড গুলোতে ব্যবহৃত হয়, Nvidia ইউজাররা এটি ব্যবহার করতে পারে না। সকল মনিটরেও আবার Free-Sync এভেইলেবল থাকে না৷ যে সব মনিটরে কেবল মাত্র VESA Adaptive-Sync সাপোর্ট করে সেই সমস্ত মনিটরে FreeSync থাকে। FreeSync একই সাথে HDMI এবং DisplayPort এ কাজ করতে পারে।

যেকোনো মনিটরের জন্য FreeSync সাপোর্ট দেয়া হয় না কারণ এটির জন্য মনিটর গুলোকে নির্দিষ্ট কিছু টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং নির্দিষ্ট বেঞ্চ-মার্ক ফিল-আপ করতে হয়।

দামের দিক বিবেচনা করলে FreeSync মনিটর গুলো G-Sync থেকে সাশ্রয়ী হয় কারণ এখানে VESA ওপেন-সোর্স ব্যবহার করা হয়।

G-Sync

NVIDIA এর Adaptive Sync কে বলা হয় G-Sync। যেখানে Free-Sync প্রযুক্তিতে একটি ওপেন-সোর্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়ে সেখানে G-Sync এ আলাদা একটি চিপের মাধ্যমে এই কাজটি করা হয়। যেহেতু আলাদা চিপ দরকার সুতরাং G-Sync মনিটর গুলোর দাম একটি বেশিই হয়। তবে G-Sync থাকা মানেই আপনি দুর্দান্ত প্রযুক্তির Adaptive Sync পাচ্ছেন এটা ভাবার কোন কারণ নেই কারণ তিন ধরনের G-Sync প্রযুক্তি হয়।

G-Sync, G-Sync Ultimate, এবং G-Sync Compatible এই তিনটি প্রযুক্তির মধ্যে, G-Sync হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন, G-Sync Compatible হল বাজেট ফ্রেন্ডলি ভার্সন এবং প্রিমিয়াম ভার্সনের নাম হল, G-Sync Ultimate। যারা বেশি দাম দিয়ে মনিটর কিনতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে G-Sync Ultimate।

কোনটি আপনার জন্য ভাল হবে G-Sync নাকি Free-Sync

এই দুইটি Adaptive Sync প্রযুক্তির মধ্যে যেকোনো একটি বাছাই করা বা যেকোনো একটিকে ভাল বলা বেশ জটিল একটি বিষয়৷ তবে এটি সহজ ভাবেও করা যায়। যদি আপনার সিস্টেম AMD হয় এবং পরিবর্তন না করতে চান তাহলে আপনার একমাত্র চয়েস হবে Free-Sync।

একই ভাবে আপনি Nvidia গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করলে আপনার জন্য উপযুক্ত G-Sync।

Lower Resolution এ এই দুটি প্রযুক্তির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না তবে আপনি, 1080p এবং 60Hz মনিটর গুলোতে কিছু পার্থক্য দেখতে পারেন। যাই হোক আপনি যদি হাই পারফরম্যান্স চান এবং ব্যয়টা কমাতে চান তাহলে আপনি Free-sync বাছাই করতে পারেন কারণ এটি বাজেট ফ্রেন্ডলি হবে।

তবে আপনি যদি অতি উচ্চ মানের পারফরম্যান্স চান এবং 4K এবং HDR এর নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স চান তাহলে G-Sync এর বিকল্প নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে Free-Sync যথেষ্ট হলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য G-Sync বেটার হবে।

শেষ কথাঃ

স্বাভাবিকভাবেই G-Sync Ultimate এর পারফরম্যান্স Free-Sync কে ছাড়িয়ে যায়। আর যেহেতু বর্তমানে গ্রাফিক্সের দিক থেকে Nvidia মার্কেট লিডার সুতরাং G-Sync কে বেছে নেয়াই উত্তম হতে পারে যদি আপনার পর্যাপ্ত বাজেট থাকে।

আজকের মত এই পর্যন্তই, পরবর্তী টিউন পর্যন্ত ভাল থাকুন। আল্লাহ হা-ফেজ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *