ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
অরুণাচলে নজর, সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে চিন, যুদ্ধসাজে তৈরি ভারতীয় বাহিনীও
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

অরুণাচলে নজর, সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে চিন, যুদ্ধসাজে তৈরি ভারতীয় বাহিনীও

 লাদাখ সীমান্তে গ্রাম বানাচ্ছে চিন (China)। নজর পড়েছে অরুণাচলেও। নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে চিনের সেনার গতিবিধি বাড়ছে। অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করছে লাল ফৌজ। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এর মধ্যে ছোটখাটো মহড়াও দিয়ে নিয়েছে চিনের বাহিনী। তাই ভারতীয় সেনাও তৈরি। যুদ্ধট্যাঙ্ক সাজানো হয়েছে, রাইফের ডিভিশন তৈরি, এয়ার ডিফেন্স গান নিয়ে যে কোনও আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)।

শীত আসছে। অরুণাচলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। তার মধ্যেই সমরসজ্জা তৈরি রেখেছে ভারতীয় বাহিনী। অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টর যাকে দক্ষিণ তিব্বত বলা হয়, সেখানেই আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া চিন। চিন-ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত জুড়ে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে ভারত। সেনার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ১০৫ এমএম ফিল্ড গান, ১৫০ এমএম বফর্স ও এম-১৭৭ আলট্রা-লাইট হাউইৎজার নিয়ে তৈরি ভারতীয় সেনা।

অরুণাচল সীমান্ত বরাবর চার জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে দেখা গিয়েছে চিনের বাহিনীকে। ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাফিলা, টুটিং অ্যাক্সিস, চ্যাং জ়ি ও ফিসটেল-২ সেক্টরে সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেছে চিনকে। ভারতের সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই চারটি স্পটের মধ্যে আসাফিলা এবং ফিসটেল-২ সেক্টরে চিনে বাহিনীর তৎপরতা বেশি। এই দুটি স্পট ভারতের সীমান্তের খুবই কাছে। অনুমান করা হচ্ছে এই দুই এলাকায় সেনার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রাইফেল ডিভিশনও মোতায়েন করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।

পূর্ব লাদাখে ভারতের শক্তির সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে অরুণাচলে নতুন করে সামরিক বিন্যাস করে ভারতের বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ারই চেষ্টা করছে চিন, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত এমনটাই। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মতোই অরুণাচলের সীমান্ত নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর বিবাদ অনেক পুরনো। সেই ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ বাধে এই অরুণাচলকে কেন্দ্র করেই। চিন একে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলেই মনে করে। পূর্ব লাদাখের মতো অরুণাচলেও আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া তারা।  জুন মাসে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পরে অরুণাচল নিয়েও শঙ্কিত হয় ভারতের বাহিনী। তবে সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ওই এলাকাতেও নিয়মিত সেনার বিন্যাস বদলানো হয়। ভারত আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। কাজেই চিনের কৌশল খুব একটা কাজে আসবে না।

লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এই রাজ্যগুলিকে ছুঁয়ে রয়েছে চিনের সীমান্ত। লাদাখ তো বটেই, সিকিম, অরুণাচলে মাঝে মাঝেই চিনের বাহিনীর দাপট দেখা যায়।  এতদিন বিভিন্ন সীমান্তে ভারতের ভূমিকা ছিল আত্মরক্ষার, কিন্তু এখন সীমান্তে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নিয়ে যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই তৈরি ভারত। বরং ভারতের বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি লাল ফৌজেরও চিন্তার কারণ। চিনের বাহিনী আগ্রাসন দেখালে এখন আর শুধু ডিফেন্স নয় কঠোর প্রত্যাঘাত বা কাউন্টার-অফেন্সের জন্যই সবরকমভাবে প্রস্তুত ভারত। যে কোনও আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা দেশের বাহিনীর আছে। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *