ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
বৃষ্টি-বন্যা-ধসে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড, লণ্ডভণ্ড নৈনিতাল, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫২
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

বৃষ্টি-বন্যা-ধসে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড, লণ্ডভণ্ড নৈনিতাল, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫২

 বৃষ্টির তেজ কমেছে, কিন্তু দুর্যোগের কালো মেঘ এখনও কাটেনি। বন্যা (Flood) ও পাহাড়ি ধসে কার্যত বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) একাধিক জেলা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও ৫২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বন্যার জলস্রোতে তলিয়ে গেছেন বহু। ধস নেমে ভেঙেছে বাড়িঘর। শুধুমাত্র নৈনিতাল থেকেই ২৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বন্যা বিপর্যস্ত দেহরাদূনে বুধবার রাতেই পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ আকাশপথে বানভাসি এলাকাগুলো পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে বৈঠকও করেবেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, বৃষ্টি-বন্যায় ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। কমপক্ষে ৪৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নৈনিতালে। নৈনি লেকের জল উপচে রাস্তাঘাট ভেসে গেছে। সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফের তা চালু হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলি এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সহ নানা রাজ্য থেকে আসা পর্যটকরা নৈনিতালে আটকে পড়েছেন। তবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ও সেনাবাহিনীর মিলিত চেষ্টায় রাস্তাঘাট অনেকটাই পরিষ্কার করা হয়েছে। জলমগ্ন এলাকাগুলো থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত বছর জুন মাসে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল কেদারনাথ ও সংলগ্ন বিশাল অঞ্চল। সরকারি হিসেবে মারা গিয়েছিলেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। তার পর দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল কেদারনাথ মন্দির। কয়েক মাস আগেই তা ফের খুলেছে। তার পর থেকে রাজ্যের পর্যটনের হাল ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু এ দিন যে ভাবে বৃষ্টির জেরে চার ধামে যাওয়ার রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাতে অনেকের ধারণা এর প্রভাব পর্যটনে পড়বেই। টানা বৃষ্টিতে ধস নেমে রাজ্য থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রানিখেত ও আলমোরা। জরুরি পরিষেবাও মিলছে না। বাড়িঘর ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এনডিআরএফ। এখনও পর্যন্ত উধম সিংহ নগর ও নৈনিতাল থেকে আটকে পড়া ১৩০০ মানুষকে উদ্ধার করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

প্রশাসন সূত্রে খবর, গত দু’দিন ধরেই অবিরাম বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডের পাড়ুই, দেহরাদূন, পিথোরাগড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঋষিকেশের রামঝুলায় বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে বইছে গঙ্গা। দেহরাদূন ও ঋষিকেশের বহু এলাকা এখনও জলমগ্ন। চন্দ্রভাগা ব্রিজ, তপোবন, লক্ষণঝুলা প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে থাকায় উদ্ধারকার্য বিলম্বিত হচ্ছে। তবে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *