ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
গড়িয়াহাট জোড়াখুন কাণ্ডে ধৃত পরিচারিকা মিঠু, ডায়মন্ড হারবারে ভাড়া থাকত সে
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

গড়িয়াহাট জোড়াখুন কাণ্ডে ধৃত পরিচারিকা মিঠু, ডায়মন্ড হারবারে ভাড়া থাকত সে

গড়িয়াহাট (gariahat) জোড়াখুন কাণ্ডে গ্রেফতার পরিচারিকা মিঠু হালদার। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাইয়াপাড়ার যে বাড়িতে ভাড়া থাকত মিঠু, সেখান থেকে বিভিন্ন নথিপত্র, টাকাপয়সা ও পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সুবীরের বাড়িতে তাঁর মাকে দেখাশোনার কাজ করত মিঠু। সেই বাড়ি বিক্রিজনিত আক্রোশে খুন করেছে সুবীরকে, এমনটাই অনুমান পুলিশের।

পুলিশের অনুমান, মিঠু-সহ তাঁর ছেলে এবং ছেলের তিন বন্ধু ভূমিকা রয়েছে এই খুনে। পুলিশ মনে করছে, কাঁকুলিয়া রোডের বাড়িটি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল মিঠুর ছেলে। সুবীরের ওই বাড়ি বিক্রি করার জন্য সে বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতা নিয়ে আসত। সম্ভবত বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত কোনও চুক্তি নিয়েই মিঠুর ছেলের সঙ্গে সুবীরের গন্ডগোল হয়। আর সেই কারণেই খুন করেছে মিঠু ও তার ছেলে, এমনই ধারণা তদন্তকারীদের।

ডায়মন্ড হারবারে মিঠুর ভাড়াবাড়ির মালিক আজ জানান, বিজয়ার পরের দিন তিনি রক্তমাখা জামাকাপড় ধুতে দেখেন মিঠু হালদারকে। তখন বাড়িওয়ালা জিজ্ঞাসা করলে মিঠু জানায় তার ছেলে বিসর্জনের সময়ে মারপিট করে, পড়ে গিয়ে তার নানা জায়গায় কেটেকুটে যায়। সেই জন্যই জামাকাপড়ে রক্ত।


বাড়ির মালিক আরও জানান, দু’মাস আগে বাড়ি ভাড়া নেয় মিঠু। তার পরে রোজই বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত, পরের দিন সকালে ফিরত। কলকাতায় আয়া হিসেবে কাজ করত বলেই বাড়িওয়ালা ও পড়শিদের জানিয়েছিল মিঠু। আজ সকাল আটটা নাগাদ সে বাড়ি ফিরতেই পুলিশ এসে তাকে আটক করে এবং গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন বাড়িওয়ালা।

রবিবার রাতে গড়িয়াহাটের বাড়িতে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুবীর চাকি (৬১) এবং তাঁর গাড়ির চালককে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, পরিবার নিয়ে নিউটাউনে থাকতেন সুবীর। গড়িয়াহাটের সম্পত্তি বিক্রি করার কথাবার্তা চালাচ্ছিলেন তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই সূত্রেই রবিবার গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন কাঁকুলিয়া রোডের বাড়িতে। আর সেখানেই খুন হন তিনি।

সুবীর চাকি বিপুল সম্পত্তির মালিক। দক্ষিণ ও পূর্ব কলকাতার একাধিক বিলাসবহুল আবাসনে তাঁর ফ্ল্যাট রয়েছে। কাঁকুলিয়া রোডের তিনতলা বাড়ি বিক্রি নিয়েই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে আগেই নিশ্চিত হয় পুলিশ। তবে তদন্তকারীরা এও জানতে পেরেছেন, সম্পত্তি বিক্রির ব্যাপারে তা পার্টিকে দেখানোর সময়ে কখনওই সুবীর নিজে যেতেন না। সবসময় চালক রবীনকে পাঠাতেন। তিনিই সবটা দেখিয়ে দিতেন। কিন্তু সেদিন সুবীর নিজে এসেছিলেন, খুনও হলেন।

এর পরেই সুবীরের কল রেকর্ডিং ঘেঁটে বিভিন্ন সন্দেহজনক নম্বরের খোঁজ পান পুলিশ কর্তারা। তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে বিভিন্ন ফোনকল এসেছিল সুবীরের কাছে, যেগুলি আগে কখনও আসেনি। অর্থাৎ তাঁদের সঙ্গে সুবীরের নতুন পরিচয়। অথচ সুবীর চাকির মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি। তবে গাড়িচালক রবীন মণ্ডলের মোবাইল ফোন তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আততায়ীরা সুবীরের মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছে বলে জানান তদন্তকারীরা।

ঘটনার বড় মোড় ঘোরে গতকাল, মঙ্গলবার। পুলিশ কুকুর নিয়ে কাঁকুলিয়া রোডের যে বাড়িতে সুবীর ও রবীনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেখানে যান তদন্তকারীরা। বাড়ির আশপাশে পুলিশ কুকুর কিছুক্ষণ ঘোরার পর ছুটতে শুরু করে বালিগঞ্জ স্টেশনের দিকে। ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কাটে স্নিফার ডগ। তারপর ফিরে আসে অভিশপ্ত বাড়িতে। কুকুরের গতিবিধি দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, খুনিরা ট্রেন ধরার জন্য বালিগঞ্জ স্টেশনে এসেছিল।

এর পরেই সিসিটিভি খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ ধরা পড়ল অভিযুক্ত। খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *