ঢাকা, বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
কেন নেননি টিকার প্রথম ডোজটিও? মদ, মায়ের আশীর্বাদেই নাকি করোনা মুক্তি!
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কেন নেননি টিকার প্রথম ডোজটিও? মদ, মায়ের আশীর্বাদেই নাকি করোনা মুক্তি!

‘মা বারণ করেছে, তাই তো ভ্যাকসিন (vaccine) নিইনি।’ হাসতে হাসতে বললেন রামলাল ঘরামি। নিজেরই রিকশার ওপর একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন বছর ৫৫-এর রামলালবাবু। ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই হেসে ওঠেন তিনি। হাসি থামিয়ে বললেন, ‘আমি প্রতিদিন মদ খাই। ভালই আছি। ভ্যাকসিন নিয়ে কী করব? মদের কাছে করোনা ফেল মেরে গেছে।’ কথায়। কথায় জানালেন, এই বিশ্বাস থেকেই এলাকায় ক্যাম্প বসলেও ভ্যাকসিনের লাইনে দাঁড়াননি তিনি।


হালতুর এই রিকশ চালকের কথায়, ‘মা বারণ করেছে। মা বলেছে যে, তুই দুবেলা যা মদ খাস তাতে আর তোকে ভ্যাকসিন নিতে হবে না।’ মায়ের যুক্তিতেই এখনও একটি ডোজও ভ্যাকসিন শরীরে ফোঁটাননি রামলালবাবু।

চলুন পরিচয় করা যাক শম্ভু পালের সঙ্গে। পেশায় অটো চালক। বাড়ির কাছে হওয়া সত্ত্বেও তিনিও এখনও পর্যন্ত পেরোননি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পের দরজা। মদ নয়, শম্ভুবাবুর কাছে ‘লম্বা লাইন’ই ভ্যাকসিন না নেওয়ার কারণ।


কসবার এক গ্যারেজের সামনে নিজের অটো নিয়ে দাঁড়িয়ে অটো সারাচছিলেন তিনি। একমনে সেই কাজ তদারক করছিলেন। আর কিছুক্ষণ পরে পরেই ঘড়ির দিকে দেখছিলেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলতেই জানালেন, ‘রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্যাকসিন নিলে পরেরদিন বেরোতে পারব না। অটো নিয়ে না বের হলে খাব কী!’ তাই ওই মুখে মাস্ক লাগিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি।

শুধু তিনি একা নন, সময়ের অভাবেও তাঁর পরিবারের কেউই ভ্যাকসিন নেয়নি। কারণ? শম্ভুবাবুর কথায়, ‘আমি নিইনি তাই আর কারও নেওয়া হয়নি।’

বাপি পালের গল্প আবার ভিন্ন। ভ্যাকসিনের প্রতি ভরসাই নেই তাঁর। সারাদিন টানা রিকশা চালিয়ে গড়িয়াহাট ব্রিজের নিচে এসে বসেছিলেন তিনি। ওখানেই তাঁর বাস। একার সংসার কোনও রকমে চালিয়ে নেন তিনি। আশেপাশে সবার ভ্যাকসিন নেওয়া হয়ে গেলেও তিনি এখনও ভ্যাকসিনের একটি ডোজও নেননি। কারণ জিজ্ঞেস করায় পাশে এসে বসতে বলেন তিনি। জানালেন তাঁর ভ্যাকসিন না নেওয়ার কারণ।

‘ভরসা কি ভ্যাকসিন নিলে?’ বাপি পাল বলেন, ‘ভ্যাকসিনের ওপর ভরসা নেই। খবরে তো দেখাই যাচ্ছে জাল ভ্যাকসিনের কথা। কী করে বুঝব যে আমাকে যা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তা আসল কিনা?’ অকাট্য যুক্তির পরই খানিক উদাস কন্ঠে জানান, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও আমার পরিচিত মানুষ মারা গেছে, এরপরও ভরসা করি কী করে?’ তাই সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করতে নারাজ বাপিবাবু।

পচে যাচ্ছে ফল-সবজি, দামের তেজে ছ্যাঁকা লাগছে মধ্যবিত্তর

১০০ কোটি টিকাকরণের মাইলফলক ছুঁয়েছে ভারত। বাকি এখনও প্রায় ৪০ কোটি মানুষের ভ্যাকসিন নেওয়া। অপ্রতুলতার কারণে ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। তবে শম্ভু, বাপি, রামলালের মতো মানুষের বিচিত্র কারণেও ১০০ কোটির প্রাপ্য তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাঁরা।

আবার বয়েসের কারণে ক্যাম্প অবধি পৌঁছে ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি ৮০ ঊর্ধ্ব রাধারাণী ঘোষের। চলাফেরার ক্ষমতা নেই। তাই ভ্যাকসিন কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানো হয়নি তাঁর। তাই এখনও একটি ডোজও ভ্যাকসিন নেওয়া হয়নি। ১০০ কোটির তালিকা থেকে বাদ তিনিও।

লক্ষ্মীবারে টিকাকরণে ১০০ কোটির মাইলস্টোন ছুঁয়েছে ভারত। খুশি দেশবাসী। সরকারের এই সাফল্যে গা ভাসিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। প্রধানমন্ত্রী এই টিকাকরণের মাইলস্টোনকে ভারতীয় বিজ্ঞান, শিল্পোদ্যোগ এবং ১৪০ কোটি ভারতীয়র সম্মিলিত প্রচেষ্টার জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু সেই সাফল্যের মধ্যেও একটি ডোজ না নেওয়ার তালিকাও চোখ রাঙাচ্ছে। খবর দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: