ঢাকা, রবিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
সস্তা শ্রমিক তৈরির জন্য বাজারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের নীল নকশা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

সস্তা শ্রমিক তৈরির জন্য বাজারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের নীল নকশা

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২০ কে স্বল্প শিক্ষিত সস্তা শ্রমিক তৈরির জন্য বাজারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের নীল নকশা বলে অভিহিত করেছেন বক্তারা।  আজ ২৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জ্বল হোসেন মানিক মিয়া হল রুমে "জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২০: আদৌ কি পাবো কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাব্যবস্থা?" শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এর সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শিক্ষা গবেষক ও শিক্ষাবার্তার সম্পাদক অধ্যাপক এ. এন. রাশেদা, সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। মতবিনিময় সভার শুরুতে একটি ধারণাপত্র সভায় উপস্থাপন করেন নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় আসার ২ বছর এসে সরকার যখন শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী করার কথা বলে, তখন এটাকে ভাওতাবাজি ছাড়া অন্য কিছু বলা চলে না। আজকে যে সাম্প্রদায়িক হামলা আমরা দেশব্যাপী দেখছি, এর পেছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে শিক্ষার নামে অশিক্ষা-কুশিক্ষা। সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আতাত করে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন করেছে। এবং এই শিক্ষাক্রমের মধ্য দিয়েও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, এই শিক্ষাক্রমে প্রযুক্তি শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞান বর্জিত প্রযুক্তি মানবযন্ত্র তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া দরকার ছিল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। কিন্তু এই শিক্ষাক্রমের মধ্য দিয়ে আসলে কর্পোরেট পুঁজির কর্মচারী তৈরির নীল নকশা চলছে, বিজ্ঞানী, গবেষক তথা শিক্ষিত মানুষ না।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবীরা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। সরকারের কোন সিদ্ধান্তই জনগণ এর অংশগ্রহণ বা তাদের স্বার্থে হয় না। এই সিদ্ধান্তগুলো সব আসে বিশ্বব্যাংক, এডিবি সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজন অনুসারে এবং প্রণয়ন করেন দুর্নীতিগ্রস্থ আমলারা। এখানে দেশের আমলা ও দেশী বিদেশি নানান প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ অভিন্ন। তাই বারবার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার বাস্তবায়ন না করেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়নের সময়ও একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল। বইয়ের বোঝা কমানোর বদলে এই শিক্ষাক্রমেও বইয়ের অনর্থক বোঝা বাড়ানো হয়েছে। এই শিক্ষাক্রমেও বিজ্ঞান ও গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ছোট্ট একটা দেশ কিউবাও ৫ টি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলো, অথচ বাংলাদেশে ভ্যাকসিন গবেষণায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হল না।

সভাপতির বক্তব্যে আল কাদেরী জয় বলেন, মতবিনিময় সভার আলোচনা আমাদেরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। শাসকদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে কেবলমাত্র সস্তা শ্রমিক তৈরির কারখানা বানানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশের ছাত্র সমাজকে এই শিক্ষাক্রম বিষয়ে জানতে হবে, বুঝতে হবে, এবং আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: