ঢাকা, বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
বৈশ্বিক সম্পদের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

বৈশ্বিক সম্পদের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন

গত দুই দশকে বিশ্বের মোট সম্পদ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চীনে। যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে এখন চীন বিশ্বের ধনীতম দেশ। ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন বলছে বিশ্বের ৬০ শতাংশ সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে এমন ১০টি দেশের ব্যালান্স সিট পরীক্ষা করেছে ম্যাকিনসে। তা থেকেই জানা গেছে চীন এখন বিশ্বের ধনীতম দেশ। 

জুরিখে ম্যাকিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের অংশীদার জাঁ মিসচকে বলেন, আমরা এখন আগের চেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী। ২০০০ সালের বিশ্বের মোট সম্পদের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি ডলার। বর্তমানে বিশ্বের মোট সম্পদের মূল্য ৫১ লাখ ৪ হাজার কোটি ডলার। ২০০০ সালে চীনের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার কোটি ডলার। বর্তমানে তার পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার।

গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ। দেশটির সম্পদের মূল্য এখন ৯০ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের সম্পদের দুই তৃতীয়াংশের বেশি রয়েছে অতি ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। তাদের সম্পদ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যাকিনসের হিসাব মতো, বিশ্বের মোট সম্পদের ৬৮ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে রিয়েল এস্টেটে। পরিকাঠামো, মেশিন ইত্যাদির পিছনেও ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল সম্পদ। কিন্তু মেধাসম্পদ বা পেটেন্টের পিছনে ব্যয় করা হচ্ছে অনেক কম।

এর মধ্যে চীনের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত অক্টোবরে পেন্টাগন বলেছিল ২০৪৯ সালের মধ্যে চীন চারশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি যে রিপোর্ট মার্কিন গোয়েন্দারা দিয়েছেন তাতে বলা হচ্ছে সময়সীমা ২০৪৯-ও নয় আর সংখ্যাটা ৪শ নয়। পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার পরমাণু অস্ত্র বানানোর লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং। শুধু সংখ্যাই নয়। সদ্য প্রকাশিত পেন্টাগনের গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী তো বটেই নৌ ও বিমানবাহিনীও যাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে তার জন্য পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে চীন।

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের যে সংঘাত চলছে তা নতুন মাত্রা পেল এই রিপোর্ট প্রকাশের পর। চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভুখণ্ড দখল করে রেখেছে। আর তাইওয়ানকে এ ব্যাপারে মদত করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রিটেনের সঙ্গেও বেইজিংয়ের ঠান্ডাযুদ্ধ চলছে। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন পেন্টাগনের এই রিপোর্ট যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। যদিও ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এক সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত ২০০০ সালে চীন যোগ দেয়া বিশ^ বাণিজ্য সংস্থায়। পশ্চিমা দেশগুলো চীনকে বাণিজ্য বিরোধী হিসেবে দেখছে। কিন্তু সম্পদের হিসেব বলছে অন্য কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট খাতে সম্পদের পরিমান সবচেয়ে বৃদ্ধি পেলেও চীনে এ খাতে ঋণখেলাপির কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছুটা হোঁচট খায়।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: