ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
দূষণ নিয়ে কৈফিয়ৎ দিতে হবে ভারত ও চিনকে, পরিবেশ সম্মেলনের পরে শুরু সমালোচনা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

দূষণ নিয়ে কৈফিয়ৎ দিতে হবে ভারত ও চিনকে, পরিবেশ সম্মেলনের পরে শুরু সমালোচনা

শনিবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শেষ হয়েছে পরিবেশ দূষণ (Pollution) নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তার নাম ছিল ‘কপ-২৬’। রবিবার ওই সম্মেলনের উদ্যোক্তা অলক শর্মা অভিযোগ করেন, কপ-২৬ এর প্রস্তাবে ‘জল ঢেলে দিয়েছে’ ভারত ও চিন। এই প্রথমবার কোনও পরিবেশ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। কপ-২৬ এর প্রস্তাবে প্রথমে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জ্বালানি হিসাবে কয়লাকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে। কিন্তু চিনের সহায়তায় ভারত ওই প্রস্তাবের ভাষা বদলে দেয়। তাতে বলা হয়, জ্বালানি হিসাবে কয়লার ব্যবহার ‘কমানো হবে’।


সোমবার লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে সাংবাদিক বৈঠকে অলোক শর্মা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে কৈফিয়ৎ দিতে হবে ভারত ও চিনকে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবশ্য বলেন, কপ-২৬ এর প্রস্তাবে যেটুকু পরিবর্তন করা হয়েছে, তা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রস্তাবে প্রথমে লেখা হয়েছিল ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার ‘ফেস আউট’ করা হবে। পরে লেখা হয়, ‘ফেস ডাউন’ করা হবে। বরিস জনসনের কথায়, “আমি নিজে একজন ইংরেজিভাষী হিসাবে বলতে পারি, ফেস আউট আর ফেস ডাউন শব্দবন্ধ দু’টির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই”। পরে তিনি মন্তব্য করেন, “গ্লাসগোয় কার্যত কয়লার ব্যবহার বন্ধ করার পক্ষেই প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।”

এরই মধ্যে জানা যায়, গত দেওয়ালির পর দূষণের বিপজ্জনক স্তরও পার করে ফেলেছে রাজধানী দিল্লি। সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি সরকারের নির্দেশ তথা কড়া নজরদারি উপেক্ষা করেই বেলাগাম বাজি পুড়েছে রাজধানীর অলিতে গলিতে। তারই ফল, মারাত্মক ঘন ধোঁয়াশা যা ঘিরে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ফেলেছে দিল্লিকে। বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণার পরিমাণ সাঙ্ঘাতিক বেশি। প্রতি শ্বাসেই বিষ-বাষ্প ঢুকছে শরীরে। প্রতিদিনই বাতাসের গুণগত মান খারাপের দিকে যাচ্ছে। দূষণের পাল্লায় পিছিয়ে নেই কলকাতাও। কালীপুজোর রাত থেকেই দূষণের মাত্রা বেড়েছে এ শহরেও।


দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই বলছেন, অনেকেই করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আদালতের নির্দেশ মেনে বাজি পোড়াননি। তবে উদ্দেশ্যপ্রোণোদিত ভাবে শব্দবাজি ও আলোর বাজি পোড়ানো হয়েছে বহু জায়গায়। দীপাবলির রাত থেকেই দিল্লির বাতাস বিষাক্ত। একেই দূষণের মাত্রায় দেশের সব রাজ্য ও বড় শহরগুলির মধ্যে দিল্লিই শীর্ষে ছিল। দীপাবলির পর থেকে দিল্লির বাতাসের মান তথা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, দীপাবলির দিনেই দিল্লির কোনও কোনও জায়গায় বাতাসের মান সূচক উঠে গিয়েছিল ৬১৭-তে। কোথাও আবার ৯৯৯ ছাড়িয়েছিল। অথচ গতবছর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৪৩৩, তার আগের বছর ২০১৯ সালে ৩৯০। শুক্রবারই দিল্লির বাতাসের মান সূচক ছিল পাঁচশোর বেশি। প্রতিবেশী শহর ফরিদাবাদে বাতাসের মান সূচক ছিল ৪৬৯, গ্রেটার নয়ডায় ৪৬৪, গাজিয়াবাদে ৪৭০, গুরগাঁওতে ৪৭০।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: