ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
চিকিৎসা ছাড়াই এইডস জয়, বিশ্বে সাড়া ফেলে দিলেন এই মহিলা
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

চিকিৎসা ছাড়াই এইডস জয়, বিশ্বে সাড়া ফেলে দিলেন এই মহিলা

 লন্ডন ও বার্লিন পেশেন্টের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই।


মারণ রোগ জয় করে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন এঁরা। কিন্তু এবার আরও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। কোনওরকম ওষুধ বা চিকিৎসা ছাড়াই এইডস (HIV) জয় করেছেন আর্জেন্টিনার ৬৬ বছরের এক মহিলা।

২০১৩ সালে এইডস ধরা পড়েছিল তাঁর। রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। ২০১৭ সালে রক্তের নমুনা পরীক্ষার সময় ধরা মারণ রোগ ধরা পড়ে। কিন্তু ততদিনে এইচআইভি-র অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছিল মহিলার শরীরে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, কোনওরকম ওষুধের থেরাপি ছাড়াই নিজে থেকেই ভাইরাস নির্মূল হয়ে গেছে রোগীর শরীর থেকে। এইডসের মতো মারণ রোগের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা খুবই বিরল।


ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, ওই মহিলার রোগ প্রতিরোধ শক্তি অসাধারণ। রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে ভাইরাস সক্রিয় হওয়ার আগেই নির্মূল হয়ে যায়। শরীর যখন নিজে থেকেই ভাইরাস নির্মূল করতে পারে কোনও রকম থেরাপি ছাড়াই তখন তাকে বলে ‘স্টেরিলাইজিং কিওর’ । এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে খুবই বিরল।

‘বার্লিন পেশেন্ট’কে মনে আছে। স্টেম সেল থেরাপিততে প্রথম এইডস-মুক্ত হয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন মার্কিন বংশোদ্ভূত বার্লিনের বাসিন্দা টিমোথি রে ব্রাউন। রক্তের ক্যানসারেও আক্রান্ত ছিলেন তিনি। তবে বার্লিন পেশেন্টের এইডস সেরেছিল স্টেম সেল থেরাপিতে, আর্জেন্টিনার এই মহিলা মারণ রোগ সারালেন নিজে থেকেই।

এইডস সারাতে জিন থেরাপির প্রয়োগ করছেন ডাক্তাররা। বার্লিন রোগীর ক্ষেত্রে যা সফল হয়েছিল।

সাধারণত, কোষে ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়া ঢুকতে গেলে তাদের কোনও বাহক বা রিসেপটরের দরকার হয় (Virus Receptor)। মানুষের শরীরের কোষ বা Host Cell এই এই বাহক খুঁজে নিয়ে কোষে সংখ্যায় বাড়ে ভাইরাসরা। প্রতিটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার জন্য আলাদা আলাদা রিসেপটর থাকে। এইচআইভি-১ (HIV 1) ভাইরাস স্ট্রেনের জন্য সাধারণত যে রিসেপটর বা বাহক কাজ করে তার নাম হল সিসিআর-৫ (CCR5) ।

হোস্ট সেলের এই সিসিআর-৫ বাহকের জিনগত গঠনের বদল বা মিউটেশন হয় অনেক সময়। এইডস রোগীর শরীরে এই বাহক জিনের মিউটেশন হলে সে এইচআইভি-১ ভাইরাসের জন্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।  অর্থাৎ ভাইরাসকে আর চিনে উঠতে পারে না। কাজেই তার সঙ্গে জোটও বাঁধতে পারে না। আর ভাইরাস যদি বাহকের সঙ্গে জুটি না বাঁধে তাহলে তার আর কোষে ঢোকা সম্ভব হয় না। গবেষকরা বলছেন, তাই এমন ডোনার (দাতা) খুঁজতে হয় যার শরীরে এই বিশেষ জিন রয়েছে। সেই ব্যক্তির অস্থিমজ্জা থেকেই বানানো হয় এমন স্টেম-সেল যা এইচআইভির সঙ্গে লড়াই করতে পারে। টিমোথির শরীরেও মনই স্টেম-সেল ঢোকানো হয়েছিল। যে কারণেই দেখা যায় নতুন করে আর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারেনি তাঁর শরীরে।  রোগমুক্তি ঘটে ধীরে ধীরে। তবে এই মহিলার ক্ষেত্রে এমন অসম্ভব কাজ কী করে সহজেই সম্ভব হল তা পরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকরা।খবর দ্য ওয়ালের/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *