ঢাকা, বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১০ অপরাহ্ন
কৃষকদের সমস্যায় রেখে ফয়দা লুটতে চাইছে বিরোধীরা, কৃষি আইন প্রত্যাহারের পরে পালটা তোপ মোদীর
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কৃষকদের সমস্যায় রেখে ফয়দা লুটতে চাইছে বিরোধীরা, কৃষি আইন প্রত্যাহারের পরে পালটা তোপ মোদীর

 শুক্রবার তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিরোধীরা একবাক্যে বলেছে, কৃষক আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করল মোদী সরকার। শনিবার উত্তরপ্রদেশের মহোবায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী পালটা আক্রমণ করলেন বিরোধীদের। তাঁর বক্তব্য, কোনও কোনও পার্টির রাজনীতির মূল কথাই হল, কৃষকদের সমস্যার মধ্যে আটকে রাখ। রাজনীতিতে ‘পরিবারতন্ত্রেরও’ সমালোচনা করেন মোদী। তিনি বলেন, যে দলগুলি কোনও পরিবারের কুক্ষিগত হয়ে আছে, তারা কৃষকদের সমস্যার সমাধান করতে চায় না।


এরপরেই মোদী বলেন, বিরোধীরা মানুষের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করে। বিজেপি করে সমাধানের রাজনীতি। তাঁর কথায়, “পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি চায়, কৃষকরা সমস্যার মধ্যে থাকুন। তারা কৃষকদের জন্য অনেক কিছু ঘোষণা করে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে কৃষকরা কানাকড়িও পান না।” মোদীর দাবি, “আমাদের সরকার কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে।”

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকর্মের প্রতিটি পর্যায়ে যাতে কৃষকরা উপকৃত হন, তার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে মোদী জানিয়ে দেন, নভেম্বরের শেষেই শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। তখন তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। শুক্রবার মোদী কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করার পরে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানায়, এখনই আন্দোলন শেষ হচ্ছে না। যতদিন না সংসদে তিনটি আইন বাতিল বলে ঘোষিত হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।


শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার সবচেয়ে অভিনব দিকটি হল, এই ঘোষণা করার জন্য তিনি একটি বিশেষ দিনকে বেছে নিয়েছেন। আজ গুরুপূর্ণিমা। কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা এই দিনেই করলেন মোদীজি। আর এর থেকেই প্রমাণিত, যে দেশের প্রত্যেকের ভাল করাই তাঁর উদ্দেশ্য। আর অন্য কোনও ভাবনা তাঁর মনে নেই। যথার্থই দেশনায়কের ভূমিকা পালন করেছেন মোদীজি।

নরেন্দ্র মোদীর শুক্রবারের এই বড় ঘোষণার পর থেকেই তোলপাড় হয় জাতীয় রাজনীতি। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে এই তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে গেছেন কৃষকরা। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লিতে কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ দেশ জুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ‘অন্নদাতাদের সত্যাগ্রহে অহংকারের মাথা নত হওয়া’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হেরে বাধ্য হয়েই বিজেপির এই সিদ্ধান্ত। পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার ভয়ও আছে এর পিছনে, বলেছেন একাধিক কংগ্রেস নেতা।খবর দ্য ওয়ালের/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: