ঢাকা, বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
ঝাড়খণ্ডে রেললাইনে বিস্ফোরণ, ডিজেল ইঞ্জিন লাইনচ্যুত
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ঝাড়খণ্ডে রেললাইনে বিস্ফোরণ, ডিজেল ইঞ্জিন লাইনচ্যুত

 শনিবার ভোরে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ (Dhanbad) ডিভিশনে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে লাইনের কিছু অংশ উড়ে যায়। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, গারওয়া রোড ও বারকানা সেকশনের মাঝে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তার ফলে লাইনচ্যুত হয়েছে একটি ডিজেল লোকোমোটিফ ইঞ্জিন। বিস্ফোরণে কারও হতাহত হওয়ার খবর নেই। মাওবাদীরাই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।


বিহারে পাঁচদিনের মধ্যে এই নিয়ে দু’বার মাওবাদী হামলা হল। গত ১৫ নভেম্বর গয়া জেলায় সালিশি সভা বসিয়ে একটি পরিবারের চারজনকে ফাঁসি দিয়ে দেয় মাওবাদীরা। তাদের বাড়িটিও ডিনামাইট বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুমারিয়ার মনবার গ্রামের সরযূ ভোক্তার দুই ছেলে সত্যেন্দ্র সিং ভোক্তা, মহেন্দ্র সিং ভোক্তা ও তাদের স্ত্রীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে বাড়ির সামনে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। বাড়ির দরজায় মাওবাদীরা পোস্টার সেঁটে জানিয়ে দিয়েছে, পরিবারটিকে খুন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হল। পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে, অমরেশ কুমার, সীতা কুমার, শিবপূজন কুমার, উদয় কুমার-এই চার মাওবাদীকে অতীতে বিষ দিয়ে মেরে ফেলায় জড়িত ছিল পরিবারটি। ‘বেইমানদের’ এমন কঠিন শাস্তি হবে বলেও হুঁশিয়ারি রয়েছে পোস্টারে। যদিও ঘটনা হল, বছরখানেক আগে মনবার গ্রামে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে খতম হয় ওই চার মাওবাদী। কিন্তু মাওবাদীদের দাবি, ওটা ভুয়ো সংঘর্ষ ছিল। মাওবাদীরা  যে বাড়িতে ছিল, তার মালিক ওদের বিষ খাইয়ে পুলিশকে  ডাকে। পুলিশ এসে সাজানো সংঘর্ষে মেরে ফেলে ওদের।


গত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম মাওবাদীরা গণ আদালত বসিয়ে কাউকে সাজা দিল।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সন্দেহভাজন মাওবাদীরা গয়ার একটি স্কুলবাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়ে যাওয়ার আগে সিএএ, এনপিআর, এনআরসি ও  ‘ফ্যাসিস্ত বিজেপি সরকার’ বিরোধী লিফলেট ছড়িয়ে যায়। সেপ্টেম্বরে ২০০৩ সালে ১১ বিহার পুলিশ জওয়ান হত্যায় অভিযুক্ত চেরন নামে এক ওয়ান্টেড মাওবাদী রোহতাসের যদুনাথপুরে গ্রেফতার হয়। ২০০৩ এ নওহাট্টা থানা এলাকায় মাওবাদীরা পুলিশের একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল যাতে ১১ পুলিশকর্মী প্রাণ  হারিয়েছিলেন।

গত ১৩ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে নিহত হয় ২৬ মাওবাদী। ১৪ নভেম্বর জানা যায়, ১০ ঘণ্টার গুলির লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে আছেন মাওবাদী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মিলিন্দ তেলতুম্বদে। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। মিলিন্দ বাদে আরও দু’জন শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতা শনিবার নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন মহেশ ওরফে শিবাজি রাওজি গোতা এবং লোকেশ ওরফে মাঙ্গু পোড়িয়াম। দু’জনেই ছিলেন গড়চিরোলি ডিভিশনাল কমিটির সদস্য। মহেশের মাথার দাম ছিল ১৬ লক্ষ টাকা। পোড়িয়ামের মাথার দাম ছিল ২০ লক্ষ টাকা।খবর দ্য ওয়ালের/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: