ঢাকা, শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
কাশ্মীরে হুররিয়াত কনফারেন্সের ডাকা বনধ সর্বাত্মক, রাষ্ট্রপতিকে চিঠি গুপকার জোটের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

কাশ্মীরে হুররিয়াত কনফারেন্সের ডাকা বনধ সর্বাত্মক, রাষ্ট্রপতিকে চিঠি গুপকার জোটের

জম্মু-কাশ্মীরের হায়দারপোরায় সম্প্রতি পুলিশের এনকাউন্টারে বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য কাশ্মীর উপত্যকায় সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই ভাষা সূত্রে প্রকাশ, আজ (শুক্রবার) হুররিয়াত কনফারেন্সের ডাকা বনধে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, শ্রীনগরে বেশিরভাগ দোকান, পেট্রোল পাম্প এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অধিকাংশ গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। যদিও কিছু এলাকায় প্রাইভেট কার এবং অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। তাঁরা বলেন, উপত্যকার অন্যান্য এলাকা থেকেও বনধে একই ধরণের খবর পাওয়া গেছে। গুরুপরবে ছুটির কারণে বনধ আরও সমর্থন পেয়েছে।    

আজ হিন্দি গণমাধ্যম ‘অমর উজালা ডটকম’ জানিয়েছে, পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন (পিএজিডি)-এর পক্ষ থেকে হায়দারপোরা এনকাউন্টার নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। তাদের দাবি, এনকাউন্টারে নিহত তৃতীয় বেসামরিক ব্যক্তির লাশও যেন তার পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।   

এরআগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে গুপকার জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জোটের মুখপাত্র মুহাম্মাদ ইউসুফ তারিগামি সাংবাদিকদের বলেন, গুপকার জোট একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চেয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিয়েছে।

অন্যদিকে, হায়দারপোরা এনকাউন্টারের ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ। আজাদ বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু কখনও কখনও বাড়াবাড়ির ঘটনাও সামনে আসে। এমন পরিস্থিতিতে তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। 

তিনি বলেন, পুলিশ দাবি করেছে যে হায়দারপোরায় দু’জন সন্ত্রাসী ও তাদের দু’জন সাহায্যকারী নিহত হয়েছে। এখন জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন চিকিৎসক, একজন ব্যবসায়ী ও একজন শ্রমিকও রয়েছেন। গুলাম নবী আজাদ আরও বলেন, তার শাসনামলে, তিনজন রাস্তার বিক্রেতাকে শ্রীনগরের লালচক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যাদেরকে পাকিস্তান প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু কবর খনন করে দেখা যায় তিনজনই রাস্তার ভেন্ডার ছিল। ওই ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ১৩ জন এখন জেলে আছে বলেও গুলাম নবী আজাদ মন্তব্য করেন। খবর পার্সটুডে/২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: