ঢাকা, বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
ক্রিমিয়া ইস্যুতে রাশিয়াকে সমর্থন দিল বুলগেরিয়া: ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ক্রিমিয়া ইস্যুতে রাশিয়াকে সমর্থন দিল বুলগেরিয়া: ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ সম্প্রতি ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূমি বলে মন্তব্য করার পর এর প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস গতকাল এক বিবৃতিতে তাদের এ উদ্বেগের কথা জানায়।

২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই অধিগ্রহণকে অবৈধ মনে করে। বুলগেরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্র। সম্প্রতি সেখানে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রাদেভ। তিনি বলেন ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বুলগেরিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে তবে একইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের পূর্বে এক বিতর্কে রাদেভ বলেন, ক্রিমিয়া এখন রাশিয়ার অংশ। তিনি ইইউকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন তিনি। তার ধারণা এই নিষেধাজ্ঞা একদমই কাজ করছে না। যদিও মার্কিন দূতাবাস এমন বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, জি৭, ইইউ ও ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান এক্ষেত্রে অভিন্ন ও স্পষ্ট। রাশিয়া সেখানে আগ্রাসন চালালেও ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশ। রাদেভ যখন ক্রিমিয়া ইস্যুতে প্রথম তার মন্তব্যটি করেন তখন ইউক্রেন থেকেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ বলে মন্তব্য করার পর আমেরিকার উদ্বেগ থেকে পূর্ব ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওয়াশিংটন বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো প্রথমে ন্যাটো সামরিক জোটে এবং এরপর তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের এই দেশগুলোর মতবিরোধের কারণে তারা গত দুই দশক ধরে যতটা সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। উদাহরণ স্বরূপ পোল্যান্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। এ দেশটি সবসময়ই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে এমনকি ন্যাটোর সঙ্গেও বিবাদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের নীতির প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আফিফা আবেদি বলেছেন, ইউরোপের কোনো কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিবাদে ওয়াশিংটনেই সমর্থন দেয়। কিন্তু অন্য দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনো উত্তেজনা নিরসনের পক্ষপাতি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পর্যন্ত যখন যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে তারা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সমর্থনকে হিসাব করতো। কেননা তাদের সমর্থন নিয়েই তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর ওপর জোরে করে ওয়াশিংটনের নীতি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। বুলগেরিয়া সরকার ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ বলে স্বীকৃতি দেয়া থেকে বোঝা যায় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো আমেরিকার রুশ বিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করছে না। খবর পার্সটুডে/২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: