ঢাকা, শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বাতিল হচ্ছে হাজার হাজার, ব্যাঙ্কগুলির থেকে কৈফিয়ত চাইল নবান্ন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বাতিল হচ্ছে হাজার হাজার, ব্যাঙ্কগুলির থেকে কৈফিয়ত চাইল নবান্ন

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলার ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় আর বাধা থাকবে না। সবাই স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের (Students Credit Card) সুবিধা পাবেন। কিন্তু এর বাস্তব ছবিটা এখন বেশ বিভ্রান্তিকর। অভিযোগ, হাজার হাজার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে ব্যাঙ্ক। ঋণের জন্য আবেদন করেও বিফল হয়ে ফিরতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। যত সংখ্যক আবেদন মঞ্জুর হয়েছে তার প্রায় সম সংখ্যকই বাতিল হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগের পাহাড় যেমন জমছে, তেমনই খুলে যাচ্ছে ক্ষোভ-অসন্তোষের জ্বালামুখ। বড় মুখ করে যা ঘোষণা করা হয়েছিল, দেখা যাচ্ছে তার ভিতরটা ফাঁপা। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে নবান্ন। তাই জেলায় জেলায় ঘুরে ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে কথা বলার জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি করল রাজ্য সরকার।

পর্যবেক্ষকদের অনেকে মতে, টাস্ক ফোর্সের ব্যাপারটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলো তো বটেই, এমনকি অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এভাবে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড দিতে চাইছে না। কারণ, তারা মনে করছে এই টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। ব্যাঙ্কে যে টাকা রয়েছে তা সাধারণ মানুষেরই গচ্ছিত বা সঞ্চিত টাকা। সেই টাকা বিপন্ন হলে সাধারণ মানুষও বিপন্ন হতে পারে। ফলে ব্যাঙ্কগুলি যা চায় তা হল টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা। সেই নিশ্চয়তার বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলায় জেলায় টাস্ক ফোর্স যতটা না প্রয়োজন, তার থেকে বেশি প্রয়োজন সরাসরি ব্যাঙ্কগুলির কথা বলা।

JIS-24Nov
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, টাকার অভাবে যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয় সে জন্যই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লক্ষ টাকা অবধি ঋণ নিতে পারবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে তাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দশম থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, গবেষণা, ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে লোন পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাঁরা, সেক্ষত্রে কোচিংয়ের ফি-ও মেটানো যাবে এই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এছাড়া লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ, কোর্স ফি, হস্টেল ফি, বই কেনা যাবে এই কার্ড ব্যবহার করে। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রেও এই কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ঋণ।
অভিযোগ, শুধুমাত্র প্রফেশনাল কোর্সের জন্যই ঋণের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে। ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়ারা ঋণের জন্য আবেদন করলে তা মঞ্জুর করছে ব্যাঙ্ক। কিন্তু বাকি কোর্সগুলির ক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। তাছাড়াও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লোন নিতে হলে পড়ুয়াদের যেসব নথি জমা করতে হচ্ছে তার মধ্যে রেজাল্ট, কোর্সের খরচ, পরিবারের আয় এসবও থাকছে। অভিযোগ, মেধার মান সন্তোষজনক না হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের আবেদন বাতিল করে দিচ্ছে ব্যাঙ্ক। এর আগেও কয়েকটি ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের মেধার মান দেখে ঋণের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছিল।


এই নিয়ে বিতর্ক হলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ছাত্রছাত্রীদের কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে কোনও কিছু বন্ধক রাখা বা অভিভাবকদের আয়ের প্রমাণপত্র চাওয়া হয়নি। আবেদনকারী কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া এবং মেধাবী কি না, সেটাই বিবেচনা করা হয়েছে। যাঁরা ঋণ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে বহু নিম্ন আয়ের পরিবারের পড়ুয়া আছেন। পড়ুয়াদের কোর্স ও মেধার মান সন্তোষজনক না হলে চাকরি পেতে সমস্যা হবে। তখন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে সমস্যা হবে ছাত্রছাত্রীদের। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যেসব পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য লোনের আবেদন করবেন তাঁদের সকলেরই আবেদন মঞ্জুর করতে হবে। তাই একদিকে যেমন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ঋণের আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তেমনই অসন্তোষ জমছে পড়ুয়াদের মনে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জট কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লোন স্যাংশন ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছিল। মোট ১৭৬টি লোন স্যাংশান ক্যাম্প করা হয়েছিল কলকাতা সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে। আট হাজারের বেশি লোনের অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছিল ক্যাম্পগুলি থেকে। সেই সঙ্গেই ছাত্রছাত্রীরা পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা। আগামী ১ জানুয়ারি ‘শিক্ষার্থী দিবস’ উপলক্ষে প্রায় ২০ হাজার ছাত্র ছাত্রীদের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। কিন্তু তার আগেই অসন্তোষ আর অভিযোগের পাহাড় জমছে।

পরিসংখ্যাণ বলছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার ৪৬৮টি ঋণের আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। মঞ্জুর করা হয়েছে ৪ হাজার ৬১৮টি। কেন এত আবেদন বাতিল হল, কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা জানতেই টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে নবান্ন। এই টাস্ক ফোর্সের কাজ হবে, জেলায় জেলায় ঘুরে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা। কী কারণে ঋণের আবেদন বাতিল হচ্ছে, কী কী বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্যাঙ্ক, কেন লোন পেতে সমস্যা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের ইত্যাদি সব বিষয়ে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। খবর দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *