ঢাকা, সোমবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
ইরান আমেরিকাকে তার আচরণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে মুখের কথায় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এনবিএস ওয়েবডেস্ক :

ইরান আমেরিকাকে তার আচরণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে মুখের কথায় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া পরমাণু আলোচনাকে সফল করতে ইরান অত্যন্ত আন্তরিক। কিন্তু আমেরিকার একের পর এক নেতিবাচক পদক্ষেপ এই আলোচনায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তিনি মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনেজিও ক্যাসিসের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা একদিকে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহে দুই দফায় ইরানের বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার এই স্ববিরোধী আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় ইরান দেশটিকে তার আচরণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে তার মুখের কথায় নয়।

আগামী ২৯ নভেম্বর থেক ভিয়েনায় ইরান বিরোধী একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এমন সময় এ সংলাপ শুরু হচ্ছে যখন পরমাণু সমঝোতার সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলো ও আমেরিকা ইরানের অধিকারের বিষয়টিকে উপেক্ষা করে এই সংকট সমাধানের বিষয়টিকে অন্য কিছুর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করায় ভিয়েনা সংলাপ আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও ভিয়েনা সংলাপ শুরুর আগে বিরাজমান বাধা দূর করার জন্য দুপক্ষই অর্থাৎ ইরান ও তার প্রতিপক্ষরা পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ব্যাপক আন্তরিকতা দেখিয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির তেহরান সফরের পর ইরান ও এই সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইএইএর ৩৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটির নিয়মিত বৈঠকের প্রাক্কালে তিনি এ সফরে আসেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাফায়েল গ্রোসির তেহরান সফরের একই সময়ে ইরান বিরোধী যে অপপ্রচার হয়েছে তা সত্বেও এই সংস্থা ইরান বিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হয় না। কেননা তারাও চায় না ভিয়েনা সম্মেলন শুরুর আগে পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলতে।

আমেরিকা ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে। কিন্তু এখন তারা নিষেধাজ্ঞা না তুলেই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে চাইছে যা আইনগতভাবে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ কাদেরি এ ব্যাপারে বলেছেন, 'আমেরিকা ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ বার্তায়ই দিয়েছে যে তারা ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চায় এবং তেহরানকে ওয়াশিংটনের আবদার মেনে নিতে বাধ্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণ নিঃসন্দেহে অগঠনমূলক এবং আলোচনার ব্যাপারে তারা যে কথাবার্তা বলছে তার সঙ্গে তাদের আচরণের কোনো মিল নেই।' 

সমস্যা হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার নিশ্চয়তা না দিয়ে আমেরিকা বারবার ইরানকে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার দাবি জানাচ্ছে যা অযৌক্তিক। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভিয়েনা আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে মার্কিন সঠিক আচরণের ওপর এবং আলোচনায় একটি সিদ্ধান্তে আসার জন্য সময় খুবই কম। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখতে রাভানচি বলেছেন, আমরা আমেরিকার কাছ থেকে কেবল এ নিশ্চয়তা চাই যে তারা পরমাণু সমঝোতা থেকে ফের বেরিয়ে যাবে না। এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনালাপে বলেছেন, আমেরিকাই আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: