ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:০৭ অপরাহ্ন
ঢাবি না থাকলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হতো না, রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো না: আ ক ম মোজাম্মেল হক
Reporter Name

ঢাবি না থাকলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হতো না, রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো না: আ ক ম মোজাম্মেল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ইতিসাহ তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে বোধ হয় পাকিস্তানের সৃষ্টি হতো না। এই বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিলো। ১৯৪৬ সালের ভোটের মাধ্যমেই পাকিস্তানের সৃষ্টি। এখনকার যে পাকিস্তান তারা অবিভক্ত ভারত চেয়েছিলো। বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সেদিন ছাত্র নেতা হিসেবে পাকিস্তানের আন্দোলন গড়েছিলেন, দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

 শুক্রবার ঢাবির শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টির যে আলোকবর্তিকা সৃষ্টি হয়েছিলো তার সিংহভাগ স্বিকৃতির দাবিদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবির অবদান এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতো না। ঢাবি ছাত্রদের নেতৃত্বেই সেদিন সারা বাংলাদেশ গর্জে ওঠে। তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন এককভাবে ঢাবি নেতৃত্ব দিয়েছে। এতে আইয়ুব খানের শিক্ষা নীতি বাতিল হয় এবং দেশের ছাত্র সমাজের জয় হয়। মার্শালের পতনের সুভ সূচনা হয় এই আন্দোলনের মাধ্যমেই। আগরতলা ষড়যন্ত মামলায় ঢাবি তার গৌরবউজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর মাধ্যমে ৬৯ এর গণঅভ্যূথ্যান না হলে স্বাধীনতা হয়তো আরও বিলম্বে হতো, যার একক নেতৃত্বে ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অ্যামালনাইদের নিয়ে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ¦ল করার অঙ্গিকার করার সময় এই শতবর্ষের অনুষ্ঠান। চতুর্থ শিল্প বিল্পবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ তৈরির জন্য উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব আমরা সেই অঙ্গিকার করছি। সকল অংশজনদের সঙ্গে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় যেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরের মতোই কাঙ্খিত ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রয়োজন আমাদের মনোযোগ এবং বিনিয়োগ। সেই সক্ষমতা সরকার এবং অংশিজনদের রয়েছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর অধিকাংশ নায়ক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। দেশ গড়বার কাজে এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে এটা আমি বিশ্বাস করি। এখানে উপস্থিত যারা আছেন তারা সবাই এখানকার প্রাক্তন ছাত্র। তারাও দেশ গড়ার কাজ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে প্রাক্তনিদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ঢাবির জন্ম, পচ্ছাদপদদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা, আর এই পচ্ছাদপদ ছিলো মুসলিম জনগোষ্ঠি। মুসলিম শিক্ষার চেতানা নিয়ে গঠিত হলেও ঢাবি সাম্প্রদায়িকতার চেতনায় ভেসে যায়নি। সেকারণেই এ অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এদেশের ভাষার বিকাশের লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: