ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
প্রতি রানের জন্য ২০০, উইকেটের জন্য আড়াই হাজার টাকায় চুক্তি
Reporter Name

প্রতি রানের জন্য ২০০, উইকেটের জন্য আড়াই হাজার টাকায় চুক্তি

প্রতি রানের জন্য ২০০ টাকা, উইকেটের জন্য আড়াই হাজার টাকা। ক্রিকেটারদের সঙ্গে এমন এক অদ্ভূত চুক্তি করেছিলো দ্বিতীয় বিভাগের দল গুলশান ইয়ুথ ক্লাব। এরপর ২০১৯-২০ লিগ শেষ হওয়ার পর দেড় বছর কেটে গেলেও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি পারিশ্রমিক। পাওনা অর্থ ও চুক্তি নিয়ে মনগড়া বক্তব্য ক্লাব কর্তৃপক্ষের। সিসিডিএম বলছে, অভিযোগ না আসায় তারা ব্যবস্থা নেয়নি।

২০১৯-২০ মৌসুমের দ্বিতীয় বিভাগ লিগ শেষ হওয়ার পর কেটে গেছে দেড় বছর। তবে এখনো পারিশ্রমিকের পুরো টাকা বুঝে পাননি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ক্রিকেটাররা। বারবার তাই টাকার জন্য ধরণা দিতে হচ্ছে ক্লাব কার্যালয়ে। অথচ এ মাসেই শুরু হওয়ার কথা আরও একটি লিগ।

পাওনা টাকা দেয়ার বিষয়ে কথা বলতে গেলে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ওনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনারা আলোচনা করে টাকাটা দিয়ে দেবে। আজ পর্যন্ত কোন টিম গুলশান ক্লাবের ইতিহাসে বলতে পারবে না যে, কোনও এক খেলোয়াড় টাকা পায়নি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বারবার প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ গুলশান ইয়ুথ ক্লাব। ক্রিকেটারদের অভিযোগ, সরঞ্জাম কিনতে যে অর্থ খরচ হয়েছে তাও পাননি তারা। যার কারণে পরিবারের চাপ, অর্থের সঙ্কট, সবমিলে ক্যারিয়ার নিয়ে দুঃশ্চিন্তা।

ভুক্তভোগী একজন খেলোয়াড় বলেন, ‘কখনো আমরা সম্পূর্ণভাবে টাকাটা পাইনি। দুই বছর ধরে তো টাকাই পাচ্ছি না। আরেকজনের বক্তব্য, স্যাররাও যোগাযোগ করেনি। ক্লাবের কোনও সদস্যও যোগাযোগ করেনি যে, খেলোয়াড়রা কি অবস্থায়, কেমন আছে। ছেলেরা মাঠে এসে বসে থাকে। কিন্তু তারা কেউ থাকে না মাঠে।
[৬] ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) বলছে, তাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। সিডিএমের সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, আমরা আজ পর্যন্ত এমন কোনও অভিযোগ পাইনি।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন এমনটা করার প্রশ্নই আসে না।

পাওনা টাকা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে হয়তো ভাবছেন না এ তরুণরা। তবে তাদের কথায় উঠে এসেছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের নানারকম অসঙ্গতি। এক রানের জন্য ২০০ টাকা, উইকেটের জন্য আড়াই হাজার টাকা। ক্রিকেটারদের সঙ্গে এমন অদ্ভূত চুক্তি করেছিল গুলশান ইয়ুথ ক্লাব। সে হিসাবে লিগ শেষে ১৯ জনের পাওনা ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বেশিরভাগই পরিশোধ করেনি ক্লাব।

এমনটা কেন করেছে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী একজন ক্রিকেটার বলেন, ‘সেটা আমরা জানি না। তারা হয়তো, ভেবেছিল আমরা ভালো খেলবো কিনা। আর কোনও ক্লাবে এমন নিয়ম নেই। আরেকজন বলেন, আপনি ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে আউট হয়ে গেলেন, রানের খাতাও খুলতে পারলেন না, সেক্ষেত্রে ওই খেলোয়াড় কোনও টাকাও পেল না।

তৃতীয় আরেকজন বলেন, আম্পায়ারিংয়ের যে ব্যাপার, আমরা আগে থেকেই ধরে নেই যে তিন-চারটা ম্যাচে রান করবো না। সাতটা ম্যাচেই আমাদের হাতে থাকে। সেসব ম্যাচে আমরা কিভাবে রান করবো, সেটা নিয়ে মাথায় টেনশন থাকে।

অদ্ভূত এই নিয়ম চালু করেছিলেন ক্লাবটির তখনকার কোচ সারোয়ার ইমরান। শিষ্যদের পারিশ্রমিক নিয়ে সোচ্চার হলেও চুক্তির নিয়ম নিয়ে দিলেন নিজের মত ব্যাখ্যা। এমন নিয়টি তিনি করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তা স্বীকার করে এ কোচ বলেন, সবাই একসঙ্গে প্র্যাকটিস করে। এখন কাউকে বেশি-কম চুক্তি করা একটু ঝামেলা। শেষ দুইবছরে এরকমই ছিল। নিয়ম যাই হোক পারিশ্রমিক পেলেই খুশি ক্রিকেটাররা, সেটাও পাচ্ছেন না। আম্পায়ারিং নিয়েও সেই পুরোনো অভিযোগের অন্ত নেই।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: