ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
ডাকে পাঠানো হয়েছিল শিশু! ইতিহাসে সেই প্রথম বার
Reporter Name

ডাকে পাঠানো হয়েছিল শিশু! ইতিহাসে সেই প্রথম বার

 একসময়ে যখন ডাক ব্যবস্থা চালু হয়নি, তখন পায়রার পায়ে বেঁধে পাঠানো হতো চিঠি। তার পরে সময় বদলেছে, আধুনিক হয়েছে সভ্যতা। সেই সঙ্গেই মানুষের নিত্যজীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে ডাকব্যবস্থা। এখন তো যত বড় জিনিসই হোক আর তা যত দূরেই পাঠাতে হোক, ডাকব্যবস্থার মাধ্যমে অসম্ভব নয় কিছুই!

কিন্তু এই ডাকব্যবস্থার সঙ্গেই জুড়ে আছে এক অসম্ভব কাণ্ড। ডাকের মাধ্যমেই ছোট বাচ্চাকেও নাকি পাঠিয়ে দেওয়া যেত প্রিয়জনেদের কাছে! শুনতে যতই বিস্ময়কর লাগুক, এ ঘটনা সত্য।

ইতিহাস বলছে, ঘটনাটি বিশ শতকের গোড়ার দিকের। ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের সময়কালে আমেরিকায় ঘটেছিল এই ঘটনা, বেশ কয়েকবারই। পার্সেল পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে পাঠাতে পারতেন। শুধু তাই নয়, এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক ছিল বলেও জানা যায়।

সে সময়ে পার্সেল পোস্ট সার্ভিসের ডেলিভারি মাধ্যমে ৫০ পাউন্ড বা সাড়ে ২২ কেজি ওজনের যে কোনও জিনিসপত্র পাঠানো যেত। খরচ ছিল নামমাত্র। এমনকি ট্রেন ভাড়ার চেয়েও কম। তাই সে সময়ে কিছু অভিভাবক স্থানীয় ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে তাদের সন্তানদের আত্মীয়দের কাছে পাঠানোর চল শুরু করেন।Sending Children by Parcel Postজেসি ও মাথিল্ডা বিগল ছিলেন এমনই অভিভাবক। তাঁরা তাঁদের ১০ পাউন্ড ওজনের ছেলেকে এক মাইল দূরের ঠাকুমার কাছে পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়ার মতো গাড়িভাড়া তাঁদের কাছে ছিল না।

সেই সময়েই, ১৯১৩ সালে জেসি ও মাথিল্ডার হঠাত্‍ করেই মনে পড়ে পার্সেল পোস্ট সার্ভিসের কথা। সেই মতোই তাঁরা স্থানীয় মেল ডেলিভারি ম্যানের তত্ত্বাবধানে নিজেদের ছেলেকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন ঠাকুমার কাছে। খরচ হয়েছিল ১৫ সেন্ট। এই ঘটনার কথা জেনে সকলেই অবাক হয়েছিলেন।Mailing Children Through the US Post | The Dinner Party Downloadএর কয়েক মাস পরে পেনসিলভানিয়ার এক পরিবার তাদের মেয়েকে আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়েছিল এমনই মেল করে। তাদের এজন্য ৪৫ সেন্ট খরচ হয়।

তবে ডাকে শিশু পাঠানোর সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি হল পাঁচ বছর বয়সি শার্লটের ঠাকুমার কাছে যাওয়া। শার্লটের ঠাকুমা আইডাহোতে থাকতো। খরচ বাঁচাতে শার্লটের বাবা-মা তাঁকে পার্সেল পোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে শার্লটের এক মামা সে সময়ে রেলে কাজ করতেন। ফলে শার্লট ডাকযোগে গেলেও, সেই ট্রেনে ছিলেন ওই মামা। সম্ভবত সেই কারণেই এত দূরে বাচ্চাটিকে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।Sending Children by Parcel Postএই ঘটনাটি এত বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল যে পরবর্তী সময়ে এটি নিয়ে ‘মেইলিং মে’ নামে একটি বইও প্রকাশিত হয়।

অন্যান্য জিনিসপত্রের মতো বাচ্চাদেরও কি ব্যাগে ভরে প্যাক করে পাঠানো হতো? না, তেমন কিছু করা হতো না। বাচ্চাদের গন্তব্যে পাঠানো হতো কেমন এক জন মেল ক্যারিয়ারের তত্ত্বাবধানে। যেন তিনিই সঙ্গে করে পৌঁছে দিলেন।

তবে এই পদ্ধতি যতই জনপ্রিয় হোক, মার্কিন পোস্টাল সার্ভিস এটি বন্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই পদ্ধতির এতই সুবিধা ছিল, যে ১৯২০ পর্যন্ত কেউ নাকেউ শিশুদের পাঠাতেনই ডাকযোগে। তার পরে ধীরে ধীরে এই পদ্ধতি বন্ধ হয়। খরব দ্য ওয়ালের /২০২১/এনবিএস/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: