ঢাকা, শুক্রবার ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর প্রদেশে শাহী ঈদগাহ মসজিদে জলাভিষেকের ঘোষণায় উত্তপ্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা জোরদার
Reporter Name

উত্তর প্রদেশে শাহী ঈদগাহ মসজিদে জলাভিষেকের ঘোষণায় উত্তপ্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা জোরদার

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরায় ৬ ডিসেম্বর শাহী ইদগাহ মসজিদে হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে জলাভিষেক কর্মসূচির ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশ, ‘পিএসি’ এবং ‘র্যা ফ’ জওয়ানদের মসজিদের আশেপাশে মোতায়েন করা হয়েছে।      

আজ (রোববার) বেসরকারি হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আজতক’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ, ৬ ডিসেম্বর (উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায়) বাবরী মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে মথুরায় চারটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন- অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি নির্মাণ ন্যাস, নারায়ণী সেনা এবং শ্রীকৃষ্ণ মুক্তি দল শাহী ইদগাহ মসজিদে জলাভিষেক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভা প্রশাসনের কাছে ওই চত্বরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপনের অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এসব সংগঠনকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে।    


নিরাপত্তা জোরদার
গণমাধ্যমে প্রকাশ, মসজিদের দিকে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয়পত্র আগে চেক করা হচ্ছে, তারপর সে অনুযায়ী তল্লাশি করা হচ্ছে। এরপরেই তাকে মসজিদের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। মথুরা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়া নজর রাখছে। মথুরা পুলিশের কর্মকর্তা এসএসপি সূত্রে প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট করার জন্য এ পর্যন্ত শহরের গোবিন্দনগর এবং কোতোয়ালি থানায় ৪টি পৃথক এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, আমাদের টিম সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। ৬ ডিসেম্বর শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ও শাহী ঈদগাহ মসজিদ কমপ্লেক্সের আশপাশে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হবে। এ জন্য ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।    


‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস    

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংস্থা ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটাতো আরএসএস সংঘ পরিবার বিজেপি ঘোষিত উদ্দেশ্য যেটা এর একটা তাৎক্ষণিক লাভ আছে যেটা ওদের দীর্ঘস্থায়ী যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি। যখন বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে তখন বলেছিল ‘ইয়ে তো পয়লা ঝাঁকি হ্যায়, মথুরা-কাশী আভি বাকি হ্যায়’৷ এখন সুবিধাজনক জায়গায় হচ্ছে যে যতই প্রশাসনের কথা বলুক না কেন আসলে প্রশাসনের মদদেই তো বাবরী মসজিদ ভাঙা হয়েছিল, আজকে তো তাঁরা সরাসরি প্রশাসনে আছে রাজ্যে ও কেন্দ্রীয় সরকারে৷ এটা ওদের কৌশলগত পরিকল্পনা, সেই   পরিকল্পনা সুচিন্তিত। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ওরা এগোচ্ছে৷ এতে ওদের তাৎক্ষণিক লাভ  হচ্ছে যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন আসছে সেই নির্বাচনে সুবিধা পাওয়া। মানুষের জনজীবনে এখন যদি আপনারা দেখেন যে ন্যাশনাল ফ্যামিলি সার্ভে রিপোর্ট যেটা বেরিয়েছে,  এডুকেশন স্ট্যাটাস রিপোর্ট সর্বক্ষেত্রেই বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো সবথেকে পিছিয়ে। উত্তর প্রদেশ সবথেকে দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিন নম্বরে রয়েছে।জনজীবনের এ সকল দৈনন্দিন সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্বাচনে জনঅসন্তোষকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার জন্যই তাদের এই তাৎক্ষণিক কর্মসূচি। সেজন্য ওদের  লাভ তো আছেই, কেননা এরা জনগণের প্রশ্নের, জীবিকার  প্রশ্নের, শিক্ষার প্রশ্নে, স্বাস্থ্যের প্রশ্নের কোনও সমাধান করতে পারবে না এবং এর কোনও  উত্তর ওদের কাছে নেই।’  

‘সেই কারনেই ওরা ধর্মীয় বিভাজন ঘটিয়ে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়িয়ে মানুষের মনকে বিষাক্ত করার চেষ্টা করছে যদিও সফল হয়নি পশ্চিমবঙ্গে সেটা প্রমাণিত হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস।         

শাহী ঈদগাহ মসজিদের দিকে যাওয়ার প্রবেশপথ রক্ষার দায়িত্ব মথুরার সিও সিটিকে দেওয়া হয়েছে। ‘সিও’ অভিষেক তিওয়ারি বলেন, আমরা এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছি। ড্রোন ক্যামেরায় নজরদারি করা হচ্ছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে কোনো অসামাজিক উপাদান এখানে কিছু না করতে পারে। এ ছাড়াও আমরা শনিবার পুলিশ লাইনে একটি মক ড্রিল করেছি, যেখানে দাঙ্গাবিরোধী স্কোয়াডের প্রস্তুতি দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মথুরার প্রতিটি প্রধান পয়েন্টে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: