নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১৩, অমিত শাহ’র শোক প্রকাশ
Reporter Name

নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১৩, অমিত শাহ'র শোক প্রকাশ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা এখনও ঘোষণা করা না হলেও নাগা পিপলস ফ্রন্ট দলের নেতা এবং রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী টিআর জেলিয়াং-এর মতে, ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে হিন্দি গণমাধ্যম ‘আজতক’ জানিয়েছে। 

গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় ওই গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর যে ছবিগুলো প্রকাশ্যে এসেছে তাতে গাড়ি পোড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। ঘটনাটি নাগাল্যান্ডের মোন জেলার ওটিঙের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।  

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিও রিও জনগণের কাছে শান্তির আবেদন জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্ত টিম ‘এসআইটি’ গঠন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এক বার্তায় বলেন, "মোনের ওটিংয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়। আমি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ওই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের এসআইটি তদন্ত হবে এবং দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে। আমি সমাজের সকল স্তরের কাছে শান্তির আবেদন জানাচ্ছি।" 

আজ (রোববার) সকালে ওই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বার্তায় বলেন, "নাগাল্যান্ডের ওটিং এর দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত। যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। রাজ্য সরকার কর্তৃক গঠিত একটি উচ্চ-স্তরের বিশেষ তদন্ত টিম শোকাহত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।"   


অমিত শাহ
গণমাধ্যমে প্রকাশ, ঘটনাটি ঘটেছে মোন জেলার ওটিঙের তিরু গ্রামে। হামলায় নিহতরা একটি পিকআপ মিনি ট্রাকে করে ফিরছিলেন। তারা কয়লা খনিতে কাজ করা দিনমজুর। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের খুঁজতে বের হয়। এরপর তাদের লাশ পাওয়া যায়। এসময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।   

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে প্রকাশ, সেনাবাহিনী এটিকে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেনাবাহিনীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করা হবে। সেনাবাহিনী কোর্ট অব ইনকোয়ারির নির্দেশ দিয়েছে।   

সোম এলাকাটিকে নাগা গ্রুপ এনএসসিএন(কে) এবং ‘উলফা’র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে মনে করা হয়। অসম রাইফেলসের কর্মকর্তা সূত্র উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশ, তারা সোম জেলার তিরুতে জঙ্গিদের সম্পর্কে শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান শুরু করেছিল। দৈনিক ভাস্কর-এর তথ্যে প্রকাশ, বলা হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন-এর সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের যুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, যার ফলে ওই গ্রামবাসীদের মৃত্যু হয়। খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: