নজরুলের জন্ম-মৃত্যু উল্টে গেল উল্টোডাঙায়, ক্ষমা চাইলেন তৃণমূলের শান্তি
Reporter Name

নজরুলের জন্ম-মৃত্যু উল্টে গেল উল্টোডাঙায়, ক্ষমা চাইলেন তৃণমূলের শান্তি

 বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ২৫ মে, মৃত্যুর সাল ১৯৭৩!

ঠিক দেখছেন! নজরুলের একটি মূর্তির নীচে খোদাই করে এটাই লেখা রয়েছে। সেটা কোথায়? একেবারে উল্টোডাঙায় হাডকো মোড়ে। লক্ষ মানুষের যাতায়াতের পথ! তাঁরা রোজ দেখছেন এমনই ঐতিহাসিক ভুল।

নজরুল মূর্তির নীচে যে ফলক রয়েছে সেখানে আবার নাম রয়েছে দু’জনের। একজন মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের দোর্দণ্ডপ্রতাপ কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু। মন্ত্রী অসুস্থ, মুম্বইতে চিকিৎসাধীন। তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শান্তি অবশ্য দ্য ওয়াল-এর প্রতিনিধির কাছ থেকে এই ঘটনা শুনেই লজ্জায় জিভ কেটেছেন। ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘খুব অন্যায় হয়েছে। আমি এক্ষুনি গিয়ে দেখছি।’
নজরুলের জন্ম হয়েছিল ২৪ মে, ১৮৯৯ সালে। অধুনা পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালের ২৯ অগস্ট, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।

বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে কবি, সাহিত্যিক, মনীষীদের নিয়ে একাধিক ভুলে ভরা তথ্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। এ ব্যাপারে তৃণমূল-বিজেপি কেউ বাদ নেই। সব দলের নেতারাই মণিমুক্ত ছড়িয়েছেন। এই যেমন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, সহজপাঠের লেখক বিদ্যাসাগর। দিলীপ ঘোষের চেয়েও বড় নেতা জেপি নাড্ডা। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বাংলায় এসে তিনি বলে বসেছিলেন, রবিঠাকুরের জন্ম শান্তিনিকেতনে। তা নিয়ে আবার জোড়াসাঁকোর তৎকালীন বিধায়ক স্মিতা বক্সী বলেছিলেন, মানহানির মামলা হওয়া উচিত!

স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, নেতাজি জয়ন্তীর মতো দিনগুলিতে অনেক জায়গায় মোড়ে মোড়ে এমন সব ফ্রেম দেখা যায় তাতে অনেকেরই মাথা হেঁট হয়ে যায়। কোথাও নেতাজির চেয়ে বড় আকারে দিদির ছবি তো কোথাও বা মদন মিত্রর পায়ের কাছে ভগৎ সিং। অনেকের মতে, এসব ব্যাপারে স্থানীয় স্তরের নেতাকর্মীরাই এই কাণ্ডগুলো ঘটান, যা নেতানেত্রীদের বিড়ম্বনা বাড়ায় বই কমায় না!

উল্টোডাঙায় নজরুলের জন্ম-মৃত্যুর সাল তারিখের গোলমাল নিয়ে শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার বলেন, ‘এমন ভুল অমার্জনীয় অপরাধ।’ তাঁর কথায়, ‘আমাদের মধ্যে এখন যে প্রবণতা বেশি করে দেখা যায় তা হল নিজেকে জাহির করা বা প্রকাশ করা। তবে অনেক বিষয় থাকে যা ভেবেচিন্তে কাজ করতে হয়, জেনে নিয়ে লিপিবদ্ধ করতে হয়। চিরকালের জন্য কোনও কিছু লিপিবদ্ধ করতে হলে তা জেনে নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে হয়। তবে এই দায়িত্ববোধটা এখন অনেক কম জনের মধ্যেই আছে বলে আমি লক্ষ্য করি।’

এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘এক্ষেত্রেও একই জিনিস হয়েছে। যাঁরাই মূর্তি তৈরি করেছেন বা উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁদের জাহির করার প্রবণতা থেকেই তা করেছেন বলে মনে করি। সেখানে তাঁদের নাম জ্বলজ্বল করবে সেটাই বড় কথা। কিন্তু সেখানে সঠিক তথ্য গেল কিনা, তা দেখার প্রবণতা নেই। এই প্রবণতা অমার্জনীয়।’

একই সুরে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার জানান, ‘প্রকাশ্য জায়গায় কবি নজরুলের প্রতিকৃতিতে জন্ম তারিখ, মৃত্যু সাল ভুল থাকা অত্যন্ত অনুচিত বলে মনে করি। যারা এটা বসিয়েছে তারা অবিলম্বে এই ভুল শুধরে নিন। জানা না থাকলে, যাঁরা জানেন, তাঁদের থেকে জেনে ঠিক করে নিন।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২১/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: