ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর প্রদেশে বিজেপিতে ব্যাপক ধস, দল ছাড়ছেন একের পর এক বিজেপি নেতা-মন্ত্রী
Reporter Name

উত্তর প্রদেশে বিজেপিতে ব্যাপক ধস, দল ছাড়ছেন একের পর এক বিজেপি নেতা-মন্ত্রী


ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে একের পর এক মন্ত্রী ও বিধায়করা ইস্তফা দেওয়া শুরু করেছেন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জন বিধায়ক দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এদের মধ্যে স্বামী প্রসাদ মৌর্য, দারা সিং চৌহান এবং ধরম সিং সাইনি নামের তিন মন্ত্রী রয়েছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) একজন মন্ত্রী এবং তিনজন বিধায়ক বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অর্থাৎ একদিনেই দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ৪ জন বিধায়ক। এতে রয়েছেন মন্ত্রী ধরম সিং সাইনি, বিধায়ক মুকেশ বর্মা, বিনয় শাক্য এবং বালা প্রসাদ অবস্থি।     

এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদায়ী মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-বিজেপিকে ‘নাগ’ ও ‘সাপ’ বলে অভিহিত করে এক বার্তায় বলেছেন, ‘নাগ’ রূপী আরএসএস এবং ‘সাপ’ রূপী  বিজেপিকে মৌর্য রূপী ‘নেউল’ উত্তর প্রদেশ থেকে শেষ করে শ্বাস নেবে।

বিদায়ী মন্ত্রী ধরম সিং সাইনি রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল সমাজবাদী পার্টির (সপা) দফতরে পৌঁছে ‘সপা’ প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন।

এ নিয়ে এ পর্যন্ত স্বামী প্রসাদ মৌর্য, ধরম সিং সাইনি, ভগবতী সাগর, রোশনলাল বর্মা, বিনয় শাক্য, অবতার সিং ভাদানা, দারা সিং চৌহান, ব্রিজেশ প্রজাপতি, মুকেশ বর্মা, দিগ্বিজয় নারায়ণ জয় চৌবে, বালা প্রসাদ অবস্থি, রাকেশ রাঠোর, মাধুরী বর্মা এবং আর কে শর্মা বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এরফলে সম্প্রতি বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা বিধায়কের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছেছে।  

বিদায়ী মন্ত্রী দারা সিং চৌহান মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের কাছে তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন– আমি আমার দায়িত্ব সম্পূর্ণ হৃদয় দিয়ে পালন করেছি, কিন্তু সরকার কৃষক, পিছিয়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত, বেকারদের অবহেলা করছে। তা ছাড়া,  সংরক্ষণ ইস্যুতে পিছিয়ে পড়া ও দলিতদের নিয়ে খেলায় আমি আহত। সেজন্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করছি।

‘চৌহান’ সমাজের একজন বড় নেতা দারা সিং চৌহান। মৌ-সহ ২০টি জেলায় তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি কোনো অবস্থাতেই তাকে হাতছাড়া করতে চায়নি। 


এ প্রসঙ্গে বিজেপিকে টার্গেট করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘যে কোনও জিনিষের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মার্কসের একটা কথা আমি খুব মানি, দিনের শেষে মূল কথাটা হলো মানুষের জীবন-জীবিকা। এটা হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর প্রদেশকে একসময় গো-মাতা, গো-শালা নিয়ে ল্যাবরেটরি বানানোর চেষ্টা করেছিল। মুসলিমরা তো পুরো চুপচাপ আছে। তারা তো ভীত আছে, সন্ত্রস্ত আছে। এখন তো সবথেকে বড়ো হয়ে গেছে আওয়ারা পশু, তারা তো খেয়ে নিচ্ছে ফসল। দ্বিতীয়  কথা হচ্ছে, কোভিড পরিস্থিতিতে মানুষের ভয়ঙ্কর অবস্থা। তুমি একটা গ্যাস সিলিন্ডার ফ্রি দিয়েছো, বাকি গ্যাস সিলিন্ডার কীভাবে নেবে, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার টাকা হয়ে গেছে। অর্থনীতিতে জীবন  জীবিকা বড়ো হয়ে উঠেছে। রাজ্যে বেকারত্ব চুড়ান্ত, চাকরি-বাকরি নেই। একের পর এক সবকিছু বেসরকারীকরণ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গরীব মানুষ। সব মিলিয়ে উত্তর প্রদেশে বিজেপি ভালো অবস্থায় নেই।’    

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর প্রদেশে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সমাজবাদী পার্টি বনাম বিজেপি’র মধ্যে। আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপি ১৪০-এর নীচে নেমে যাবে, সরকার গঠন তো অনেক দূরের কথা। রাজনীতি যদি কিছুটা হলেও বুঝি সেই অনুযায়ী ১৫০ আসন অতিক্রম করবেই না, কোনভাবেই করবে না, করার মতো জায়গাতেই নেই’ বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: