ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
নীল নদে নৌকাবিহারে বেলি-ডান্সিং, স্কুল চাকরি খেল, শিক্ষিকাকে ডিভোর্স স্বামীর!
Reporter Name

নীল নদে নৌকাবিহারে বেলি-ডান্সিং, স্কুল চাকরি খেল, শিক্ষিকাকে ডিভোর্স স্বামীর!

 মিশরে (egypt) ফারাওদের সময় থেকেই বেলি-ডান্সিংয়ের (belli-dancing) চল  রয়েছে, কিন্তু তা বলে জনসমক্ষে  কোনও মহিলা (woman)নাচবেন, সেটা হবে না। সমাজপতিরা রে রে করে উঠবেন, ঠিক যেমনটি হয়েছে আয়া ইউসুফ নামে শিক্ষিকার (teacher) বেলায়। তাঁর নীল নদে (nile) নৌকোয় পুরুষ, মহিলা সহকর্মীদের সামনেই বেলি-ডান্সিংয়ের ভিডিও সোস্য়াল মিডিয়ায়  ভাইরাল হওয়ার পর যথারীতি নিন্দার ঢল নেমেছে। স্বামী ভিডিওটি দেখেই  আয়াকে ডিভোর্স (divorce) দিয়েছেন। দেশব্যাপী বিতর্ক চলছে আয়ার আচরণ নিয়ে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদল আয়া কোনও অন্যায়ই করেননি বলে দাবি করছেন তো আরেক অংশ প্রশ্ন তুলছে তাঁর ‘মূল্যবোধ’ নিয়ে।

সম্প্রতি আয়া সহকর্মীদের সঙ্গে নীল নদে নৌকাবিহারে গিয়েছিলেন। সেখানেই বেলি  ডান্সিং  করেন। সহকর্মীদের কেউ সেটি ভিডিও করেন। তবে তিনি তাঁর অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করেন বলে দাবি আয়ার। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নৌকায় মিউজিক  বাজছে। মাথঢাকা ফেট্টি, লম্বা ঝুল পোশাকে নাচছেন তিনি। সামনে পুরুষ সহকর্মীরাও বসে।

এর পরিণতি যে এতদূর গড়াবে, কী করে বুঝবেন আয়া? তাঁর মুখ থেকেই বেরিয়ে এসেছে কথাগুলি, নীলের ওপর নৌকায় দশটা মিনিট আমার জীবনটাকে শেষ করে দিল! চাকরি থেকে বহিষ্কার (dismissal ) (service) , ডিভোর্সের পর আর বাঁচবেন না বলেও নাকি ভেবেছিলেন আয়া।

রক্ষণশীলরা (conservatives) ভিডিওটা খুশি মনে গ্রহণ করেনি, উল্টে আয়ার সমালোচনা করেছে চাঁচাছোলা ভাষায়।  এক ট্যুইটার ব্যবহারকারী লিখেছন, আমরা যে খারাপ সময়ের মধ্যে রয়েছি, সেটাই পরিষ্কার। চাইলে যা খুশি করা যায়! শিক্ষার মান এত নীচে নেমেছে মিশরে! লেখেন আরেকজন।

বিবিসি প্রতিবেদনে প্রকাশ, আয়া তাদের বলেছেন, তিনি কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বা ছাত্রছাত্রীদের সামনে নাচানাচি করেননি!

নীল বদ্বীপ এলাকার একটি স্কুলে আরবি পড়াতেন তিনি।

মিশরের নারী অধিকার আন্দোলনকর্মীরা চাকরি হারানো আয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন, তিনি নীতি পুলিশগিরি ও ডাইনি খুঁজে বের করার অভিযানের শিকার! অনেক মহিলা আবার আয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে নিজেদের নাচের ভিডিও পাঠিয়েছেন। বিবিসির খবর, মিশরের সেন্টার ফর উইমেন রাইটস এর প্রধান ডঃ নিহাদ আবু কামসান তাঁকে একটি চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি আগের স্কুলের চাকরি সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রকের নথিপত্র নিয়ে আসতে বলেছেন যাতে চাকরি চলে যাওয়ার ব্যাপারে পাল্টা আইনি পদক্ষেপ করা যায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আয়াকে নতুন স্কুলে নিয়োগ করেছে, তারা হয়তো সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখবে।

তবে আয়া পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া নাচের ছবির ভিডিও তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাঁর গোপনীয়তার অধিকার ভাঙা হয়েছে। তিনি এজন্য দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছেন।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২২/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: