ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
চিনে একজনের করোনা হলেই বাকিদের বাসে চাপিয়ে কোয়ারান্টিনে, থাকতে হচ্ছে মেটাল বক্সে 
Reporter Name

চিনে একজনের করোনা হলেই বাকিদের বাসে চাপিয়ে কোয়ারান্টিনে, থাকতে হচ্ছে মেটাল বক্সে 

 চিনে (china) আজ এই প্রদেশে, তাে কাল অন্য কোথাও আচমকা ছড়াচ্ছে কোভিড ১৯ (covid 19)সংক্রমণ। ওমিক্রন (omicron) ভ্যারিয়েন্টের দাপট শুরু হয়েছে শি জিনপিংয়ের (xi) দেশেও। নানা সংবাদ মাধ্য়ম  সূত্রের খবর, এতে ভুগতে হচ্ছে চিনা জনগণকেই (people)। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় দানবীয় কলাকৌশল (draconian law) নিচ্ছে চিন।  একনায়কতন্ত্রী কমিউনিস্ট পার্টি সরকার একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের অন্ততঃ২১ দিন কোয়ারান্টিনে  ক্ষুদ্রাকার মেটাল বাক্সের (tiny metal box) মধ্যে থাকতে বাধ্য করছে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

দি ডেইলি মেল-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কোনও এলাকায় মাত্র একজনের  করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লেই সঙ্গে  সঙ্গে বাকি বাসিন্দাদের বাসে চাপিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অজানা, অচেনা এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট বাক্সের খোপের মতো ঘরে যেখানে  কোনওমতে একটা বিছানা, জলের বোতল, অপরিসর শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চিন এমন দেশ, এমনই লৌহকঠিন, বজ্রশাসনের আয়োজন যে না বলার উপায় নেই। আপনি সরকারি ফতোয়া মানতে বাধ্য।
একাধিক ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে যাতে আবাসিক এলাকায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশো বাস। সেখানেই কোয়ারান্টিনে আছেন লোকজন। সর্বশেষ বেরনো একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে কোনওক্রমে একটি ছোট ধাতব বাক্সে ঢুকে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির শুরুতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন  লোক একটি ছোট ঘর দেখাচ্ছে। ঘরে একটা ছোট বিছানা, জলের বোতল ছাড়া কিছু নেই।  

দেখা যাচ্ছে, একটি অপ্রশস্ত ওয়াশরুম। এমন নৈরাজ্যের পরিস্থিতি যে, ওখানে খাবার দাবারের আয়োজন সামান্যই। বরফের মতো ঠান্ডা মেটাল বাক্সগুলিতে আঁটসাটো হয়ে থাকতে হচ্ছে। কোনও আগাম নোটিস না দিয়েই নতুন বছরের শুরুতেই তাদের বাসে চাপতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনই একজনকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বলেছ, এখানে ন্যূনতম পরিষেবাটুকু ছাড়া আর কিচ্ছু নেই। কেউ আমাদের খবর নিতেও আসেনি। এ কী ধরনের কোয়ারান্টিন? ওরা আমাদের এতজনকে রাতের অন্ধকারে সরিয়েছে । হাজারের বেশি লোকজনকে, যাদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ, বাচ্চা। ওরা কোনও ব্যবস্থাই করেনি, শুধু আমাদের ফেলে দিয়ে চলে গেল!

সম্প্রতি ইউঝাওয়ের স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় মাত্র তিনটি উপসর্গহীন কোভিড ১৯ সংক্রমণের খবর মিলতেই কঠোর লকডাউন চালু  করে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যা, ১৪০০ বর্গকিমি এলাকাজুড়ে। মিডিয়া রিপোর্টে বেরয়, মাত্র ২ জন বাসিন্দা কোভিড ২ পজিটিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাবধানতামূলক ব্যবস্থা ঘোষিত হয়। আরেকটি ঘটনায় কোভিড ১৯ বিধি ভাঙায়  বাইসে এলাকার জিংসির প্রকাশ্য রাস্তায় চারজনকে প্যারেড করানো হয়। গ্লোবাল টাইমস এর খবর, চারজনই বেআইনি মানুষ পাচার, কোভিড ১৯ নিয়মবিধি লঙ্ঘনে যুক্ত। ওদের প্যারেড  করানোর সময় অন্ততঃ ৮ পুলিশ অফিসার সঙ্গে ছিলেন।খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২২/একে

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: