ঢাকা, বুধবার, জুলাই ২৪, ২০২৪ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
Logo
logo

১৬ ফুট মাটির নিচ থেকে ভেক্যুসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার


এনবিএস ওয়েবডেস্ক     প্রকাশিত:  ০২ জুন, ২০২২, ০৭:০৬ পিএম

১৬ ফুট মাটির নিচ থেকে ভেক্যুসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদী খাঁন এলাকায় নিখোঁজ হওয়া ভিকটিম অনুপ বাউল (৩৪) হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। ভেক্যুর মালিক রিপন মন্ডল (৩২) তার ভিকটিম অনুপ বাউল কে হত্যা করে রিপনের নিজস্ব  ভেক্যু দিয়েই ভিকটিমের লাশ বালির নিচে পুঁতে রাখে। তার দেখানো মতে ঐ ভেক্যু দিয়ে খনন করে ভিকটিমের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিপন মন্ডল (৩২) পিতাঃ গৌরাঙ্গা মন্ডল, গ্রাম-জয়েনপুর থানা-কেরানীগঞ্জ, পিযুষ  করাতি (২৫), পিতাঃ বিমল করাতি, গ্রাম-জয়েনপুর থানা-কেরানীগঞ্জ ও নয়ন মন্ডল (২৬), পিতাঃ নগেন মন্ডল, গ্রাম-জয়েনপুর থানা-কেরানীগঞ্জ ’দের কে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এলাকার জয়েনপুর গ্রামের নিজনিজ বাড়ি থেকে ০১ জুন ২০২২ তারিখ রাতে গ্রেফতার করা হয়। একই তারিখ রাতে দিলীপ চন্দ্র রায় (৩৪) পিতাঃ অমল চন্দ্র রায়, গ্রাম-ভার্কুতা থানা-সাভার কে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

স্বর্ণ ব্যবসায়ী ভিকটিম অনুপ বাউল (৩৪) পিতা মৃত-কানাই বাউল মাতা- জগত তারা বাউল, গ্রাম- পাইনা ভৈরমনগর থানা-দক্ষিন কেরানীগঞ্জ, জেলা ঢাকা মুন্সিগঞ্জের সিরাজদি খান এলাকায় তার শ্বশুর বাড়ী থেকে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায় আর ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজি করে ভিকটিমকে না পেয়ে তার ছোট ভাই বিপ্লব বাউল গত ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ইং তারিখ সিরাজদী খাঁন থানায় জিডি করেন, জিডি নং-১৯৬ তারিখ-০৫ জানুয়ারি ২০২০। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সিরাজদি খান থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব,ডিবি পুলিশ এবং পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা তদন্ত শুরু করে। পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা জিডি তদন্ত করতে গিয়ে ভিকটিমের ছোট ভাই বিপ্লব বাউলকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করার পরামর্শ প্রদান করে। সে মতে বিপ্লব বাউল বাদী হয়ে ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিঃ তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে মামলা নং-০৪ তারিখ-০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিঃ, ধারা-৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড। থানা পুলিশ কৃর্তক মামলাটি প্রায় ৩ মাস তদন্ত হওয়ার পর রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে ২১ এপ্রিল ২০২২ খ্রিঃ তারিখে পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার পায়। 

মুন্সিগঞ্জ জেলা পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জিডি তদন্ত করতে গিয়ে একটি মামলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তার পরামর্শে বিপ্লব বাউল বাদী হয়ে গত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি প্রায় ০৩ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে পারে নাই।  গত ২১ এপ্রিল ২০২২ ইং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে মামলাটির তদন্ত ভার পায় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) মোঃ সালে ইমরান এর উপর। তিনি প্রথমে রিপন এবং ড্রামে করে লাশ বহনকারী অটো চালক অধির দ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ ভাজন হিসাবে রিপনকে চিহিৃত করেন। তারপর অনেকটা নিশ্চিত হয়ে উক্ত আসামী রিপন, পিযুষ, নয়ন ও দিলীপ দের গ্রেফতার করেন। তাদের দেওয়া তথ্য মতে এবং রিপনের সনাক্ত মতে লাশ গুমের স্থান চিহিৃত করা হয়। তারপর গত ০১ জুন ২০২২ ইং তারিখে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) বোয়ালখালী সিরাজদী খাঁন এলাকায় রিপন তার নিজস্ব ভেক্যু চালিয়ে ১৬ ফিট গভীর বালির নিচ থেকে ভিকটিমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। 

আসামীদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম অনুপ বাউল (৩৪) এর স্বর্ণ ব্যবসার পাটনার নয়ন মন্ডল। তাদের দুইজনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়ন মন্ডল স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে খুনের পরিকল্পনা করে। নয়ন তার চাচাতো ভাই রিপন,পিযুষ ও দিলীপ দের সাহায্য নিয়ে অনুপ বাউলকে হত্যা করে।  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিঃ তারিখে সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় নয়ন মন্ডল অনুপ বাউলকে পাওনা  টাকা দেয়া এবং মাদারীপুরে স্বর্ণের অর্ডার পৌছে দেয়ার কথা বলে জয়েনপুরে ডেকে নিয়ে আসে। জয়েনপুরে রিপনের মন্ডল এর গ্যারেজে আগে থেকে অপেক্ষমান রিপন মন্ডল,পিযুষ ও দিলীপ দের সাথে নয়ন ও ভিকটিম অনুপ বাউল একত্রিত হয় এবং তাদের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে ভিকটিমের সাথে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ৪ জন মিলে গ্যারেজের খাটের মধ্যে ফেলে কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারা লাশ একটি ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে বিকাল ৩ টার দিকে অধিরের অটোতে করে আসামীরা লাশ ভর্তি ড্রামটি মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদী খান থানার বোয়ালখালীস্থ বিসিক এলাকায় বালুর মাঠের কাছে নিয়ে যায়। ড্রাম রেখে অটো চালক চলে গেলে আসামীরা ড্রামটিকে বালুর মাঠের ভিতরে নিয়ে যায়। তারপর কাঁদাযুক্ত একটি স্থানে লাশ পুঁতে ফেলে আসামীরা চলে যায়। তারপর নয়ন তার প্রতিবেশী পিংকুর বাসায় গিয়ে গোসল করে।  যেহেতু ভিকটিম নয়ন কে নিয়ে মাদারীপুর যাওয়ার কথা ছিল, তাই ভিকটিমের লোকজন নয়নকে ভিকটিমের বিষয়ে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। নয়ন তার সাথে ভিকটিমের সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বিকার করে এবং ভিকটিমের খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। বিভিন্ন সংস্থা তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে নাই। 

আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।