ঢাকা, বুধবার, জুলাই ২৪, ২০২৪ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
Logo
logo

জাজিরায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খুন!


মোঃ আবুল হোসেন সরদার   প্রকাশিত:  ০৮ জুন, ২০২২, ০৩:০৬ পিএম

জাজিরায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খুন!

জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বিএম মোজাম্মেল উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুর রহমান (সাইফুল) মালত (৪৭) কে প্রতিপক্ষের লোকেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত জাজিরা থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওসি বলছেন অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা নেয়া হবে।  এ ঘটনায় পুলিশ ১ জনকে আটক করেছে। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, জেলার জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের  উত্তর খোশাল সিকদার কান্দি গ্রামের মৃত হাজী পুনাই  মালতের ছেলে জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীূগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বিএম মোজাম্মেল হক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুর রহমান (সাইফুল) মালত (৪৭)সঙ্গীয় হিরু সেক কে সাথে নিয়ে  মঙ্গলবার রাত অনুমান সোয়া ৯-৫৪ মিঃ জাজিরা বাজার থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে জাজিরা বাজারের উত্তর পাশে নদীর উপর ব্রীজ পার হয়ে নিচে নামার সময় পিছন থেকে কতিপয় সন্ত্রাসী হিরু সেকে গতিরোধ করে এলাপাথারি মারপিট শুরু করে। এ সময়  সাইফুল পিছনে চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা সাইফুলের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় সাইফুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাচাও বাচাও বলে আত্মচিৎকার করে। আশে পাশের লোকজন ভয়ে কেউ দরজা খুলেনি। পরে নিহত সাইফুলের ভাবী তাহমিনা আক্তার এসে আহত সাইফুলকে উদ্ধার করে পাশের বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে যায়। পরে লোকজনের সহায়তায় প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ফাকে হিরু সেক ধস্তাধস্তি করে পরনের কাপড় খুলে নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। সাইফুলকে হাসপাতালে নেয়ার পর  রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। ঢাকায় নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে  মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ দিকে সন্ত্রাসীরা সাইফুলকে কুপিয়ে আহত করার পর তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে কুপিয়ে তছনছ করে এবং সাইফুলে দুই কন্যা সন্তানদেরকে খুন করার জন্য খুজতে থাকে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাইফুল সমর্থক মালেক মোল্যা ও হিরু সেকের বাড়িতে গিয়ে ঘরে আগন ধরিয়ে দেয়। এতে মালেক মোল্যার তিনটি ঘর পুড়ে যায়।  

এ দিকে সাইফুল নিহতের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সাইফুল সমর্থকরা প্রতিপক্ষ শাহিন সিকদারদের বাড়ি ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে শাহিন সিকদারের ভাবী পুতুল দাবী করেন। সাইফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে ১ বছর পূর্বে ১০/১২ বছরের একটি ছেলেকে মারপিট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাবুল মাদবর ও ওেসলিম মাদবর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হয়। এ ঘটনায় সাইফুল মালত বাবুল মাদবর সমর্থক ছিলেন।এ ঘটনার জেরধরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।  গত এক বছরে সাইফুলকে অন্তত তিনবার খুন করার জন্য প্রতিপক্ষেরে লোকেরা বের দেয়।ঘটনার তিনদিন পূর্বে ও নৌকা দিয়ে ডপার হওয়ার সময় তাকে বের দেয়। সংবাদ লেখা পর্যন্ত জাজিরা থানায় কোন মামলা  হয়নি।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সুজন ফকিরকে গ্রেফতার করেছে।বিকেলে লাশ বাড়ি আনার পরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।এ দিকে শাহিন সিকদার ও সেলিম মাদর গংরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

নিহত সাইফুলের স্ত্রী শামিমা আকতার মিতু বলেন, আমিার স্বামী বাবুল মাদবর সমর্থক ছিলেন। তাকে মারার জন্য সেলিম মাদবর সমর্থক ও তার আত্মীয় শাহিন সিকদার  রাসেল মাদবর, সুমন বেপারী  সেলিম মাদর গংরা  গত এক বছরে কমপক্ষে ৩/৪ বার বের দেয়। তিন দিন পূর্বে ও নৌকা দিয়ে পার হওয়ার সময় তাকে বের দেয়।এরাই আমার স্বামীকে খুন করেছে। আমি এর বিচার চাই। 

শাহিন সিকদারের ভাবী পুতুল বলেন, ঘটনার সময় শাহিন তার শশুর বাড়িতে ছিল। রাত অনুমান ১টায় বাবুল মাদবর সমর্থক লোকজন লাঠিসোটা ও রামদা ছেনদা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ টাকা সোনার গহেনা কাপড়চোপড় সহ মালামাল নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে একজন খুন হয়েছে। তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো এ ব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।