এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১১ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়—এ লক্ষ্য সামনে রেখে ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটি আজ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানপত্র প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সভাপতি ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য-সচিব, সাবেক সচিব ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল আলম।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে আসছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে তারা এবারের জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিশেষ সুপারিশমালা তৈরি করেছে।
অবস্থানপত্রে ড. মো. শরিফুল আলম স্পষ্টভাবে বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—টানা তিনটি নির্বাচন জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই এখন জনগণ একটি সত্যিকারের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায়। প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; আর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ সততা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য।
অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা অগ্রাধিকার সুপারিশ
১. সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন
স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে অনলাইন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। খরচ হবে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা, যা কমিটির মতে অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। সময়ের স্বল্পতা মাথায় রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে ডিপিএম পদ্ধতিতে দ্রুত কেনাকাটা সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নির্বাচন শেষে এসব ক্যামেরা স্কুল ও ভবিষ্যতের নির্বাচনেও ব্যবহার করা যাবে।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডিক্যাম বাধ্যতামূলক করা
প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা অন্তত দুই সদস্যের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকতে হবে—যাতে জবাবদিহি, তদারকি ও নিরাপত্তা সঠিকভাবে নিশ্চিত হয়।
৩. মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারিভিত্তিক বদলি
ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির প্রস্তাব এসেছে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে। নির্বাচন শেষে ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় বদলির কথা বলা হয়েছে। যারা দায়িত্বে দক্ষতা দেখাবেন, তাদের পুরস্কারস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন এবং ব্যর্থদের শাস্তির সুপারিশও করা হয়েছে।
৪. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান
তফসিল ঘোষণার আগেই যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। ভোটের দিন পর্যন্ত এই অভিযান চলমান রাখার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কেউ পরিবেশ নষ্ট করতে বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করতে না পারে।
৫. নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ সততার আহ্বান
সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো প্রভাবমুক্ত থেকে সর্বোচ্চ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটি মনে করে, ২০২৪ সালের “জুলাই বিপ্লব”–এর পর গণতন্ত্রের পথে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এজন্য সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।