ঢাকা, বুধবার, মার্চ ২২, ২০২৩ | ৭ চৈত্র ১৪২৯
Logo
logo

ফের বিতর্কে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল, জুতো পায়ে ২৬/১১ শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কোশিয়ারির


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০২:১১ পিএম

ফের বিতর্কে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল, জুতো পায়ে ২৬/১১ শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কোশিয়ারির

ফের বিতর্কে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল, জুতো পায়ে ২৬/১১ শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কোশিয়ারির

ফের বিতর্কে (controversy) জড়িয়েছেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল (Maharashtra Governor) ভগৎ সিং কোশিয়ারি (Bhagat Singh Koshyari)। শনিবার ছিল ২৬/১১ অর্থাৎ ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে পাক জঙ্গিহানার বর্ষপূর্তি। এই উপলক্ষে শহিদবেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে যান রাজ্যপাল কোশিয়ারি এবং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। দেখা যায়, রাজ্যপাল জুতো পায়ে শহিদ বেদীতে ফুল দিচ্ছেন। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নিন্দায় মুখর হয় রাজ্যবাসী।

একে একে মুখ খোলে রাজনৈতিক দলগুলি। প্রদেশ কংগ্রেস কোশিয়ারির জুতো পায়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ভিডিও টুইট করে বলে, পৃথিবীর কোথাও কি কেউ এভাবে শহিদ বন্দনা করে? এটা কি ভারতীয় এবং মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে? সুর চড়ায় আরও অনেক দল।

বিতর্ক নয়া মাত্রা পায় রাজভবনের ব্যাখ্যায়। রাজ্যপালের তরফে ভুলের দায় চাপানো হয় পুলিশ এবং প্রটোকল অফিসারদের উপর। বলা হয়, উপস্থিত আধিকারিকেরা রাজ্যপালকে বলেন, এখানে জুতো খোলার দরকার নেই।

প্রশ্ন উঠেছে, শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের বিষয়ে রাজ্যপাল অন্যের পরামর্শে চলবেন কেন? এটা তো সাধারণ বোধবুদ্ধির বিষয়।

ক’দিন আগেই শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরের শিবির ও কংগ্রেস এবং এনসিপি জোটের নেতারা দাবি তোলেন, রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিকে অবলম্বে রাজ্য থেকে সরিয়ে নিতে হবে। সেই দাবিতে গলা মেলায় শিবসেনার ক্ষমতাসীন অর্থাৎ একনাথ শিণ্ডের বিধায়ক-সাংসদ-নেতা-মন্ত্রীরা। কোশিয়ারি তখন ঔরঙ্গাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে বলে বসেন, শিবাজি মহারাজ পুরনো হয়ে গিয়েছেন। মহারাষ্ট্রে আরও অনেক মণীষী আছেন। এই বলে তিনি বিআর আম্বেদকর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির নাম করেন। তাঁদের তুলনা করেন শিবাজি মহারাজের সঙ্গে। বলেন, আজ প্রাতঃস্মরণীয় এঁরাই।

ফলে মহা বিপাকে পড়ে শিবসেনার একনাথ শিণ্ডে শিবির ও বিজেপির জোট সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আসরে নামতে হয় নীতিন গড়কড়িকেও। গত সপ্তাহে রাহুর গান্ধীর বিনায়ক দামোদর সাভারকারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে উদ্ধব শিবিরের অস্বস্তি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়ার জল্পনা তুঙ্গে উঠলেও সব ধামাচাপা পড়ে যায় রাজ্যপালকে রাজ্য ছাড়া করতে খোদ শাসক শিবির তৎপর হয়ে ওঠায়।

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রে ভারত জোড়ো যাত্রার ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সাভারকার সেলুলার জেল থেকে ছাড়া পেতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তিনি দেশবাসী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।

রাহুলের এই মন্তব্যে তুমুল শোরগোল পড়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। কংগ্রেস বাদে বাকি প্রায় সব প্রথম সারির দল রাহুলের বক্তব্য খণ্ডন করে।

আসলে হিন্দুত্ববাদী শিবিরের পূজনীয় সাভারকারের কার্যকর্ম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মহারাষ্ট্রে তিনি প্রাতঃস্মরণীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী। ফলে রাহুলের কথায় রে রে করে ওঠেন মহারাষ্ট্রের নেতারা।

রাজ্যপালের মন্তব্যে যেন আগুনে ঘি পড়ে মহারাষ্ট্রে। সব দল একজোট হয়ে গিয়েছে তাঁকে রাজ্যছাড়া করতে। শিবাজিকে মহারাষ্ট্রের মানুষ ভগবান জ্ঞান করেন। তাঁর সঙ্গে আম্বেদকর, গড়করির তুলনা রাজ্যপাল কেন করেছেন, কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না।

উত্তরাখণ্ডের একদা বিজেপি প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদ কোশিয়ারির এটাই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য নয়। মাস কয়েক আগে একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন, মুম্বই যে আজ দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী সেটা গুজরাতি ও তামিলদের অবদান। সেই কথাও মহারাষ্ট্রের মানুষ ভালভাবে নেয়নি।
খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে