ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪ | ১০ বৈশাখ ১৪৩১
Logo
logo

২০৫ কেজি পেঁয়াজ বেচে ৮ টাকা পেতে পাড়ি দিতে হল ৪১৫ কিমি! কোথায় ঘটল এমন ঘটনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ০৯:১১ পিএম

২০৫ কেজি পেঁয়াজ বেচে ৮ টাকা পেতে পাড়ি দিতে হল ৪১৫ কিমি! কোথায় ঘটল এমন ঘটনা

২০৫ কেজি পেঁয়াজ বেচে ৮ টাকা পেতে পাড়ি দিতে হল ৪১৫ কিমি! কোথায় ঘটল এমন ঘটনা

 নিজের গ্রামে ফসলের ঠিক মতো দাম পাওয়া যায় না। তাই বাড়ি থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দূরে বেঙ্গালুরুতে (farmer travels 415 km to Bengaluru) পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসেছিলেন এক কৃষক। কিন্তু ২০৫ কেজি পেঁয়াজের মূল্য হিসেবে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮.৩৬ টাকা (gets Rs 8.36 for 205 kg)। পেঁয়াজ বিক্রির সেই বিল নেটমাধ্যমে আপলোড করেছেন ওই কৃষক, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ আমজনতার।

জানা গেছে, পাওয়াদেপ্পা হাল্লিকেরি নামে ওই কৃষকের বাড়ি কর্নাটকের গদগে (Gadag)। সেখান থেকে ভাল দাম পাওয়ার আশায় পেঁয়াজ বিক্রি করবেন বলে বেঙ্গালুরুর যশবন্তপুর বাজারে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই একজন পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করেন তিনি। তাঁর দেওয়া বিলের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি কুইন্ট্যাল পেঁয়াজের দাম হিসেবে ২০০ টাকা দিয়েছেন তিনি। সেই মতো ২০৫ কেজি পেঁয়াজের দাম (onion price) হয় ৪১০ টাকা। কিন্তু সেখান থেকে মুটের খরচ হিসেবে ২৪ টাকা এবং পরিবহণ খরচ হিসেবে ৩৭৭.৬৪ টাকা বাদ দিয়েছেন তিনি। সব কেটেকুটে ওই কৃষককে ২০৫ কেজি পেয়াঁজের দাম হিসেবে মাত্র ৮ টাকা ৩৬ পয়সা দিয়েছেন তিনি।

এর পরেই বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ পাওয়াদেপ্পা বিলের ছবি পোস্ট করেন ইন্টারনেটে। তিনি অন্যান্য কৃষকদের কাছে আবেদন জানান, তাঁরা কেউ যেন বেঙ্গালুরুতে ফসল বিক্রি করতে না আসেন। কুইন্ট্যাল প্রতি পেঁয়াজের দাম দেখে হতবাক অন্য কৃষকরাও। তাঁরা জানিয়েছেন, দিনকয়েক আগেও ১০০ কেজি পেঁয়াজপিছু দাম পাওয়া যেত অন্তত ৫০০ টাকা। 

পাওয়াদেপ্পা জানিয়েছেন, ওই পেঁয়াজ চাষ করতে এবং বেঙ্গালুরুতে বয়ে আনতে তাঁর অন্তত ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর আগে পুনে এবং বেঙ্গালুরু থেকে কৃষকরা যশবন্তপুর বাজারে ফসল বিক্রি করতে এসেছেন। ফসলের মান ভাল হওয়ার কারণে তাঁরা ভাল দামও পেয়েছেন। কিন্তু এই বছর অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের আকার ছোট হওয়ায় গদগ এবং উত্তর কর্নাটকের কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।

সূত্রের খবর, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদের পথে হাঁটবেন বলে ঠিক করেছেন কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ফসলের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। যদি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত না জানায়, তাহলে পথে নেমে প্রতিবাদ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

খবর  দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে